কর্মক্ষেত্রে দায়িত্বে অবহেলা করে অন্যত্র সৎকর্ম ! ইসলাম কি বলে?

36

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

ভূমিকাঃ- দায়িত্ব পালনে গুরুত্বহীনতা,অফিসের কাজে অবহেলা,কর্তব্য পালনে ফাঁকি দেয়া বা অলসতার আশ্রয় নেয়া,ধোঁকাবাজি,প্রতারণা, দেরীতে আগমন,সময়ের পূর্বে প্রস্থান,মিথ্যা বলা দূর্নীতি,শিক্ষকের কম পড়ানো- প্রাইভেট পড়ার প্রতি উৎসাহিত বা বাধ্য করণ এবং শ্রেণিতে বসে নীজেরমত মোবাইলে কথাবলা এখন নিয়মে পরিনত হচ্ছে।প্রতিষ্ঠান, মালিক ও কর্তৃপক্ষের অবাধ্যতা বড় গুনাহ । ধর্মভীরু,সৎ, নিষ্ঠাবান ও দায়িত্বশীলরা ঠিক সময়ে অফিসে আসেন।এসব দোষ-ত্রুটি থেকে দূরে থেকে দায়িত্ব পালনে মনোযোগ দেন। কর্তৃপক্ষের আদেশ-নিষেধ আন্তরিকতার সঙ্গে মেনে নেন। সুন্দরভাবে দায়িত্ব পালন প্রতিটি মুমিনের অবশ্য কর্তব্য। নিষ্ঠা, আন্তরিকতা, দক্ষতা ও যোগ্যতা প্রয়োগ করে কাজের মান নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দিয়েছে ইসলাম। মুসলমানের দায়িত্বে অবহেলার সুযোগ নেই। প্রতিটি ব্যক্তিকে তার কর্ম, পেশা ও দায়িত্বের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হবে। বর্তমানে কর্মক্ষেত্রে কাজে অবহেলা করে এ সময় অন্যত্র ভালো ও নেক কাজে (!) ব্যস্ত থাকার প্রবণতাও পরিলক্ষিত হয়।এ প্রবন্ধে আমরা প্রথমতঃ কর্মক্ষেত্রে কাজে অবহেলা এবং দ্বিতীয়তঃ এ সময় অন্যত্র ভালো ও নেক কাজে (!) ব্যস্ত থাকার শরয়ী বিধান আলোচনা করার চেষ্টা করবো ইনশাল্লাহ!

কর্মক্ষেত্রে কাজে অবহেলা মারাত্নক কবীরা গুনাহ ! ইসলামে বিভিন্ন পর্যায়ে এর হারাম হওয়ার বিধান বর্নিত আছে। মেধা-মনন, বুদ্ধি, দক্ষতা ও কায়িক শ্রমের বিনিময়ে জীবিকা নির্বাহ করা বৈধ। দায়িত্বশীল ও কর্মক্ষমদের কাজে উৎসাহিত করেছে ইসলাম। আল্লাহ তায়ালা বলেন-
إِنَّ خَيْرَ مَنِ اسْتَأْجَرْتَ الْقَوِيُّ الْأَمِينُ

অর্থঃ-সর্বোত্তম কর্মী সেই ব্যক্তি, যে শক্তিমান ও দায়িত্বশীল।’ (সুরা কাসাস, আয়াত : ২৬)
কোনো প্রতিষ্ঠানে মাসিক বা দৈনিক (নির্দিষ্ট সময়) বেতনের বিনিময়ে চাকরিতে যোগদানের মানে সে প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুসারে মেধা ও শ্রম দিতে প্রতিশ্রুতি দেওয়া। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَوْفُوا بِالْعُقُودِ

