ময়মনসিংহে মাইক্রোবাস পুকুরে পড়ে নিহত-৮

9

দেশ জার্নাল ডেস্ক:

ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার ছনকান্দা এলাকায় সড়কের পাশের পুকুর থেকে মাইক্রোবাস উদ্ধার করছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

আজ সকালে মাইক্রোবাসটি ওই পুকুরে পড়ে গেলে আট যাত্রী নিহত হয়।গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ৮টায় ছেলেকে হারিয়েছেন মজিদা বেগম (৫৮)। ছেলের শোকে এখনো তাঁর বুকফাটা আর্তনাদ, আহাজারি চলছে। ছেলের মৃত্যুর মাত্র ১১ ঘণ্টার মাথায় তিনি হারালেন ভাই, ভাবি, তিন বোন, নাতনিসহ আট স্বজনকে।

আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে সাতটায় ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলায় মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুকুরে পড়লে মজিদা বেগমের আট স্বজনের মৃত্যু হয়।

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার বারমারি গ্রামের বাসিন্দা মজিদা বেগমের ছেলে আবুল হাসেমের (৩৮) জানাজায় অংশ নিতে আজ ভোরে মাইক্রোবাসে করে রওনা দিয়েছিলেন ওই স্বজনেরা।

দুর্ঘটনার পর মজিদা বেগমের বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, তিনি কেঁদেই চলেছেন। কাঁদছেন শুধু ছেলের জন্য। তখনো তিনি জানেন না তাঁর আট স্বজনের মৃত্যুর কথা। আহাজারি করে ছেলের মৃত্যুর জন্য নিজেকে দায়ী করছিলেন।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল আবুল হাসেম রাত সাড়ে আটটার দিকে মা মজিদা বেগমের জন্য বারমারি বাজারে পান কিনতে যান। এ সময় হঠাৎ তিনি সড়কে পড়ে যান। তাঁর নাক-মুখ ফেটে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক হাসেমকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসক জানান, হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে হাসেমের মৃত্যু হয়েছে।

হাসেমের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে স্বামীহারা মজিদা বেগম নিঃসন্তান হয়ে গেলেন। গত বছর স্বামী আবদুস সামাদ অসুস্থ হয়ে মারা যান। এরপর ছোট ছেলে মাত্র ১৫ বছর বয়সে মারা যান।
আবুল হাসেমের স্ত্রী নাজমা বেগম ও ১২ বছর বয়সী এক মেয়ে রয়েছে।

গ্রামবাসী সূত্রে জানা গেছে, আবুল হাসেমের মৃত্যুর খবর রাতেই ময়মনসিংহের গফরগাঁও ও ভালুকা উপজেলায় থাকা মজিদা বেগমের ভাইবোনসহ স্বজনদের জানানো হয়। হাসেমের জানাজায় অংশ নিতে আজ ভোরে ভালুকায় স্বজনেরা মিলিত হয়ে একটি মাইক্রোবাসে করে নালিতাবাড়ীর উদ্দেশে রওনা হন।

এ সময় ফুলপুরের ছনকান্দা ইউনিয়নের বাশাটি গ্রামে মাইক্রোবাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুকুরে পড়ে যায়।দুর্ঘটনায় নিহত হন মজিদা বেগমের ভাই শামছুল হক (৬৫), ভাবি রোজিনা খাতুন (৫৩), তিন বোন পারুল আক্তার (৫০), মোছা. বেগম (৩০) ও মিলুয়ারা বেগম (৫৫), মিলুয়ারা বেগমের নাতনি বুলবুলি আক্তার (৭) এবং দুই স্বজন রিপা খাতুন (৩০) ও নবী হোসেন (৩০)।

আজ সকালে বারমারি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, মজিদা বেগম পুত্রশোকে আহাজারি করছেন। তিনি দুর্ঘটনায় স্বজনদের হারানোর কথা জানেন না। তবে প্রতিবেশীরা টেলিভিশন ও অনলাইনে দুর্ঘটনার খবরটি দেখেছেন। ঘটনার আকস্মিকতায় তাঁরা হতবাক। কীভাবে মজিদা বেগমকে একসঙ্গে এত স্বজন হারানোর তথ্য দেবেন, তাঁরা সেটা ভাবছিলেন।

মারা যাওয়া হাসেমের চাচা সুলতান আহমেদ এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমরা এখনো হাসেমের মাকে তাঁর ভাইবোনসহ আটজনের নিহত হওয়ার খবরটি জানাইনি।

তিনি হাসেমের মৃত্যুর শোকই সহ্য করতে পারছেন না। এর ওপর এত স্বজন হারানোর খবর কীভাবে দেব, সেটা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।’

ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমারত হোসেন জানান, মজিদা বেগমের স্বজনদের বহনকারী ওই মাইক্রোবাসে চালকসহ ১৩ জন যাত্রী ছিলেন। পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মাইক্রোবাস থেকে আটজনের লাশ উদ্ধার করেন। মাইক্রোবাস থেকে চারজনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

তাঁদের ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। লাশগুলো উদ্ধার করার পর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

#দেশ জার্নাল ডেস্ক/কাদের।

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here