বাবার শোকে কাতর না হয়ে মানি ব্যাগের শোকে অস্থির ছেলে (পর্ব -১)

100

দেশ জার্নাল ডেস্ক :

রাত তখন ৮টা সবুজ বাংলাদেশ সদর সদস্য সাইফুল সুলতানের ফোন বাবু ভাই আমার এক আত্মীয়ের জামাতা সদর হসপিটালে করোনা উপসর্গ নিয়ে সন্ধ্যা ৭:৩০ মারা যায়। যাচ্ছিলাম আমি আমাদের করোনা লাশ দাফন টিমের জরুরী বৈঠকে রামগতি স্টেশন তখন।

জানতে চাইলাম বাড়ি কই ওনার বললো বাড়ি পৌর ৬নং ওয়ার্ড বিচলিত হলাম আমার বাসার এরিয়াতে গঠনা কি বলেন।
তার পরে তাকে সব রকম নিয়ম বলে দিলাম কাকে কাকে জানাবে তা।

সদর হসপিটাল সেম্পল নিতে নিতে রাত তখন ১০টা প্রায়।

এই দিকে সিভিল সার্জন করোনা পজেটিভ হয়ে আনোয়ার খান মর্ডানে ভর্তি। ইসলামী ফাউন্ডেশনের ডিডি পজেটিভ নিয়ে তার নিজ এলাকায়। কারোও সাথে যোগাযোগ সম্ভব না। একটা এম্বুলেন্স ভাড়া নিয়ে সাইফুল বহু রিকুয়েস্ট করে এম্বুলেন্স কে ৪৫০০টাকা দিয়ে পৌর ৪নং ওয়ার্ড ইটের পুল এলাকায় নিল তখন রাত ১১:০০টা বাজে। রাত অনেক হওয়াতে দাফনের কাপড় কেনা কষ্টকর হলো বহু কষ্টে তারা কাপড় কিনলো, কাপুর পেল না, আতর একটা পেল, কিছু আগর বাতি পেল। আমাদের টিম যাবে রাত ১১:৩০ সবাই রেডি হয়ে জায়গাতে গেলাম গিয়ে দেখে মৃত আনোয়ার হোসেন স্বপন (৫২)লাশকে একটা খাটে রেখে দিয়েছে রাস্তার উপরে দুরে কিছু লোক জন পাহারা দিচ্ছে।

তখনও তার কোন গোসল হয়নি। কাপড় একটা মোড়ানো। ছেলে ভয়ে দুরে আসে। বাবাকে সে খুলে শেষ দেখা দেখেনি কতজনকে সে রিকোয়েস্ট করলো তাকে খুলে দেখাতে তারা খুলে দেখালো কিন্তু সে নিজে খুলে দেখেনি বাবার কাছে আসেনিও। বলে রাখি ছেলের বয়স হবে ২৫বছর। গোসল দিতে হবে আমাদের কিন্তু কোন গরম পানি বা সাবান কিছু নেই। তাতক্ষনিক গরম পানি করতে বললো আমাদের টিমের তফসির ভাই তাদের। গরম পানি রেডি করবে কে করবে এটা নিয়ে কানা গোসা চল। যাক একজন রাজি হলো গরম পানি দিতে দিল। এবার লাশ গোসল দিবে কই কোন ব্যবস্খা না নেই আমরা সহ রাস্তার এক পাশে একটা পাটি এনে রাস্তার পাশে দিয়ে গোসলের রুম ঠিক করা হলো। তখনও রাস্তায় পড়ে আছে স্বপনের লাশ। কাপনের কাপড়ের সব রেডি করলো টিম, যা যা লাগে। এবং সাবানের পানি তৈরী সহ সব কাজ সম্পাদন শেষ অবশেষে গোসলে নিবো আমরা তার আগে নিয়ম অনুসারে আমাদের গ্রুপের একটা গ্রুপ ছবি নিবে তখনি ছেলেটা এসে বাঁধা কোন ছবি হবে না..!

অথচ এর আগে তাকে সেখানে আমরা দেখিনি। নিজের রাগ টা খানিকটা সামলিয়ে বলা হল এটা অফিসিয়াল কাজের জন্য সব কিছুতে কথা বলিও না । পৌর ছাত্র নেতা সাকিব ইসলাম আমাদের সকল কাজে পাশে থেকে লাশের স্বজনের মত সহযোগীতা করলো। তখন সে রেগে গিয়ে ছেলেটাকে সরিয়ে নিল। ছেলেটার আরোও নানা কথা মনে হচ্ছিল তারা আমাদের সেচ্ছাসেবকদের কিনে নিল আমরা তাদের কামলা। যা আচরণে প্রমাণ করে দিল।

আমি তাকে বললাম তুমি গোসল কাজে সহযোগীতা করতে হবে আসো এই কথা শোনে ছেলে কিছু সময়ের জন্য স্থান থেকে প্রস্থান কোথাই কার বাপের পোলা।

যাক যে যাই বলুক মোট কথা কাজটি আমরা সেচ্ছায় করি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কে কি বললো বা কে কি শান্তনা দিল সেটা মুখ্য বিষয় না। গোসলের কাজ শুরু। গরম পানির সট, ওটার সর্ট সেটার সর্ট। আহ কি চরম অভিঙ্গতা। গোসল শেষ যত্ন সহকারে। কাপড় পরানো হলো মোড়ানো শেষ। বাট কোন স্বজন বা ছেলে কাছে আসলো না শেষ দেখা দেখতে আহ কি মৃত্যু।