অর্থঃ-হে ইমানদাররা, তোমরা তোমাদের চুক্তিগুলো পূর্ণ করো।’ (সুরা মায়িদা, আয়াত : ০১)
দায়িত্বশীলতা বড় আমানত যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন পবিত্র আমানত হিসেবে গণ্য। আমানত রক্ষায় ইসলাম জোর তাগিদ দিয়েছে। আল্লাহ তা’য়ালা বলেন-
إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تُؤَدُّوا الْأَمَانَاتِ إِلَى أَهْلِهَا وَإِذَا حَكَمْتُمْ بَيْنَ النَّاسِ أَنْ تَحْكُمُوا بِالْعَدْلِ إِنَّ اللَّهَ نِعِمَّا يَعِظُكُمْ بِهِ إِنَّ اللَّهَ كَانَ سَمِيعًا بَصِيرًا
অর্থঃ-নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন, তোমরা আমানতগুলো প্রাপকদের কাছে পৌঁছে দাও। আর যখন মানুষের বিচার-মীমাংসা করবে, তখন ন্যায়ভিত্তিক মীমাংসা করো। আল্লাহ তোমাদের সদুপদেশ দান করেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ শ্রবণকারী, দর্শনকারী। (সুরা নিসা, আয়াত : ৫৮)
দায়িত্ব অবশ্যই আমানত, পূর্ণাঙ্গভাবে আমানত আদায় না করা বা খেয়ানত করা মারাত্মক গুনাহ। নবী (সা.)এটাকে মুনাফিক বা বিশ্বাসঘাতকের আলামত বলেছেন। মহানবী (সা.) বলেন-
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ “‏ آيَةُ الْمُنَافِقِ ثَلاَثٌ إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ، وَإِذَا وَعَدَ أَخْلَفَ، وَإِذَا اؤْتُمِنَ خَانَ

অর্থঃ-আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, মুনাফিকের চিহ্ন তিনটিঃ ১.যখন কথা বলে মিথ্যা বলে; ২.যখন অঙ্গীকার করে ভঙ্গ করে এবং ৩. আমানত রাখা হলে খিয়ানত করে। (সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৩৩)
عَنْ أَنَسٍ قَالَ : قَلَمَّا خَطَبَنَا رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم اِلَّا قَالَ : لَا إِيْمَانَ لِمَنْ لَا أَمَانَةَ لَه وَلَا دِيْنَ لِمَنْ لَا عَهْدَ لَه

অর্থঃ- আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরূপ খুৎবাহ্ খুব কমই দিয়েছেন যাতে এ কথা বলেননি যে, যার আমানাতদারী নেই তার ঈমানও নেই এবং যার ওয়া’দা-অঙ্গীকারের মূল্য নেই তার দীনও নেই।(মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস নং ৩৫,মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ১২৪০৬))
ইসলামে আমানতের পরিধি অনেক প্রসারিত। চাকরিজীবীদের কাজের সময়টুকুও আমানত হিসেবে গণ্য। সে সময় কাজ রেখে গল্প-গুজবে মেতে ওঠা,বসেবসে মোবাইল ব্যবহার বা কাজে ফাঁকি দেওয়া খেয়ানতের শামিল।এখন খেয়ানতের বিষয়টি ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েছে। অথচ এটি কবিরা গুনাহ। এ ব্যাপারে সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি।

পরকালে দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে, দায়িত্বশীলতা ও আমানত পূর্ণাঙ্গভাবে রক্ষা করা প্রত্যেকের জন্য ফরজ। এ ক্ষেত্রে অবহেলা করলে কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে জবাবদিহি হতে হবে। কর্মীর কাছ থেকে কর্তৃপক্ষ কাজ বুঝে না পেলে পরকালে অপরাধী হিসেবে শাস্তি পেতে হবে। নবীজি (সা.) এরশাদ করেছেন,

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏”‏ كُلُّكُمْ رَاعٍ وَمَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ، فَالإِمَامُ رَاعٍ، وَهْوَ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ، وَالرَّجُلُ فِي أَهْلِهِ رَاعٍ، وَهْوَ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ، وَالْمَرْأَةُ فِي بَيْتِ زَوْجِهَا رَاعِيَةٌ وَهْىَ مَسْئُولَةٌ عَنْ رَعِيَّتِهَا، وَالْخَادِمُ فِي مَالِ سَيِّدِهِ رَاعٍ، وَهْوَ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ ‏”‏‏.‏ قَالَ فَسَمِعْتُ هَؤُلاَءِ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَحْسِبُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏”‏ وَالرَّجُلُ فِي مَالِ أَبِيهِ رَاعٍ، وَهْوَ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ، فَكُلُّكُمْ رَاعٍ، وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ

