মঙ্গলবার , ৫ অক্টোবর ২০২১ | ২৯শে পৌষ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
  1. অনুসন্ধান
  2. অন্যান্য
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আর্ন্তজাতিক
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গণমাধ্যম
  9. জাতীয়
  10. ধর্ম
  11. নারী ও শিশু
  12. প্রবাস
  13. ফিচার
  14. বিনোদন
  15. মতামত

বিশ্ব শিক্ষক দিবস, ইসলামে শিক্ষকের মর্যাদা ও বাংলাদেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষক..

প্রতিবেদক
দেশ জার্নাল
অক্টোবর ৫, ২০২১ ১০:২৭ পূর্বাহ্ণ
Desh Journal

দেশ জার্নাল ডেক্সঃ

প্রাথমিক কথাঃ- আজ ৫ অক্টোবর/২০২১ মঙ্গলবার, বিশ্ব শিক্ষক দিবস। ১৯৯৪ সাল থেকে জাতিসংঘের অঙ্গসংস্থা ইউনেস্কোর উদ্যোগে প্রতিবছর ৫ অক্টোবর এ দিবসটি উদযাপিত হয়। এ বছরের বিশ্ব শিক্ষক দিবসের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘ভবিষ্যতের সংকট মোকাবিলায় শিক্ষকসমাজ’। যে জাতি যত শিক্ষিত সেই জাতি তত উন্নত। আর শিক্ষকরা জাতির প্রধান চালিকাশক্তি। সত্য ও সুন্দরের পথ হচ্ছে একজন আদর্শ শিক্ষকের সাধন-দর্শন। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র তথা দেশ ও জাতি তার দ্বারা উপকৃত হয়। এজন্য শিক্ষকদের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান দেখানো উচিত। কেননা আল্লাহ পাক নিজে,ফিরিস্তা জিব্রাইল (আঃ),নবী মুহাম্মদ (সা.) এবং আল্লাহর নেক বান্দাগণ যে যার স্তর ও মর্যাদার আলোকে শিক্ষক।

আল্লাহ নিজে শিক্ষা দিয়েছেনঃ-
এ মর্মে আল্লাহ তায়ালা কুরআন মাজিদে বলেছেন,
اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ (1) خَلَقَ الْإِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ (2) اقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ (3) الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِ (4) عَلَّمَ الْإِنْسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمْ (5)
অর্থঃ-“পড়, তোমার প্রতিপালকের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। যিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন একবিন্দু জমাট রক্ত থেকে। পড়, আর তোমার প্রতিপালক পরম সম্মানিত। যিনি কলমের দ্বারা শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি মানুষকে শিক্ষা দিয়েছেন, যা সে জানত না।” (সূরা আল-আলাক, আয়াত: ১-৫)

আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন,
الرَّحْمَنُ (1) عَلَّمَ الْقُرْآنَ (2) خَلَقَ الْإِنْسَانَ (3) عَلَّمَهُ الْبَيَانَ (4)
অর্থঃ- করুনাময় আল্লাহ। শিক্ষা দিয়েছেন কুরআন।সৃষ্টি করেছেন মানুষ।তাকে শিখিয়েছেন বর্ননা।(সূরা আর-রাহমান-১-৪)
জিবরাইল (আঃ) এর শিক্ষকতাঃ-
এ মর্মে আল্লাহ তায়ালা কুরআন মাজিদে বলেছেন,
عَلَّمَهُ شَدِيدُ الْقُوَى (5) ذُو مِرَّةٍ فَاسْتَوَى (6)
অর্থঃ- তাঁকে (মুহাম্মদ সা.কে)শিক্ষা দান করেন এক শক্তিশালী ফিরিস্তা(জিবরাইল) {সূরা আন-নজমঃ৪-৫)

মুহাম্মদ (সা.) এর শিক্ষকতাঃ-
এ মর্মে আল্লাহ তায়ালা কুরআন মাজিদে বলেছেন,
رَبَّنَا وَابْعَثْ فِيهِمْ رَسُولًا مِنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِكَ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَيُزَكِّيهِمْ إِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ
অর্থঃ- হে পরওয়ারদেগার! তাদের মধ্যে থেকেই তাদের নিকট একজন পয়গম্বর প্রেরণ করুণ যিনি তাদের কাছে তোমার আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করবেন, তাদেরকে কিতাব ও হেকমত শিক্ষা দিবেন। এবং তাদের পবিত্র করবেন।নিশ্চয় তুমিই পরাক্রমশালী হেকমতওয়ালা।(সূরা বাক্বারা-১২৯)
(সহিহ মুসলিম শরীফে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেনঃ-
إِنَّ اللَّهَ لَمْ يَبْعَثْنِي مُعَنِّتًا وَلاَ مُتَعَنِّتًا وَلَكِنْ بَعَثَنِي مُعَلِّمًا مُيَسِّرًا ‏”‏

