সন্তান জন্ম দিলেও দুঃশ্চিন্তায় অসহায় ঝুমুর !

42

 

নিজস্ব প্রতিবেদক ঃ
ঝুমুর, বয়স (১৮)। দুই বোনের মধ্যে সে বড়। ছোট বোন ঢাকায় গৃহকর্মীর কাজ করে। শারিরিক প্রতিবন্ধি মা ও পাগল বাবাকে নিয়ে তার সংসার । ৬ মাস আগে বিয়ে হলেও গর্ভবতি দেখে তিনমাস আগে স্বামী তাকে ছেড়ে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। এক বেলা খেলে তো অন্য দুই বেলা না খেয়ে দিন কাটে তার পরিবারের । এ অবস্থায় লক্ষ্মীপুরের রায়পুর শহরের একটি হাসপাতালে সিজারের মাধ্যমে ঝুমুর জন্ম দেয় ফুটফুটে এক ছেলে সন্তান। কি খাবে সে-এসময় কোথায় পাবেন ভালো খাবার-?? এ দুঃশ্চিন্তায় হাসপাতালে শুয়ে কাঁদছেন ঝুমুর।।

কিশোরি ঝুমুর উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউপির ৬ নম্বার-ওয়ার্ড-চরকাছিয়া গ্রামের আইনল খাঁ’র মেয়ে ও সিএনজি চালক কামালের স্ত্রী।

শনিবার (১০ এপ্রিল) সন্ধায় মাতৃছায়া হাসপাতালে গেলে ঝুমুর বলেন, আমি ও আমার পাগল বাবা ও প্রতিবন্ধি মা খুব অসহায় পরিবার। এক বেলা খেলে তো অন্য বেলা খেতে পারি না। খুব কষ্টে দিন যাপন করতে হচ্ছে। ৬ মাস আগে মানুষের সাহায্য নিয়ে বাবা-মা বিয়ে দেন। কিন্তু পেটে বাচ্চা দেখে তিন মাস আগে স্বামী নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। শনিবার সকালে পেটে প্রচন্ড ব্যাথা হলে এক প্রতিবেশি সুলতানা ও মুর্শিদা নামের দুই খালা এ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালের মালিক বিনা খরচে অপারেশন করে দেয়। এতে আমি খুব খুশি। তবে চরম দুঃশ্চিন্তায় আছি-কিভাবে এ বাচ্চাকে নিয়ে আগামির দিন কাটবে। চোখে অন্ধরার প্রতিচ্ছবি।

হাসপাতালের পরিচালক আবদুর রহমান তুহিন বলেন, অন্তসত্তা কিশোরি জুমুরকে নিয়ে তার এলাকার দুইজন বৃদ্ধ নারী ৮০০ টাকা নিয়ে (সিজার করানোর জন্য) হাসপাতালে আসেন। সব খবর নিয়ে মানবিক কারনে বিনা খরচে সিজার করে দেয়া হয়েছে। এখন ঝুমুরও তার বাচ্চা দুজনেই আল্লাহর অশেষ রহমতে ভালো আছে।
ঝুমুর তার শারীরিক প্রতিবন্ধী মা ও পাগল বাবা এবং শিশু বাচ্চাকে নিয়ে বাঁচার জন্য সমাজের বিত্তবানদের কাছে সাহায্য-সহযোগিতা চেয়েছেন।

উত্তর চরবংশী ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন হাওলাদার বলেন, বিষয়টি আপনার (সাংবাদিক) মাধ্যমে জানতে পারলাম। খোঁজখবর নিয়ে মেয়েটি ও তার পরিবারকে সহযোগিতা করা হবে।।

দেশ জার্নাল /এস .এম

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here