অর্থঃ-আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম- কে বলতে শুনেছেন, তোমরা প্রত্যেকেই রক্ষক। আর প্রত্যেকেই তার দায়িত্ব সম্বন্ধে জিজ্ঞাসিত হবে। নেতা (ইমাম) একজন রক্ষক, সে তার অধীনস্থদের সম্বন্ধে জিজ্ঞাসিত হবে। পুরুষ তার পরিবারের রক্ষক, সে তার পরিবারের লোকজন সম্বন্ধে জিজ্ঞাসিত হবে। স্ত্রী তার স্বামীর ঘরের রক্ষক, তাকে তার রক্ষণাবেক্ষণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে। ইবনু ‘উমার (রাঃ) বলেন, আমি এ সকলই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে শুনেছি। আমার মনে হয় তিনি এ কথাও বলেছেন, ছেলে তার পিতার সম্পত্তির রক্ষক এবং সে জিজ্ঞাসিত হবে তার রক্ষণাবেক্ষণ সম্বন্ধে। অতএব, তোমরা প্রত্যেকেই রক্ষক এবং তোমাদের প্রত্যেকেই তার অধীনস্থদের ব্যাপারে প্রশ্নের সম্মুখীন হবে। (সহিহ বুখারী, হাদিস নং ২৪০৯ )
কাজে ফাঁকিবাজ পূর্ণ মুসলিম নয়, সব ক্ষেত্রে ইসলামের সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে। নামাজ-রোজার মতোই সেগুলো মেনে চলা ফরজ। যেমন ব্যবসায়ী কখনো ধোঁকা প্রতারণার আশ্রয় নেবেন না, ভেজাল করবেন না। চাকরিজীবী সময়মতো অফিসে আসবেন, পূর্ণ নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন এবং কাজে অলসতা করবেন না। কাজে যদি নিয়মবহির্ভূত সময়ক্ষেপণ করা হয়, সেটা প্রতারণা হিসেবে গণ্য হবে। ইসলাম এসবে কখনোই সমর্থন করে না। বরং নিয়মভঙ্গের জন্য শাস্তির কথা বলে। আল্লাহ বলেন-

وَيْلٌ لِلْمُطَفِّفِينَ (1) الَّذِينَ إِذَا اكْتَالُوا عَلَى النَّاسِ يَسْتَوْفُونَ (2) وَإِذَا كَالُوهُمْ أَوْ وَزَنُوهُمْ يُخْسِرُونَ
অর্থঃ- দুর্ভোগ তাদের জন্য যারা মাপে কম দেয়, যারা লোকের কাছ থেকে মেপে নেওয়ার সময় পূর্ণমাত্রায় নেয় আর যখন তাদের জন্য মেপে অথবা ওজন করে দেয়, তখন কম দেয়।’ (সুরা মুতাফফিফিন, আয়াত : ১-৩)

ইসলামী স্কলারগণের মতে, التَّطفيف (আত্-তাতফিফ) অর্থঃ- إعطاء المرء أقل من حقه (কাউকে তার অধিকারের থেকে কম দেয়া) এখানে মাপে কম-বেশি করার অর্থ হলো পারিশ্রমিক পুরোপুরি আদায় করে নিয়ে কাজে গাফিলতি করা। কাজে ফাঁকি দিয়ে ওই সময় অন্য কাজ করা বা সময়টা অলস কাটিয়ে দেওয়া। এ ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির হুমকি দেওয়া হয়েছে। ফিকাহ বিশারদদের ভাষ্যানুযায়ী-
فالتَّطفيف ليس خاصًّا بالكيْل والوزْن والذَّرع بل هو عامٌّ يدخُل فيه كلُّ بخس، سواء كان بخسًا حسيًّا أو معنويًّا، وإعطاء المرء أقلَّ من حقِّه تطفيف.

অর্থঃ-আত-তাতফিফ(কমদেয়া)শুধুমাত্র কয়েল,ওজন ও গজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নহে।বরং তা সর্ব প্রকার কম দেয়াকে অন্তর্ভূক্ত করে। চাই সে কম দেয় বাস্তব হোক বা অর্থগত হোক। কাউকে তার অধিকারের থেকে কম দেয়া হলো “ তাতফিফ”।
বিভিন্ন হাদিসের আলোকে জানা যায়, কাজে ফাঁকি দিয়ে ব্যক্তি কখনো নিজেকে পূর্ণ মুসলমান দাবি করতে পারে না। কারণ ফাঁকির মাধ্যমে উপার্জিত সম্পদ হারাম। আর হারাম খাদ্য গ্রহণ করে কোনো ইবাদত পালন করলে আল্লাহ তা কবুল করেন না। চাকরির ক্ষেত্রে সততা,সৎ-নিষ্ঠাবান ও নির্লোভ ব্যক্তি চাকরিতে প্রতিষ্ঠানের স্বার্থকেই প্রাধান্য দেবে। কারণ প্রতিষ্ঠানের উন্নতি-অবনতি, সফলতা-ব্যর্থতা নির্ভর করে সৎ কর্মচারীর উপর। কর্মচারী সৎ না হলে প্রতিষ্ঠান সফলতা লাভ করতে পারে না। সৎ ও নিষ্ঠাবান কর্মী প্রতিষ্ঠানের জন্য সৌভাগ্যের প্রতীক। কর্মীর সঙ্গে সদাচরণ করা কর্তৃপক্ষ ও দায়িত্বশীলদের নৈতিক দায়িত্ব। অন্যদিকে কর্মীদের কর্তব্য হলো প্রতিষ্ঠানের জন্য ক্ষতিকর কোনো কাজ না করা। আখিরাতে সফলতার জন্য কাজ করা শ্রমের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ হালাল হওয়া ও এর বিনিময়ে পরকালীন সফলতার প্রতি লক্ষ রাখা জরুরি। সেবার মানসিকতা নিয়ে আন্তরিকতা ও আনন্দের সঙ্গে কাজ করলে পার্থিব-পারলৌকিক সাফল্য অর্জন সম্ভব।

রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِي اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُمَا، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَمْسٌ بِخَمْسٍ، مَا نَقَضَ قَوْمٌ الْعَهْدَ إِلا سُلِّطَ عَلَيْهِمْ عَدُوُّهُمْ. وَمَا حَكَمُوا بِغَيْرِ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ إِلا فَشَا فِيهِمُ الْفَقْرُ، وَلا ظَهَرَتْ فِيهِمُ الْفَاحِشَةُ إِلا فَشَا فِيهِمُ الْمَوْتُ. وَلا طفَّفُوا الْمِكْيَالَ إِلا مُنِعُوا النَّبَاتَ وَأُخِذُوا بِالسِّنِينَ، وَلا مَنَعُوا الزَّكَاةَ إِلا حُبِسَ عَنْهُمُ الْقَطْرُ

অর্থঃ-হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন- পাঁচটি বস্ত্ত পাঁচটি বস্ত্তর কারণে হয়ে থাকে-(১)কোন কওম চুক্তিভঙ্গ করলে আল্লাহ তাদের উপর তাদের শত্রুকে বিজয়ী করে দেন। (২) কেউ আল্লাহর নাযিলকৃত বিধানের বাইরে ফায়ছালা দিলে তাদের মধ্যে দারিদ্র্য ছড়িয়ে পড়ে। (৩) কোন সম্প্রদায়ের মধ্যে অশ্লীল কাজ বিস্তৃত হ’লে তাদের মধ্যে মৃত্যু অর্থাৎ মহামারী ছড়িয়ে পড়ে। (৪) কেউ মাপে বা ওযনে কম দিলে তাদের জন্য খাদ্যশস্যের উৎপাদন বন্ধ করে দেয়া হয় এবং দুর্ভিক্ষ তাদের গ্রাস করে। (৫) কেউ যাকাত দেয়া বন্ধ করলে তাদের থেকে বৃষ্টি বন্ধ করে দেয়া হয় ।(তাবরানী হাদীস নং ১০৮৩০)
মানুষ মানুষকে ঠকানোর জন্য যেসব পদ্ধতি ও কৌশল অবলম্বন করে থাকে তন্মধ্যে অন্যতম হলো প্রতারণা-ধোঁকা। এটি একটি জঘন্য অপরাধ। এর দ্বারা মানব সমাজে সম্প্রীতি বিনষ্ট হয়। ইসলাম ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ধোঁকা দিয়ে অর্থোপার্জন নিষিদ্ধ করেছে।হাদীসে আছে-

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، ‏.‏ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَرَّ عَلَى صُبْرَةِ طَعَامٍ فَأَدْخَلَ يَدَهُ فِيهَا فَنَالَتْ أَصَابِعُهُ بَلَلاً فَقَالَ ‏”‏ مَا هَذَا يَا صَاحِبَ الطَّعَامِ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ أَصَابَتْهُ السَّمَاءُ يَا رَسُولَ اللَّهِ ‏.‏ قَالَ ‏”‏ أَفَلاَ جَعَلْتَهُ فَوْقَ الطَّعَامِ كَىْ يَرَاهُ النَّاسُ مَنْ غَشَّ فَلَيْسَ مِنِّي ‏
অর্থঃ-আবূ হুরায়রাহ(রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম খাদ্য শস্যের একটি স্তুপের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন। তিনি স্তুপের ভেতরে হাত ঢুকিয়ে দিলেন ফলে হাতের আঙল গুলো ভিজে গেল। তিনি বললেন হে স্তুপের মালিক! এ কি ব্যাপার? লোকটি বলল, হে আল্লাহর রসূল! এতে বৃষ্টির পানি লেগেছে। তিনি বললেন, সেগুলো তুমি স্তুপের উপরে রাখলে না কেন? তাহলে লোকেরা দেখে নিতে পারতো।জেনে রাখো, যে ব্যক্তি ধোঁকাবাজি করে, আমার সাথে তার কোন সম্পর্ক নেই।(সহিহ মুসলিম, হাদিস নং-১৮৫ )