জানাজা শেষ আমরা সহ সেখানের কয়জন মিলে জানাজা শেষ তখন ১:২০সম্ভবত।
কবরে নিলাম দাফন হবে। বাট কারেন্টের লাইট জ্বালানো ছিল কবরে। বাট যখন আমরা গেলাম তখন কারেন্ট লাইট বন্ধ কার ঘরে থেকে দিল লাইন তারা লাইট বন্ধ করে দিল। লাশ নিয়ে অন্ধকারে আমরা বড় এক কবরের মাঝে। সেখানে রয়েছে একাধিক আরোও কবর। মোবাইলের লাইট দিয়ে দেখি কবরে পানি ভরা হায় উপায় কি হবে এখন। রুমি ভাই কষ্টে ভরা মনে বলে উঠলো যে স্বপন সবার ঘর আলোকিত করতো প্রতিদিন আজ তার কবরে দেওয়া লাইট বন্ধ অন্ধকার তার জন্য বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নাই। অবশেষে লাইট জ্বালানো হলো। লাশ কবরে পাশে রাখা তখনও কবরে প্রচুর পানি একটা ১৯বছরের ছেলে দোঁড়ে গিয়ে কিছু বালু আনলো জুয়েল বালি গুলো চিটিয়ে দিল। মোটামোটি চলে।

এবার লাশ খাঁটনি থেকে নামাবে বাট যে পাশে দিয়ে নামাবে সেখানে গাছ সম্ভব না। পরে কবরের তিনজন মাথা নিচু করে কবরের ভিতর বসে পড়লো আমরা উপরে তিনজন তাদের মাথার উপর দিয়ে শূর্ণ করে কবরে ওপাশ দিয়ে তাদের হাতে দিলাম লাশ কবরে রাখা হলো লাশ।

বলে রাখি কবরে নামবে কিনা জানতে চাইলা মৃত স্বপনের ছেলের কাছে অনিশ্চা দেখে না করে দিলাম না নামতে আমরাও নামাতাম না বাট তার মনের ইচ্ছা জানতে চাইলাম।
কবরে সুপারি গাছে চটি, আর কলা পাতা দিল।বাট কলা পাতা ৪-৫টা যা দিয়ে পুরোও কবর ডাকা সম্ভব না। পরে নারিকেল পাতা মাটি দিলাম।বাট মাটি দিতে স্বজনরা তেমন আসেনি।

দাফন শেষ যখন তখন রাত ২:টা বাজে। মুনাজাত হলো দাফন শেষ। সবাই ফ্রেস হচ্ছে। তখন দেখি মৃত স্বপনের ছেলে আমাদের টিমের জুয়েল কে দিয়ে কি যেন খুজতেছে যেখানে লাশ গোসল করানো হলো। সে গোসলের ব্যবহারিত পানির ভিতরে হাতি দিয়ে ছেলের কথায় কি যেন খুঁজতেছে জানতে চাইলাম আমি কি খুঁজতেছো জুয়েল বললো ভাই ওনার বাবার পকেটে নাকি মানি ব্যাগ ছিল তা খুঁজতে বললো খুঁজে দিচ্চি।

আমি বিচলিত যে ছেলে বাবার লাশ দেখেনি ভয়ে সে এখন মানি ব্যাগের খুঁজে পাগল প্রায় পৌর ছাত্র নেতা সাকিব ইসলাম আমার দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো ভাই জীবনে প্রথম এমন ছেলে দেখলাম বাবার চাইতে তার কাছে মানি ব্যাগ কত গুরুত্ব পূর্ণ।

আমি জুয়েল কে বললাম চলে আসো তার প্রয়োজনে সে খুঁজে নিবে আমরা বাসায় যাবো ৩টা বেঁজে আসলো।

ছেলেটা এবার নিজেই খুঁজতে শুরু করলো। সবাই ফ্রেস হচ্ছে আমি আগেই ফ্রেস হলাম তাই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তার কান্ড গুলো দেখলাম। ২০মিনিটরের মত খুঁজলো সে মানি ব্যাগ। গোসলের সময় প্যান্ট খোলার সময় গোসলের ব্যবহারিত পানিতে মানি ব্যাগ টি ছিকটে পড়ে যায়। যাক বহু খুঁজে বের করলো সে মানি ব্যাগ টা এবার সে শান্ত। মনের আনন্দে বাসায় চলে গেল ছেলে । ধন্যবাদ তো দূরের কথা আমাদের বিদায় পর্যন্ত দেয়নি সে। ছাত্র নেতা সাকিব শেষ পর্যন্ত থেকে একটা দোকান থেকে গরম চা রেডি করে নিয়ে আসলো চা।

চা না খেতেই বৃষ্টি শুরু রওনা দিলাম আমরা অফিসের পথে সবাই চলে আসলাম। সে যেন এক করুন অভিঙ্গতা।

লেখক-

ইসমাঈল হোসেন বাবু 
সাধারণ সম্পাদক
(সবুজ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় পরিষদ)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here