রায়পুরে গরু চোরকে বাঁচাতে গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে মামলা

174

সোহেল আলম ও এস.এম জাকির হোসাইন :
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার ৮নং দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের চরকাচিয়া গ্রামে রাতের আঁধারে গরু চুরি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়ে একই এলাকার আলী হোসেন প্রকাশ চোরা হোসেন (৫০) নামের এক লোক। গত বুধবার (৩ জুন) দিবাগত রাত ১টার দিকে গরু চুরি করে পালিয়ে যাওয়ার সময় গরুর মালিকের চিৎকারে ছুটে আসে গ্রামবাসী । গ্রামবাসী ধরে গনপিটুনি দিয়ে স্হানীয় ইউপি সদস্য ফারুকের হাতে তুলে দেয় । ইউপি সদস্য ফারুক ওই চোরকে চিকিৎসা করাতে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করান।

এঘটনার পরের দিন বৃহস্পতিবার (৪ জুন) গরু চোরকে বাঁচাতে চোরের ভগ্নীপতি আবদুল মান্নান তার শালাকে মারধর করার অভিযোগ এনে গরুর মালিকসহ ওই এলাকার ১৩ জনকে আসামি করে রায়পুর থানায় একটি মামলা করেন। এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, প্রকাশ চোরা অনেক আগ থেকেই গরু চোর চক্রের সাথে জড়িত । সে ওই এলাকার মৃত নুরুল ইসলাম চৌকিদারের ছেলে ।

গরুর মালিক ও মামলার বিবাদী বলেন, গত বুধবার রাত ১ টায় আমার বাড়ির কুকুর গেউ গেউ করে উঠে তখন আমি দরজা খুলে দেখি আমার গরু নিয়ে কে যেন চলে যাচ্চে। তখন আমি চিৎকার দিলে চারপাশে থেকে লোকজন এসে হোসেনকে হাতে নাতে ধরে। তার সাথে আরো দুজন ছিল। তাদেরকে ধরার চেষ্টা করলে হোসনের কাছে থাকা চুরি দিয়ে মানুষকে আগাত করতে চেষ্টা করলে এলাকাবাসী তার গায়ে হাত দেয়।

এলাকাবাসীরা সাংবাদিকদের বলেন, হোসেন আন্তঃজেলা চোর চক্রের একজন সদস্য। তার জ্বালায় এলাকাবাসী অতিষ্ট । গত ২০ বছরে এ এলাকা থেকে প্রায় ১৫০ টি গরু চুরি করেছে সে। এ পর্যন্ত গরুর অপরাধে তার নামে ৩ টি মামলাও হয়েছে । এছাড়া ৮ টি সালিসে কয়েকবার জরিমানাও দিতে হয়েছে তাকে।

পাশ্ববর্তী ৮নং ওয়ার্ডের জীবন নেছা ও স্বামী তোফায়েল আহমেদ ও মালেকা বেগম ও তার স্বামী বাচ্ছু ঢালী জানান, গত ৫ মাস আগে চোর আলী হোসেন আমাদের গরু চুরি করেছে। বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় ইউপি সদস্য নজরুল সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রশিদ মোল্লা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

এই মামলার কয়েকজন আসামি বলেন, এলাকায় গত কয়েক মাসে অন্তত ১০টি গরু চুরি হয়েছে। এতে এলাকার সাধারণ খেটে খাওয়া প্রান্তিক মানুষেরা বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এসব চুরি সংঘটিত হয়। আর চুরিকৃত সম্পদের ভাগ বাটোয়ারা তাদের মধ্যে হয়ে থাকে। যে কারণে এলাকার প্রভাবশালী ওই মহলের ইন্ধনে জনগণের হাতে আটক গরু চোরের ভগ্নীপতি আমাদের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে।

চোরের পক্ষে করা মামলার কয়েকজন বিবাদী বলেন, এলাকায় গত কয়েক মাসে অন্তত ১০টি গরু চুরি হয়ে গেছে। এতে এলাকার সাধারণ খেটে খাওয়া প্রান্তিক মানুষেরা বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এসব চুরি সংঘটিত হয়। আর চুরিকৃত সম্পদের ভাগ বাটোয়ারা তাদের মধ্যে হয়ে থাকে। যে কারণে এলাকার প্রভাবশালী ওই মহলের ইন্ধনে জনগণের হাতে আটক গরু চোরের ভগ্নীপতি আমাদের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করতে পেরেছে।

অভিযুক্ত আলী হোসেন মুঠোফোনে বলেন, আমি চুরি করি নাই, মিথ্যা অভিযোগ তুলে আমাকে আহত করা হয়েছে তাই বিচারের দাবিতে মামলা করেছি।

এদিকে আলী হোসেনের নিজ ভাগিনা দেশ জার্নাল কে জানায়, আমার মামা আগে চুরি করতো, এখন আর চুরি করে না। মামাকে ষড়যন্ত্র করে মার দেয়া হয়েছে।

৮নং ইউপি চেয়ারম্যান আবু সালেহ মোঃ মিন্টু ফরায়েজী বলেন, আলী হোসেন আন্তঃজেলা চোর চক্রের সদস্য। হোসেনের চুরিতে এলাকার মানুষের অভিযোগে আমি অতিষ্ট। এক বছর আগে রায়পুর থানায় জি আর নং ২০৩/১৮ এর সরকারি মামলায় চারটি গরুসহ চালান দিয়া হয়েছে তাকে, সেই মামলায় চার মাস কারাবরণ করে আবারও একই কাজ শুরু করে। আমি উপজেলার আইন শৃঙ্খলা মিটিংয়ে কয়েকবার গরু চোর আলী হোসেনের সম্পর্কে কথা বলেছি। উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও রায়পুর থানার ওসি এবিষয়ে অবগত আছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন বলে জানিয়েছেন।

রায়পুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ তোতা মিয়া বলেন, এ ঘটনায় হাজী মারা পাড়ি থানায় মামলা করা হয়েছে। গরু চুরির মামলাটি তদন্তের জন্য এস আই জাহাঙ্গীরকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তদন্ত করে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।

  •  
    238
    Shares
  • 238
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here