সুতরাং ধোঁকা-প্রতারণা বর্জন করা শুধু ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রেই ফরয নয়, বরং প্রত্যেক চাকুরী,কারবারে এবং শিল্পকর্মের ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য। কারণ ধোঁকাবাজি ও প্রতারণা সর্বাবস্থায় ও সর্বক্ষেত্রেই হারাম।
জবাবদিহিতা ইসলামের একটি অন্যতম মৌলিক বিষয়। রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেকেই তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। জবাবদিহিতার কারণে ইসলামের সৌন্দর্য শুধু নয় বরং তার গ্রহণযোগ্যতাও হয়েছে সবার কাছে।পবিত্র কুরআনের আয়াতে সরাসরি এ ব্যাপারে কথা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَلْتَنْظُرْ نَفْسٌ مَا قَدَّمَتْ لِغَدٍ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ
অর্থঃ-মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহ তা’আলাকে ভয় কর। প্রত্যেক ব্যক্তির উচিত, আগামী কালের জন্যে সে কি প্রেরণ করে, তা চিন্তা করা। আল্লাহ তা’আলাকে ভয় করতে থাক। তোমরা যা কর, আল্লাহ তা’আলা সে সম্পর্কে খবর রাখেন। (সূরা আল হাশর:১৮)
আমাদের সব কাজের বিবরণ আল্লাহ নিজেই সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন-
وَإِنَّ عَلَيْكُمْ لَحَافِظِينَ (10) كِرَامًا كَاتِبِينَ (11) يَعْلَمُونَ مَا تَفْعَلُونَ
অর্থঃ- অবশ্যই তোমাদের উপর তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত আছে (১০)সম্মানিত আমল লেখকবৃন্দ(১১) তারা জানে যা তোমরা কর। (সূরা ইনফিতর, ৮২: ১০-১২)।

এবং বিচারের দিন আমাদের তা পাঠ করার জন্য বলা হবে। মহান আল্লাহ বলেন-
اقْرَأْ كِتَابَكَ كَفَى بِنَفْسِكَ الْيَوْمَ عَلَيْكَ حَسِيبًا
অর্র্থঃ- পাঠ কর তুমি তোমার কিতাব।(আমলনামা) আজ তোমার হিসাব গ্রহণের জন্যে তুমিই যথেষ্ট।(সূরা ইসরা-১৪)

সেসব কাজের উপর ভিত্তি করে আমাদের পুরস্কার হিসেবে জান্নাত কিংবা শাস্তি হিসেবে জাহান্নামে দেয়া হবে। আর তাই এই দুনিয়াবি জীবনের প্রত্যেকটি কাজই গুরুত্বপূর্ণ। ভালো কিংবা মন্দ সব কাজেরই বিনিময় দেয়া হবে এই দিনে। মহান আল্লাহ বলেন-

مَنِ اهْتَدَى فَإِنَّمَا يَهْتَدِي لِنَفْسِهِ وَمَنْ ضَلَّ فَإِنَّمَا يَضِلُّ عَلَيْهَا وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى
অর্থঃ-যে কেউ সৎপথে চলে, তারা নিজের মঙ্গলের জন্যেই সৎ পথে চলে। আর যে পথভ্রষ্ট হয়, তারা নিজের অমঙ্গলের জন্যেই পথ ভ্রষ্ট হয়। কেউ অপরের বোঝা বহন করবে না। (সূরা বনী ইসরাঈল:১৫)

উপরন্তু, কোনো কিছুই; সম্পত্তি কিংবা ব্যক্তি সে দিন কারো কোনো কাজে আসবে না ব্যক্তির আমল ছাড়া আর আল্লাহর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।
يَوْمَ لَا تَمْلِكُ نَفْسٌ لِنَفْسٍ شَيْئًا وَالْأَمْرُ يَوْمَئِذٍ لِلَّهِ
অর্থঃ-যেদিন কেউ কারও কোন উপকার করতে পারবে না এবং সেদিন সব কর্তৃত্ব হবে আল্লাহর (সূরা আল ইনফিতারঃ-১৯)

