কাল চালু হচ্ছে যশোর এয়ারপোর্ট

6

দেশ জার্নাল ডেস্ক :
যশোর এয়ারপোর্ট বৃহস্পতিবার (১১ জুন) থেকে চালু করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। যাত্রীদের করোনা ঝুঁকিমুক্ত রাখার জন্য ইতিমধ্যে স্থানীয়ভাবে সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এয়ারপোর্ট টারমিনালের বাইরে স্থাপন করা হয়েছে অস্থায়ী মেডিকেল বুথ। এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষগুলোও তাদের মতো করে নিরাপত্তাসহ অন্যান্য প্রস্তুতি নিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন এয়ারপোর্ট ম্যানেজার মো. মাসুদুল হক।

বুধবার (১০ জুন) সময় সংবাদকে এসব কথা জানান তিনি।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে ২৫ মার্চ থেকে সরকার যাত্রীবাহী সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। এতে অন্য রুটগুলোর মতো যশোর-ঢাকা রুটেও যাত্রীবাহী ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুই মাসেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর গত ১ জুন ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট এবং সৈয়দপুর এয়ারপোর্ট খুলে দেয়া হয়। বাদ থাকে যশোর, রাজশাহী, কক্সবাজার ও বরিশাল। যাত্রীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবেলায় যথেষ্ট পদক্ষেপ নিতে না পারায় এ চারটি এয়ারপোর্ট চালু করা যায়নি।

গত ৬ জুন যশোরে করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংক্রান্ত জেলা কমিটির সভায় বিষয়টি উত্থাপিত হয়। ওই সভা থেকে যাত্রীদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে দরকারি পদক্ষেপ নিতে সিভিল সার্জনকে অনুরোধ করা হয়। এয়ারপোর্ট কর্তৃপক্ষ এর আগেই অবশ্য বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়কে অবহিত করে।

স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ মেডিকেল টিম দেয়ায় যশোর রুটে নিয়মিত ফ্লাইট চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

যশোর এয়ারপোর্ট ম্যানেজার মো. মাসুদুল হক জানান, বৃহস্পতিবার থেকে ফ্লাইট চলাচলের অনুমোদন পাওয়া গেছে। এর জন্য দরকারি ব্যবস্থাও নেয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে ইতিমধ্যে মেডিকেল টিম দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। মেডিকেল টিম টারমিনাল ভবনের বাইরে গ্লাস দিয়ে নির্মাণ করা একটি অস্থায়ী কক্ষে কাজ করবে। প্রায় ৫০ বর্গফুটের ওই কক্ষে থাকা মেডিকেল টিম থার্মাল স্ক্যানারের মাধ্যমে যাত্রীদের শরীরের তাপমাত্রা নির্ণয় করবে। আমাদের কাছে একটি থার্মাল স্ক্যানার আছে। এয়ারলাইন্স কোম্পানিগুলোও স্ক্যানার সরবরাহ করবে বলে জানিয়েছে। আর স্বাস্থ্য বিভাগ থেকেও জানানো হয়েছে তাদের হাতে এখন স্ক্যানার না থাকলেও তা আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

এয়ারপোর্ট ম্যানেজার জানান, এর বাইরে আরো পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে প্রতিটি ফ্লাইট উঠা-নামার পর টারমিনাল ভবন জীবাণুমুক্ত করা হবে। টারমিনাল ভবনের বাইরে সাবান দিয়ে যাত্রীদের হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ থেকে দেয়া নির্দেশনাগুলো মান্য করবে স্ব-স্ব এয়ারলাইন্সের কর্তৃপক্ষ।

যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন জানান, এয়ারপোর্টে দায়িত্ব পালনের জন্য ইতিমধ্যে মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। দুই শিফটে দুটি টিম কাজ করবে। প্রত্যেক টিমে একজন ডাক্তারের নেতৃত্বে তিনজন কর্মরত থাকবেন। অন্য দুইজনের একজন হলেন মেডিকেল অ্যাসিসট্যান্ট, অন্যজন স্বাস্থ্য সহকারী।

তিনি আরো বলেন, এয়ারপোর্টে ব্যবহারের জন্য যশোরে বাড়তি হ্যান্ড থার্মাল স্ক্যানার ছিল না। স্বাস্থ্য মহাপরিচালকের দপ্তর থেকে দুটি স্ক্যানার যশোরে পাঠানো হয়েছে। এর একটি বেনাপোল ইমিগ্রেশনে, অন্যটি এয়ারপোর্টে ব্যবহার করা হবে।

প্রসঙ্গত, বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগে সরকারি-বেসরকারি কোম্পানি মিলে যশোর-ঢাকা রুটে দিনে ১২টি করে ফ্লাইট চলাচল করতো। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একমাত্র এ এয়ারপোর্টটি ব্যবহার করে যশোর ছাড়াও খুলনা বিভাগের অন্যান্য জেলার মানুষ রাজধানীতে যাতায়াত করে থাকেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here