প্রাথমিক শিক্ষার সংকট নিরসনে ৩৭ হাজার মেধাবী প্রার্থীর প‍্যানেলে নিয়োগ চাই – আকলিমা আক্তার।

413

আমরা প‍্যানেল প্রত‍্যাশী-২০১৮ এর আয়োজনে- “তিন দিনে একদিন, জমা পানি ফেলে দিন”-এই স্লোগানে কিশোরগঞ্জ হতে শুরু করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এডিস মশক নিধন ও ডেঙ্গু সচেতনতা কর্মসূচি পালন করেছি।

আমাদের উদ্যোগে দেশের প্রায় সব জেলায় হতদরিদ্র শিশুদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ কর্মসূচি পালন করেছি। এমনকি করোনা মহামারীর এমন বৈরি পরিস্থতিতে অামরা ত্রান সামগ্রী বিতরণ করেছি।

করোনা মহামারীর মধ্যে প্রান্তীক পর্যায়ের কৃষক যখন মাঠের ফসল ঘরে তুলতে শ্রমিক না পেয়ে দিশেহারা। তখন বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহবানে সারা বাংলাদেশে স্বেচ্ছাশ্রমে কৃষকের ফসল কেটে ঘরে তুলে দিয়েছেন প্যানেল প্রত্যাশীরা।

৩৭ হাজার প্যানেল প্রত্যাশী সংগঠন পরিবারের অঙ্গীকার, আমরা প‍্যানেলে নিয়োগ পেলে
ভবিষ্যতে আমরা দেশের প্রয়োজনে, যে কোন সংকট ও দুর্যোগকালীন সময়ে সেবামূলক কাজ করতে সর্বদা প্রস্তুত থাকব।

প্রাথমিক শিক্ষাই জাতি গঠনের স্তম্ভ। কিন্তু আজ দেশে প্রাথমিক শিক্ষার বেহাল দশার কথা আমরা কে না জানি?? প্রাথমিক শিক্ষার বেহাল দশার জন্য অভিজ্ঞ ও শিক্ষাবিদগণ দায়ী করেছেন শিক্ষক সংকটকে।
এ সংকট ১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দ থেকে চলে আসছে। বর্তমানে ১ জন শিক্ষক দ্বারা পরিচালিত বিদ্যালয় ৭৪৯টি, ২ জন শিক্ষক দ্বারা পরিচালিত বিদ্যালয় ১ হাজার ১২৪ টি, ৩ জন শিক্ষক দ্বারা পরিচালিত বিদ্যালয় ৪ হাজার ৮ টি। এদের মধ্যে অনেকেই অফিস কাজ, ছুটি, প্রশিক্ষণে থাকেন। এমন অবস্থায় প্রাথমিকে মান সম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করা কীভাবে সম্ভব??

বর্তমান করোনা মহামারী বিপর্যয় এবং শিক্ষক সংকট দূর করে প্রাথমিকে মান সম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্যানেল নিয়োগের কোন বিকল্প দেখছিনা। তাই প্যানেল আমার যৌক্তিক দাবী।

প্যানেল চাওয়ার যৌক্তিক কারণ সমূহ :
১) প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে চরম শিক্ষক সংকট বিদ্যমান। কিছু কিছু বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটের ফলে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ক্লাস নিচ্ছেন।
২) করোনা ভাইরাসের কারণে শিক্ষা কার্যক্রম অনেকটা পিঁছিয়ে পড়েছে।
৩) করোনা পরবর্তী সময়ে শিক্ষক সংকট কাটিয়ে উঠতে প্যানেল একান্ত আবশ্যক।
৪) বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিতে শিক্ষক সংকট দূরীকরণের জন্য প্যানেলই হচ্ছে উত্তম পন্থা।
৫) নিয়োগ প্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রিতার কারণে শূন্যপদ পূরণের চেয়ে পূর্বের থেকে আরও বেশি পদ শূন্যই থেকেই যায়।
৬) এইবার প্রথম ২৪ লক্ষ পরীক্ষার্থীর মধ্য হতে আমরা ৫৫ হাজার লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি। যা পাশের হার ছিল ২.৩%, তাই আমারা অবশ্যই মেধাবী তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।
৭) ২০১৪ সালের পর দীর্ঘ ৪ বছর পর ২০১৮ সালে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়ায় বর্তমানে অনেকের বয়স শেষ। অথচ তাদের স্বপ্ন ছিল শিক্ষা ক্ষেত্রে সেবা দিবে।
৮) ২০১০,২০১২,২০১৩,২০১৪ সালে প্যানেল হয়েছে। তাই আমরাও চাই। কারণ প্যানেলের ক্ষেত্রে কোন আইনী জটিলতা নাই। শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীর অনুগ্রহ দরকার।
৯) পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত। কেউ মেধাহীন নয়। যদি ১২ হাজার নিয়োগ দেওয়া হতো তাহলে কিন্তু অতিরিক্ত ৬ হাজার প্রার্থী শিক্ষক হতে পারতো না। তারা আমাদের কাতারেই থাকতে হতো। আজ তারা শিক্ষক, আমরা বঞ্চিত!
১০) ২% পাস করা শিক্ষার্থীরা কিন্তু মেধার পরিচয় দিয়েই বাকী ৯৮% থেকে নিজেদের মেধার পরিচয় দিয়েছে।

তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নিকট সবিনয় আবেদন প্রাইমারি সহকারী শিক্ষক প্যানেল -২০১৮ গঠন করে নিয়োগ প্রদান করলে আমরা চির কৃতজ্ঞ থাকব।

আকলিমা আক্তার
প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০১৮ প্যানেল প্রত্যাশী, লক্ষ্মীপুর জেলা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here