উল্লেখ্য, ইসলামের দৃষ্টিতে ব্যক্তির জবাবদিহিতা দুইভাবে বিবেচিত হবে। এক. এই দুনিয়াতে তাকে জবাবদিহি করতে হবে এবং দুই. আখেরাতের বিচারের দিবসে। তাই আখেরাতের বিচারে সফলতা কিংবা ব্যর্থতাই চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে। সেখানে জান্নাতিরাই হবে চূড়ান্তভাবে সফলকাম।

আখেরাতে প্রত্যেকটি বিষয়ের সূক্ষ্মভাবে হিসাব নেয়া হলেও বিশেষ কয়েকটি বিষয়কে কুরআন ও হাদিসে উল্লেখ করে তার উপরে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। যেমন তিরমিজি শরীফে আছে-
عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ “‏ لاَ تَزُولُ قَدَمَا ابْنِ آدَمَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِنْ عِنْدِ رَبِّهِ حَتَّى يُسْأَلَ عَنْ خَمْسٍ عَنْ عُمْرِهِ فِيمَا أَفْنَاهُ وَعَنْ شَبَابِهِ فِيمَا أَبْلاَهُ وَمَالِهِ مِنْ أَيْنَ اكْتَسَبَهُ وَفِيمَ أَنْفَقَهُ وَمَاذَا عَمِلَ فِيمَا عَلِمَ
অর্থঃ-ইবনু মাসউদ(রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামত দিবসে পাঁচটি বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ হওয়ার আগপর্যন্ত আদম সন্তানের পদদ্বয় আল্লাহ্ তা’আলার নিকট হতে সরতে পারবে না। তার জীবনকাল সম্পর্কে, কিভাবে অতিবাহিত করেছে? তার যৌবনকাল সম্পর্কে, কি কাজে তা বিনাশ করেছে ; তার ধন-সম্পদ সম্পর্কে, কোথা হতে তা উপার্জন করেছে এবং তা কি কি খাতে খরচ করেছে এবং সে যত টুকু জ্ঞান অর্জন করেছিল সে মুতাবিক কি কি আমল করেছে।(জামে’ আত-তিরমিজি, হাদিস নং-২৪১৬ )

দ্বিতীয়তঃ- এ সময় অনেকের মধ্যে একটি প্রবণতা পরিলক্ষিত হচ্ছে যে, কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন না করে বা কোন প্রকার ছুটি অথবা অনুমতি না নিয়ে একই সময়ে অন্যত্র কোন ধর্মীয় কিংবা সামজিক কাজে ব্যস্ত থাকেন। মনে মনে ভাবেন এবং বলেন যে, আমিতো নেক কাজই করছি! দ্বীনের কাজেই তো আছি!এমন কাজইতো করছি যাতে আল্লাহ খুশি হবেন! তবে মনে রাখতে হবে ডাকাতি করে টাকা এনে দরিদ্রকে সাহায্য করতে আল্লাহ বলেননি । বরং মহান আল্লাহ বলেন-

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَنْفِقُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا كَسَبْتُمْ وَمِمَّا أَخْرَجْنَا لَكُمْ مِنَ الْأَرْضِ وَلَا تَيَمَّمُوا الْخَبِيثَ مِنْهُ تُنْفِقُونَ وَلَسْتُمْ بِآخِذِيهِ إِلَّا أَنْ تُغْمِضُوا فِيهِ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ حَمِيدٌ
অর্থঃ-হে ঈমানদারগণ! তোমরা স্বীয় উপার্জন থেকে এবং যা আমি তোমাদের জন্যে ভূমি থেকে উৎপন্ন করেছি, তা থেকে উৎকৃষ্ট বস্তু ব্যয় কর এবং তা থেকে নিকৃষ্ট জিনিস ব্যয় করতে মনস্থ করো না। কেননা, তা তোমরা কখনও গ্রহণ করবে না; তবে যদি তোমরা চোখ বন্ধ করে নিয়ে নাও। জেনে রেখো, আল্লাহ অভাব মুক্ত, প্রশংসিত। (সূরা আল বাক্বারাহ:২৬৭)