অর্থঃ- আল্লাহ আমাকে কঠোরতা আরোপকারী ও অত্যাচারীরূপে নয় বরং সহজ পন্হায় শিক্ষাদানকারী হিসেবে প্রেরণ করেছেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৩৫৮২)

সুনানে ইবনে মাজাহ শরীফে আছেঃ-

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ذَاتَ يَوْمٍ مِنْ بَعْضِ حُجَرِهِ فَدَخَلَ الْمَسْجِدَ فَإِذَا هُوَ بِحَلْقَتَيْنِ إِحْدَاهُمَا يَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ وَيَدْعُونَ اللَّهَ وَالأُخْرَى يَتَعَلَّمُونَ وَيُعَلِّمُونَ فَقَالَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ كُلٌّ عَلَى خَيْرٍ هَؤُلاَءِ يَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ وَيَدْعُونَ اللَّهَ فَإِنْ شَاءَ أَعْطَاهُمْ وَإِنْ شَاءَ مَنَعَهُمْ وَهَؤُلاَءِ يَتَعَلَّمُونَ وَيُعَلِّمُونَ وَإِنَّمَا بُعِثْتُ مُعَلِّمًا ‏”‏ ‏ فَجَلَسَ مَعَهُمْ ‏

অর্থঃ- আবদুল্লাহ্‌ বিন আমর ইবনুল আস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ: একদিন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর কোন এক হুজরা থেকে বের হয়ে এসে মাসজিদে প্রবেশ করেন। তখন সেখানে দু’টি সমাবেশ চলছিল। একটি সমাবেশে লোকজন কুরআন তিলাওয়াত ও আল্লাহ্‌র যিকরে মশগুল ছিল এবং অপর সমাবেশে লোকজন শিক্ষাগ্রহণ ও শিক্ষাদানে রত ছিল। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, সকলেই কল্যাণকর তৎপরতায় রত আছে। এই সমাবেশের লোকজন কুরআন তিলাওয়াত করছে এবং আল্লাহ্‌র নিকট দুআ’ করছে। তিনি চাইলে তাদের দান করতেও পারেন আবার চাইলে নাও দিতে পারেন। অন্যদিকে এই সমাবেশের লোকেরা শিক্ষাগ্রহণ এবং শিক্ষাদানে রত আছে। আর আমি শিক্ষক হিসাবেই প্রেরিত হয়েছি। অতঃপর তিনি এদের সমাবেশে বসলেন। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ২২৯)

তিরমিযি শরীফে আছেঃ-
عَنْ أَبِي أُمَامَةَ الْبَاهِلِيِّ، قَالَ ذُكِرَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَجُلاَنِ أَحَدُهُمَا عَابِدٌ وَالآخَرُ عَالِمٌ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ فَضْلُ الْعَالِمِ عَلَى الْعَابِدِ كَفَضْلِي عَلَى أَدْنَاكُمْ ‏”‏ ‏.‏ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ إِنَّ اللَّهَ وَمَلاَئِكَتَهُ وَأَهْلَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ حَتَّى النَّمْلَةَ فِي جُحْرِهَا وَحَتَّى الْحُوتَ لَيُصَلُّونَ عَلَى مُعَلِّمِ النَّاسِ الْخَيْرَ

অর্থঃ- আবূ উমামাহ্‌ আল-বাহিলী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ: তিনি বলেন, দু’জন লোকের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আলোচনা করা হল। তাদের একজন আবিদ (সাধক) এবং অন্যজন ‘আলিম। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের সাধারণ ব্যক্তির উপর আমার যতখানি মর্যাদা, ঠিক তেমনি একজন ‘আলিমের মর্যাদা একজন ‘আবিদের উপর। তারপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌, তাঁর ফেরেশতাগণ এবং আসমান-যামীনের অধিবাসীরা, এমনকি গর্তের পিঁপড়া এবং পানির মাছ পর্যন্ত সেই ব্যক্তির জন্য দু’আ করে যে মানুষকে কল্যাণকর জ্ঞান শিক্ষা দেয়। (জামে’ আত-তিরমিজি, হাদিস নং ২৬৮৫)

