রামগঞ্জে ব্রীকফিল্ডের দেয়াল ধ্বসে আপন দুই ভাইসহ নিহত ৩: আহত ১০

117

 

সাখাওয়াত হােসেন, রামগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর,

রামগঞ্জ উপজেলার ভোলাকোট ইউনিয়নের আমির হোসেন ডিপজলের মালিকানাধীন মেসার্স মদিনা ব্রিক্সের ঝুঁকিপূর্ণ দেয়াল ধ্বসে মোঃ বেলাল হোসেন (৩০) ও ফারুক হোসে (১৮) নামের আপন দুই ভাইসহ রাকিব হোসেন নামের তিন শ্রমিক নিহত হয়েছে।
নিহত দুই ভাই জেলার কমলনগর উপজেলার চরজগবন্ধু গ্রামের আলতাফ মাঝির ছেলে। মারাত্মক আহতবস্থায় রাকিব হোসেনকে লক্ষ্মীপুর সদর হসপিটালে নিয়ে কর্ত্যব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় আরমান হোসেন ও হেলাল হোসেনসহ মারাত্মক আহত হয়েছেন আরো ১০ ইটভাটা শ্রমিক। আহতদের রামগঞ্জ ও লক্ষ্মীপুর সদর হসপিটালে প্রেরণ করা হয়েছে। আজ রবিবার বিকাল সাড়ে ৫টায় রামগঞ্জ উপজেলার ভোলাকোট ইউনিয়নের দেহলা মদিনা ব্রীক ফিল্ডের চুল্লির দেয়াল ধ্বসে এ ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে সাথে সাথে রামগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট, রামগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
শ্রমিক হেলাল হোসেন জানান, প্রতিদিনকার মতো তিনিসহ ফিল্ডের ১৫/২০জন শ্রমিক চুল্লিতে কাঁচা ইট বসাচ্ছিলেন। হটাৎ করেই চুল্লির উত্তর পাশের দেয়ালটি ধ্বসে শ্রমিকদের উপর পড়ে। এসময় অন্য শ্রমিকরা দেয়ালের নিচ থেকে চাপা পড়া কর্মরত কয়েকজন শ্রমিককে বের করতে পারলেও আমার দুই ভাই হেলাল ও ফারুককে বের করা সম্ভব হয়নি।
শাহ আলম নামের এক স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, রামগঞ্জ শহরে খবর দেয়া হলে তিনটি অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে আহতদের রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, লক্ষ্মীপুর সদর হসপিটালসহ বিভিন্ন হসপিটালে প্রেরণ করা হয়।
এদিকে মারাত্মক আহতবস্থায় লক্ষ্মীপুর সদর হসপিটালে নেয়ার পথে রাকিব হোসেন নামের আরেক শ্রমিক মারা গেছে বলে জানান, লক্ষ্মীপুর সদর হসপিটালের কর্ত্যব্যরত চিকিৎসক।
হাবিবুর মাঝি নামের এক শ্রমিক জানান, গত বছর একবার এ ধরনের দূর্ঘটনায় কয়েকজন শ্রমিক আহত হলে আমরা মালিককে জানালে তিনি উক্ত চুল্লির দেয়াল সংস্কার করেননি। উপরুন্ত আমাদের মালিক আমির হোসেন ডিপজল জানান, এখনো তো কেউ মারা যায়নি। মারা গেলে না হয় একলক্ষ টাকা করে দিয়ে দিবো।
ঘটনার পরপরই মালিক আমির হোসেন ডিপজল ও ব্রীকফিল্ড ম্যানেজার পালিয়ে যাওয়ায় তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
দূর্ঘটনার খবর পেয়ে দূর্ঘটনাস্থলে ছুটে যায় রামগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মাহাবুবুর রহমান ও রামগঞ্জ থানা পুলিশ।
রামগঞ্জ ফায়ার ষ্টেশন লিডার আবদুর রশিদ জানান, আমরা ঘটনাস্থলে এসে প্রাথমিক ধারনা করছি ধ্বসে যাওয়া দেয়ালটি ছিলো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। অনেক পুরাতন হওয়ায় দেয়ালটি কর্মরত শ্রমিকদের উপর ধ্বসে পড়ে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনসহ একদল পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, আমার তথ্য নিচ্ছি। এ ঘটনায় মালিকপক্ষের গাফিলতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

দেশ জার্নাল /এস.এম

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here