ابْنَ عُمَرَ قَالَ إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ “‏ لاَ تُقْبَلُ صَلاَةٌ بِغَيْرِ طُهُورٍ وَلاَ صَدَقَةٌ مِنْ غُلُولٍ
অর্থঃ- ইবনে উমার (রাঃ) বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, তাহারাত ব্যতিরেকে সলাত কবূল হয় না। খিয়ানাতের সম্পদ থেকে সদাকাহ্‌ও কবূল হয় না। (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৪২৩)
সুতরাং অন্যের হক (অধিকার) নষ্ট করে বা দায়িত্বে ফাঁকিদিয়ে দ্বীনের কাজ আল্লাহ কবুল করবেনা না।বরং গুনাহববরং গুনাহ হবে!
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবীগণকে দায়িত্ব আদায়ের খাতিরে জেহাদ থেকেও বিরত রেখছেন।
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ قَالَ رَجُلٌ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أُجَاهِدُ‏.‏ قَالَ ‏”‏ لَكَ أَبَوَانِ ‏”‏‏.‏ قَالَ نَعَمْ‏.‏ قَالَ ‏”‏ فَفِيهِمَا فَجَاهِدْ

অর্থঃ-আবদুল্লাহ ইবনু ‘আম্‌র (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে জিজ্ঞেস করল: আমি কি জিহাদে যাব? তিনি বললেনঃতোমার কি পিতা-মাতা আছে? সে বললোঃ হ্যাঁ । তিনি বললেনঃতা হলে তাদের (সেবা করার মাধ্যমে) জিহাদ কর।(বুখারী, হাদিস নং-৩০০৪,৫৯৭২ )

أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ قَالَ أَقْبَلَ رَجُلٌ إِلَى نَبِيِّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أُبَايِعُكَ عَلَى الْهِجْرَةِ وَالْجِهَادِ أَبْتَغِي الأَجْرَ مِنَ اللَّهِ ‏.‏ قَالَ ‏”‏ فَهَلْ مِنْ وَالِدَيْكَ أَحَدٌ حَىٌّ قَالَ نَعَمْ بَلْ كِلاَهُمَا ‏.‏ قَالَ ‏”‏ فَتَبْتَغِي الأَجْرَ مِنَ اللَّهِ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ نَعَمْ ‏.‏ قَالَ ‏”‏ فَارْجِعْ إِلَى وَالِدَيْكَ فَأَحْسِنْ صُحْبَتَهُمَا
অর্থঃ-আবদুল্লাহ ইবনু ‘আম্‌র ইবনুল ‘আস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম – এর দরবারে আগমন করলো। এরপর সে বলল, আমি আপনার নিকট হিজরত ও জিহাদের জন্য বাই’আত গ্রহণ করব। (এর দ্বারা) আমি আল্লাহর কাছে পুরস্কার ও বিনিময় আশা করি। তিনি বললেন, তোমার পিতা-মাতার মধ্যে কেউ জীবিত আছে কি? সে বলল, হ্যাঁ, তারা দুজনেই জীবিত। তিনি আবার বললেন, সত্যিই কি! তুমি আল্লাহর নিকট প্রতিদান আকাঙ্খা করছ? সে বলল, হ্যাঁ! তিনি বললেন, তাহলে তুমি তোমার পিতা-মাতার কাছে ফিরে যাও এবং তাদের দু’জনের সঙ্গে সদাচরণ কর। ( সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৬৪০১)

স্ত্রীর অধিকার নষ্টকরে স্বামী জেহাদেও যাবেনা ।অসুস্থ স্ত্রীর প্রতি দায়িত্ব পালনের জন্য হযরত উসমানকে (রাঃ) বদর যুদ্ধ থেকে বিরত রাখা হয়েছে। ঐতিহাসিকগণ বলেন-

لقد غاب الصحابي الجليل والخليفة الراشدي ذي النورين عثمان بن عفان رضي الله عنه عن غزوة بدر الكبرى التي حدثت في السنة الثانية للهجرة أول غزوات الاسلام الفاصلة بين الكفر والايمان لا تكاسلاً ولا خوفاً وانما بسبب انشغاله بمرض زوجته رقية رضي الله عنها بنت رسول الله التي بها المرض حال حدوث الغزوة فأمره رسول الله بالمكوث جانب زوجته ورعايتها والاهتمام بها
অর্থঃ-বিশিষ্ট সাহাবী ও খলিফাতুর রাশেদ জিন্ নুরাইন উসমান ইবনে আফ্ফান (রাঃ) দ্বিতীয় হিজরীতে অনুষ্ঠিত বিখ্যাত বদর যুদ্ধে অনুপস্থিত ছিলেন।যা ছিল ইসলামের প্রথম এবং ইমান ও কুফরের মধ্যে পার্থক্যকারী যুদ্ধ । তাঁর অনুপস্থিতির কারণ অলসতা ও ভয়ের জন্য ছিলনা । বরং অনুপস্থিত থাকার কারণ ছিল তাঁর স্ত্রী-রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কন্যা রুকাইয়ার (রাঃ) অসুস্থ্যতা। যিনি যুদ্ধকালীন সময়ে অসুস্থ্য ছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে (উসমান রাঃ.কে) স্ত্রীর পাশে থেকে তাঁর দেখা-শুনা ও গুরুত্বের সাথে সেবা-যত্ন করার জন্য আদেশ করেন।

