লক্ষ্মীপুরে স্কুল ছাত্রী ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন

71

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি :
লক্ষ্মীপুর নবম শ্রেণীর স্কুল ছাত্রী হিরা মনি (১৪) কে ধর্ষন ও হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে মানববন্ধন করা হয়েছে। শনিবার  (১৩ জুন)  সকালে ১১ টায় সদর উপজেলার হামছাদী ইউনিয়নের পালেরহাট পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রফোরাম ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন অল ইয়ুথ সোসাইটির পক্ষ উদ্যোগে সামাজিক দূর বজায় রেখে ও স্বাস্থ্য বিধি মেনে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।

হিরা মনি হত্যার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে মানববন্ধন থেকে প্রশাসনকে ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেয় বক্তারা। মানববন্ধন শুরু হওয়ার ১০ মিনিট পর পুলিশি বাধায় তা পন্ড হয়ে যায়।

এদিকে সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) ড. এ এইচ এম কামরুজ্জামান নিহত স্কুলছাত্রী হিরা মনির বাড়িতে যান। তিনি ছাত্রীর অসুস্থ মা-বাবা ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, অজ্ঞাত আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আটক যুবক আরিফ ও সুমনকে পুলিশ হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হবে। এ বিষয়ে পুলিশের ওপর আস্থা রাখতে আহবান জানান। এছাড়া মানববন্ধনের বিষয়ে আগে পুলিশকে জানানো হয়নি বলে তা পন্ড করে দেয়া হয়েছে।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের সদস্য সাখাওয়াত হোসেন আরিফ ও পালেরহাট পাবলিক হাইস্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি নাজমুল করিম টিপু ও স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থীসহ অর্ধশতাধিক গ্রামের লোক।

নিহত হিরা মনির মা ফাতেমা বেগম জানান, তার মেয়েকে স্থানীয় চম্পকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র অয়ন উত্যক্ত করতো। মেয়েকে উত্যক্ত না করতে কয়েকবার তিনি অয়নকে বুঝিয়েছেন। কিন্তু সে শুনেনি। যারা তার মেয়েকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করেছে, তাদের ফাঁসি চান তিনি।

পালেরহাট পাবলিক হাইস্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি নাজমুল করিম টিপু বলেন, পুলিশের নির্দেশে আমরা মানববন্ধন স্থগিত করেছি। ২৪ ঘন্টার মধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে আল্টিমেটাম দিয়েছি। না হয় বিক্ষোভসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে ।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ হামছাদী ইউনিয়নের পশ্চিম গোপীনাথপুর গ্রামে নবম শ্রেণির ছাত্রী হিরা মনিকে ঘরে একা পেয়ে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে দূর্বৃত্তরা। সে একই গ্রামের হারুনুর রশিদের মেয়ে। ক্যান্সারে আক্রান্ত বাবাকে নিয়ে তার মা ও ছোট দুই ভাইবোনসহ ঢাকায় হাসপাতালে ছিল। হিরামনিও শুক্রবার সকালে নানার বাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে এসেছিল ঢাকা যাওয়ার জন্য। তার আর ঢাকা যাওয়া হলো না।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here