লক্ষ্মীপুরে ইঞ্জিনিয়ারের উপর সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার হামলা

84

নিজস্ব প্রতিবেদক:

জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে আলী করিম নামে এক ইঞ্জিনিয়ারের উপর হামলা করেছে মাহবুবুর রহমান নামে সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা।

বুধবার (২৭ মে) সকালে জেলার সদর উপজেলার ভাঙ্গাখাঁ ইউনিয়নের রাধাপুর গ্রামের ইউসুফ ভূঁইয়া বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার আলী করিম ওই বাড়ির গাজী নাজমুল হকের পুত্র। সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে একটি বেসরকারী এয়ারলাইন্সে কর্মরত তিনি। অন্যদিকে অভিযুক্ত মাহবুবুর রহমান একই বাড়ির মৃত আনিসুল হক ভূঁইয়ার পুত্র।

তিনি চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। অভিযোগ রয়েছে, ইঞ্জিনিয়ার আলী করিমের উপর হামলা করে উল্টো তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশ এবং গণমাধ্যমের কাছে অভিযোগ করেছে মাহবুব। এছাড়া মাহবুবগংরা আলী করিম ও তাঁর পরিবারকে প্রতিনিয়ত একের পর এক মামলা দিয়ে হয়রানি হয়রানি করছে।

প্রতিনিয়ত হয়ারানিমূলক মামলার কারণে স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হচ্ছে অসহায় ওই পরিবারটির। আরও অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষা কর্মকর্তা তার চাকরীর দাপট দেখিয়ে প্রশাসনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভূল তথ্য দিয়ে ওই পরিবারকে হয়রানি করছে। বিভিন্নভাবে তিনি প্রভাব বিস্তার করায় নাজমুল করিমের পরিবার কোনঠাসা হয়ে পড়েছেন। নিয়োগ বাণিজ্যের গুঞ্জণ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এক সময়ের বিএনপিকর্মী মাহবুবুর রহমান লক্ষ্মীপুরের একজন বিএনপি নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্যের আর্শিবাদপুষ্ট হওয়ায় এসব অপকর্ম করে যাচ্ছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বুধবার (২৭ মে) সকালে মাহবুবুর রহমান বাড়ির একটি বিতর্কিত বাগান থেকে আম পাড়তে যান। ওই বাগানের জমি নিয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় গাজী নাজমুল করিমের পুত্ররা তাকে আম পাড়া থেকে বিরত থাকতে বলে। এতে সে ক্ষিপ্ত হয়ে নাজমুল করিমের পুত্র আলী করিমের উপর হামলা চালায়। এতে মাহবুবের ভাই শাহাদাত হোসেন এবং দুই ভাগিনা মেহেদী হাসান ও রাহাতও অংশ নেয়।

এ সময় মাহবুবুর রহমান আলী করিমের গলা চেপে ধরে। অল্পের জন্য রক্ষা পান তিনি। হামলাকারীরা তাঁর শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাত করলে ওইসব স্থানে রক্তাক্ত জখম হয়। পরে এলাকাবাসী এগিয়ে আসলে তারা পালিয়ে গিয়ে নিজেদের ঘরে আবদ্ধ করে রাখে। ‘প্রতিপক্ষ কর্তৃক অবরুদ্ধ’ থাকার সাজানো নাটক সাজিয়ে মাহবুব থানা পুলিশে খবর দেয়।

এছাড়া একটি গণমাধ্যমে ভূল তথ্য দিয়ে আলী করিমের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন করানো হয়। জানা যায়, মাহবুব নিজে সরকারী চাকরীর পর থেকে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন। কয়েক বছরে অর্ধকোটি টাকা খরচ করে এলাকায় একটি আলীশান বাড়ি ও তিন খন্ড জমি ক্রয় করেছেন। আলী করিম জানান, মাহবুব ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হামলায় তিনি আহত হয়ে সদর হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নেন এবং থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু মাহবুব সরকারী চাকরীর দাপট ও বিএনপির ওই শীর্ষ নেতার প্রভাব বিস্তার করে আমার বিরুদ্ধে থানায় উল্টো মামলা দায়ের করে।

এতে তাঁর উপর হামলার অভিযোগ আনা হয়। কিন্তু অভিযোগটি সম্পূর্ণ সাজানো। মাহবুবের শরীরের কোথাও হামলার চিহৃ নেই। হামলাকারী হয়ে উল্টো সে নিজেই ভিকটিম সেজেছে। আলী করিম অভিযোগ করে বলেন, মাহবুবুর রহমান আমার উপর আগেও বেশ কয়েকবার হামলার চেষ্টা করেছে। গত ১৫ মে রাতে সে বেপরোয়া গতিতে মোটর সাইকেল চালিয়ে আমাকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। আমি অল্পের জন্য রক্ষা পাই।

২০০৬ সালে বাড়ির একটি সীমানা বিরোধকে কেন্দ্র করে মাহবুব আমার সাথে ঝামেলা সৃষ্টি করে। এ সময় মাহবুব তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আমার উপর হামলা চালিয়ে আমার অন্ডকোষ চেপে ধরে। প্রতিহিংস্যাবসত সে তাঁর বাড়ির বারান্দা আমাদের চলাচলের রাস্তার উপর করে। এছাড়া তাঁর ব্যবহৃত শৌচাগারের ময়লা পানির লাইন আমাদের পুকুর পাড়ে স্থাপন করে। এতে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, বেপরোয়া স্বভাবের মাহবুব এলাকায় মানুষের সাথে তুচ্চ ঘটনা নিয়ে বিবোদে জড়িয়ে পড়ে। তিনি প্রভাব খাটিয়ে এলাকার মানুষকে নানা হয়রানি করে থাকেন। জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে বিভিন্ন সময় মাহবুব আমাদের বিরুদ্ধে ‘সাজানো’ মামলা করে। আমরা শুধু মামলা জবাব দিয়েই ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। এতে আমাদের ব্যাপক আর্থিক ও মানুষিক ক্ষতি হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমি আশাকরি পুলিশ সত্য ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেবে। এতে কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয় প্রশাসনের প্রতি আমার অনুরোধ রইলো।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মাহবুবুর রহমান বলেন, আমার বড় ফুফুর কাছ থেকে গত বছর আমরা জমিটি ক্রয় করেছি। কিন্তু প্রতিপক্ষ জমিটিতে আমাদেরকে দখলে যেতে বাঁধা দিচ্ছেন। ঘটনার দিন ওই জমিতে আমরা আম পাড়তে গেলে আমাদেরকে গাল-মন্দ করে। পরবর্তীতে  বহিরাগত সন্ত্রাসী দিয়ে তাঁরা আমাদের উপর হামলা চালায়। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অন্য সকল অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেন তিনি।

  •  
    78
    Shares
  • 78
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here