আবার স্বামীর অধিকার নষ্টকরে স্ত্রীও নফল ইবাদত করবে না।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لاَ تَصُومُ الْمَرْأَةُ وَبَعْلُهَا شَاهِدٌ إِلاَّ بِإِذْنِهِ
অর্থঃ-আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, কোন স্ত্রী স্বামীর উপস্থিতিতে তাঁর অনুমতি ব্যতীত নফল সওম(রোজা) রাখবে না।(সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৫১৯২)

স্ত্রীর মৌলিক দায়িত্বের মধ্যে একটি হলো স্বামীর আনুগত্য করা।তাই দায়িত্বে অবহেলা করে নফল রোজা রাখা যখন নিষেধ!কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন না করে একই সময়ে অন্যত্র কোন ধর্মীয় বা সামজিক কাজে ব্যস্ত থাকা ইবাদত নহে!বরং দায়িত্বে ফাঁকি!! ইসলাম তা অনুমোদন করে না।

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ- ইসলামের ফরজে আইন,ওয়াজিব ও সুন্নাতে মুয়াক্বাদাহ কাজগুলো বাদ দেয়ার কোন সুযোগ নাই। অন্যদিকে হারাম কাজ করারও কোন সুযোগ নাই । চাকুরীর দোহাই এখানে অকেজো । প্রয়োজনে এরূপ চাকুরী বাদ দিতে হবে, নেয়া যাবেনা ।যে কাছেযে চাকুরীতে ফরজে আইন,ওয়াজিব ও সুন্নাতে মুয়াক্বাদাহ কাজগুলো করা যায়না বা হারাম কাজ করতে হয় এমন চাকুরী নেয়া জায়েজ নহে!!!

মহান আল্লাহ বলেন-

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا
অর্থঃ- হে ঈমানদারগণ!আল্লাহর নির্দেশ মান্য কর, নির্দেশ মান্য কর রাসূলের এবং তোমাদের মধ্যে যারা দায়িত্বশীল তাদের। তারপর যদি তোমরা কোন বিষয়ে বিবাদে প্রবৃত্ত হয়ে পড়, তাহলে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি প্রত্যর্পণ কর-যদি তোমরা আল্লাহ ও কেয়ামত দিবসের উপর বিশ্বাসী হয়ে থাক। আর এটাই কল্যাণকর এবং পরিণতির দিক দিয়ে উত্তম (সূরা আন নিসা:৫৯)

সহিহ বুখারীর হাদীসে আছে, রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলছেন-

لاَ طَاعَةَ فِي مَع ْصِيَةٍ إِنَّمَا الطَّاعَةُ فِي الْمَعْرُوفِ
অর্থঃ-আল্লাহ্‌র নাফরমানীর কাজে কোনরূপ আনুগত্য নেই। আনুগত্য করতে হয় কেবলমাত্র ন্যায়সঙ্গত কাজে। (সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৭২৫৭)

عَنْ عِمْرَانَ بن حُصَيْنٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم لا طَاعَةَ لِمَخْلُوقٍ فِي مَعْصِيَةِ الْخَالِقِ
অর্থঃ-ইমরান বিন হুসাইন থেকে বর্ণিতঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “স্রষ্টার অবাধ্যতা করে কোন সৃষ্টির আনুগত্য নেই। (ত্বাবারানী ১৪৭৯৫, আহমাদ ২০৬৫৩ নং)
হে আল্লাহ! সঠিক পদ্ধতিতে আমল করার তৈফিক দিন।আমীন!!

সংকলন
মোহাম্মদ আবদুল আজিজ মজুমদার
অধ্যক্ষ, হায়দরগঞ্জ তাহেরিয়া আর. এম. কামিল মাদরাসা।

দেশ জার্নাল /এস.এম

  •  
    63
    Shares
  • 63
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here