সুনানে ইবনে মাজাহ তে বর্নিত আছেঃ-
حعَنْ سَهْلِ بْنِ مُعَاذِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ “‏ مَنْ عَلَّمَ عِلْمًا فَلَهُ أَجْرُ مَنْ عَمِلَ بِهِ لاَ يَنْقُصُ مِنْ أَجْرِ الْعَامِلِ ‏”‏ ‏.‏

অর্থঃ- মুআয বিন আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ: নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, যে ব্যক্তি জ্ঞানের কথা শিক্ষা দেয়, সে তদনুসারে কর্ম সম্পাদনকারীর সমান পুরস্কার পাবে, এতে কর্ম সম্পাদনকারীর পুরস্কারে কোনরূপ ঘাটতি হবে না।
(সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ২৪০)

আল্লাহর নেক বান্দাগণ (আল্লাহ ওয়ালাগন) শিক্ষকতা করেছেনঃ-
এ মর্মে আল্লাহ তায়ালা কুরআন মাজিদে বলেছেন,
وَلَـكِن كُونُواْ رَبَّانِيِّينَ بِمَا كُنتُمْ تُعَلِّمُونَ الْكِتَابَ وَبِمَا كُنتُمْ تَدْرُسُونَ
অথঃ- বরং তারা বলবে, ‘তোমরা আল্লাহওয়ালা হয়ে যাও, যেমন, তোমরা কিতাব শিখাতে এবং যেমন তোমরা নিজেরা ও পড়তে। (সূরা আলে-ইমরান-৭৯)
জ্ঞান অর্জন এবং জ্ঞান চর্চাকে ইসলাম গুরুত্ব প্রদান করেছে। ইসলাম ধর্মে জ্ঞান অর্জন করাকে ফরজ বা আবশ্যক করা হয়েছে। পবিত্র কোরান ও হাদিসে জ্ঞান অর্জন এবং জ্ঞান চর্চা করার প্রতি ব্যাপক উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে।
ইসলাম আরো বেশি গুরুত্ব প্রদান করেছে জ্ঞান বিতরণকারী শিক্ষক সমাজের ব্যাপারে। জ্ঞান অন্বেষণের গুরুত্ব ও শিক্ষকের মর্যাদা প্রসঙ্গে আল্লাহ পাক ঘোষণা করেছেন,
قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الَّذِينَ يَعْلَمُونَ وَالَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ إِنَّمَا يَتَذَكَّرُ أُولُو الْأَلْبَابِ
অথঃ- “ বলুন!যারা জানে এবং যারা জানে না তারা কি সমান হতে পারে?” (সূরা আয-যুমার, আয়াত-৯)।

উপসংহারঃ-পৃথিবীর ১৫১টি দেশে গুরুত্বের সাথে ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’ আনুষ্ঠানিকভাবে পালিত হলেও বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে উদযাপিত হয় না।এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ২৫ শতাংশ ঈদ বোনাস যুগযুগেও পরিবর্তন হয়নি। ১ হাজার টাকা বাড়ি ভাড়া ও ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা নিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীরা চরম অপমানজনক অর্থসংকটে।অথচ দেশের শিক্ষাবিস্তারে এমপিওভুক্ত শিক্ষকগণের অবদান সিংহভাগ। সরকারী-বেসরকারীতে বিস্তর ফরাক!নিশ্চয়ই অনৈতিক বৈষম্য!! আল্লাহ সহায়

দেশ জার্নাল/.এস.এম

আপনার মন্তব্য লিখুন

সর্বশেষ - আইন-আদালত

আপনার জন্য নির্বাচিত

লক্ষ্মীপুরে বিদেশগামী ৩০৯ পরিবার পেল কোয়ারেন্টাইন খরচ

হাসপাতালে অক্সিজেন সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আগুন, ইউএনও পরিদর্শন

লক্ষ্মীপুরে র‍্যাবের অভিযানে ১১ জুয়াড়ি গ্রেফতার

অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে ফুলবাড়ী সীমান্তে ৭ বাংলাদেশি আটক

রায়পুরে পরীক্ষা ছাড়াই অফিস সহকারী পদে নিজস্ব লোক নিয়োগের পায়তারা

১৪ দিনের রিমান্ডে হেলেনা জাহাঙ্গীর

হালিমা (রাঃ) মহিলা মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা আঃ সাত্তার মিয়াজী’র মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

চাঁদপুরে খাট থেকে পড়ে প্রাণ গেলো শিশুর

মুজিববর্ষে অঙ্গিকার করি, সোনার বাংলা সবুজ করি”

সরকারি চাকরিপ্রার্থীরা বয়সসীমায় ২১ মাসের ছাড় পেলেন