মোস্তাফিজের জাতীয় দলে ঢোকার গল্প

5

দেশ জার্নাল স্পোর্টস ডেস্ক :
কথায় বলে না, ‘আসলেন, দেখলেন এবং জয় করলেন’- তার উত্থানটাও এসেই বাজিমাত করার মত। একদম আবির্ভাবেই নিজেকে মেলে ধরেছিলেন। জানান দিয়েছিলেন, আমার মাঝে বারুদ আছে। কিন্তু মোস্তাফিজুর রহমানের মাঝে যে সত্যিই বারুদ আছে, তা প্রথম জেনেছিলেন কে?

এমন নয় যে তিনি ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ, বিপিএল বা জাতীয় লিগে বল হাতে আগুন ঝরিয়ে নির্বাচকদের নজর কেড়ে জাতীয় দলে ঢোকেন। কাটার আর স্লোয়ারের মিশেলে নিজেকে অল্পদিনেই বড় বোলারের কাতারে নিয়ে যাওয়া সাতক্ষীরার এ বাঁহাতি পেস বোলারের জাতীয় দলে সুযোগ পাবার গল্পটা রীতিমত কল্পলোকের কাহিনীর মত।

তখন তিনি স্কোয়াডেই ছিলেন না। অথচ কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে তাকে জাতীয় দলে খেলিয়েছিলেন। সেটা কীভাবে? তারও এক গল্প আছে। রোববার রাতে তামিম ইকবালের ফেসবুক লাইভে সে গল্প শুনিয়েছেন খালেদ মাহমুদ সুজন।

দেশের ক্রিকেটে নন্দিত-সমালোচিত এ ক্রিকেট ব্যক্তিত্ব তখন খেলা ছেড়ে জাতীয় দলের ম্যানেজারের ভূমিকায়। বাংলাদেশে খেলতে এসেছিল পাকিস্তান ক্রিকেট দল। সেই দলের সঙ্গে খেলার আগে হঠাৎ কোচ হাথুরুসিংহে তাকে বলে বসেন, আচ্ছা তোমাদের কোন বাঁহাতি পেসার আছে।

সে কথা বলারও কারণ ছিল। ঐবার পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি দলে হারিস সোহেল ছাড়া আর সব ব্যাটসম্যান ছিলেন ডানহাতি। এমন ব্যাটিং লাইনআপের বিপক্ষে দলে একজন বাঁহাতি পেসার খেললে ভাল হবে। সেই চিন্তা থেকেই আসলে কোচ হাথুরুসিংহে ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজনের কাছে একজন বাঁহাতি পেসার চেয়েছিলেন।

সুজন জানালেন, দুজন আছে। হাথুরু জানতে চাইলেন, তারা কে কে, কোথায় তারা? সুজন বললেন, একজন মোস্তাফিজুর রহমান আর অন্যজন হলেন আবু হায়দার রনি। রনি সুইং করাতে পারে। মোস্তাফিজের বলে জোরও আছে। আর কাটার ছুড়তে পারে দারুণ।

হাথুরুসিংহে বলে উঠলেন, কাটার ছুড়তে পারে? সত্যিই? তুমি ঠিক বলছ? দেখে বলছ? সুজন বললেন, হ্যাঁ! আমি অনূর্ধ্ব-১৯ দলের প্র্যাকটিসে দেখেছি।

সুজনকে বলা হলো, তাকে প্র্যাকটিসে নিয়ে আসো। তখন সুজন টেলিফোনে কথা বললেন মোস্তাফিজের সঙ্গে। আজকের নন্দিত ফাস্টবোলার কাটার মাস্টার তখন যুব দলের সফর শেষে সাতক্ষীরায় নিজ বাড়ীতে। কোচ হাথুরুসিংহের কথা মতো ম্যানেজার সুজনের ফোন, মোস্তাফিজ আজ রাতেই ঢাকা চলে আয়।

যে কথা সেই কাজ। মোস্তাফিজ ঢাকা এলেন, নেটে বোলিং করলেন। জহুরি যেমন হিরক দেখেই চিনে ফেলেন, দক্ষ কোচ হাথুরুসিংহেরও মোস্তাফিজকে দেখে চিন্তে কষ্ট হয়নি যে, এই ছেলের মাঝে বারুদ আছে। নেটে একবেলা দেখেই বলে দিলেন, এই ছেলে কাল খেলছে।

তারই ফলশ্রুতিতে পরদিন পাকিস্তানের বিপক্ষে অভিষেক মোস্তাফিজের। তারপরের কাহিনী সবার জানা। কিন্তু শুরুর আগের গল্পটা জানা ছিল কজনার?

পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি অভিষেক হওয়া মোস্তাফিজ দু মাসেরও কম সময় পর ভারতের সঙ্গে একই বছরের ১৮ জুন নিজের অভিষেক ওয়ানডেতেও ঝড়িয়ে উঠে আসেন শিরোনামে। বাংলাদেশ জিতেছিল ৭৯ রানের বড় ব্যবধানে। তামিম (৬০), সৌম্য (৫৪) আর সাকিবের (৫২) ফিফটিতে সাজানো ৩০৭ রানের বড় পুঁজির পর মোস্তাফিজের কাটারে ক্ষতবিক্ষত হয় ভারতীয় ব্যাটিং।

নিজের ৯.১ ওভারের স্পেলে এক মেডেনসহ ৫০ রান খরচায় রোহিত শর্মা, অজিঙ্কা রাহানে, সুরেশ রায়না, রবীন্দ্র জাদেজা আর রবিচন্দন অশ্বিনকে সাজঘরে ফিরিয়ে প্রথম ওয়ানডেতেই জয়ের নায়ক ও ম্যাচসেরা হয়ে ইতিহাসে নাম লিখান মোস্তাফিজ। খ্যাতি পেয়ে যান কাটার মাস্টার হিসেবে।

এদেশের ক্রিকেটভক্ত, সমর্থকরা হয়তো অনেক খবরই রাখেন। কিন্তু এসব মাঠের বাইরের গল্প কিন্তু অজানাই থেকে যায়। রোববার ফেসবুকে লাইভে সেই না জানা গল্পই শোনালেন খালেদ মাহমুদ সুজন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here