ঘরে ডেঙ্গু বাহিরে করনা আতঙ্কে মানব জীবন

11

দেশ জার্নাল ডেস্ক

করনার পাশাপাশি ডেঙ্গু ভয়াবহতা মৃত্যুর মিছিল বয়ে আনতে পারে বলে জনমনে আতঙ্ক বয়ে বেড়াচ্ছে। এ যেন মশার কামড়ে বয়ে বেড়াচ্ছে মৃত্যু ফাঁদ। বৃষ্টি মৌসুমে কারণে ঘন ঘন বৃষ্টির পানি বিভিন্ন স্থানে জমে এডিস মশার বিস্তার বেরেই চলছে। ঘরের অঙ্গীনায় জমে থাকা বৃষ্টির পানি সহ অপরিতেক্ত স্থানের জমে থাকা  ময়লা আবর্জনা ও ম্যানহলের নোংরা পানিতে এডিস মশার ডিম্বাণু থেকে জন্ম নিচ্ছে লাখ লাখ মশা।  ঘরের বাহিরে করনা সংক্রমণে ভয় ও ঘরের ভিতরে মশার কামড়ে অতিষ্ট মানুষ।  করনা ভাইরাসের কারণে দিন দিন সংক্রমণ ও মৃত্যু বারতির দিকে সত্ত্বেও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগী  হাসপাতালে ভর্তি কমতি নেই। সরকারি তথ্যে অনুযায়ী গত বছর দুইশতের বেশি মানুষ ডেঙ্গু ও চিকোনগুনিয়া মত মহামারী রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কেরানীগঞ্জ উপজেলার প্রশাসনের পক্ষ থেকে করোনা মোকাবেলায় পাশাপাশি, ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিনামূল্যে ১২টি ইউনিয়নে চালু করা হয়েছে মশাক নিধনের স্প্রে কর্মসূচি।

করোনা মোকাবেলায় পাশাপাশি, এডিস মশার বংশবিস্তার ধ্বংস কার্যক্রমের মাধ্যমে ডেঙ্গুর প্রভাব শেষ না হওয়া পর্যন্ত চলমান থাকবে এ কর্মসূচী এমনটিই জানিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন।

ষাটঊদ্ধ বয়সের কামাল আগানগর ইউনিয়নের মালপাড়ার বাসিন্দা, দিন মজুর এর কাজ করেন। টিন শেট একটি বাড়িতে ভাড়া থাকেন। তিনি বলেন করোনার কারনে গেল দুই মাস ধরে কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘর বন্দী হয়ে পরেছি। এতে জীবন রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে, একদিকে ঘরের বাহিরে করনা সংক্রমণের ঝুঁকি অন্যদিকে মশার কামড়ে ঘরে থাকা যাচ্ছে না। খাবারের টাকাই নাই মশা মারার কয়েল অথবা স্প্রে কিনবো কোথায় থেকে। আমাদের এ মহামারী থেকে রক্ষা করুন।

আমবাগিচা এলাকার এক রিকশা চালক রিপন বলেন, এখন মশা অনেক বারছে। মশার যন্ত্রনায় ঘরে বাহিরে কোথাও বসলে পারি না। আমরা ডেঙ্গু জ্বরের ভয়ে আছি অন্যদিকে করোনার ও ভয়। দুটি সমস্যা নিয়ে আমরা মানবেতর জীবনযাপন করছি। ডেঙ্গু জ্বর, চিকনগুনিয়া ও ম্যালেরিয়া থেকে আমাদের জীবন রক্ষা করতে  সরকারের কাছে দাবি।

এ ব্যাপারে জিনজিরা ইউপি চেয়ারম্যান হাজী মো.সাকুর হোসেন সাকু বলেন,  দেশের মানুষের জীবন রক্ষায় এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া।  যা আমরা ইতিমধ্যেই শুরু করেছি এবং ডেঙ্গুর প্রভাব শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এ কার্যক্রম চলমান থাকবে।

তিনি আরো বলেন কেরাণীগঞ্জের মধ্যে জিনজিরা আগানগর ও শুভাঢ্যা অত্যন্ত জনবহুল এলাকা হওয়ায় এখানে আমাদের নানা রকম ঝুকিও মেনে নিতে হয়। তারপরও এই করোনা মহামারির মাঝে যেন আবার ডেঙ্গু কিংবা চিকুণ গুণিয়া প্রভাব বিস্তার করতে না পারে সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই আমরা আমাদের ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব অর্থায়নে ওয়ার্ড ভিত্তিক মশক নিধন কর্মসূচীর আওতায় মশার ওষুধ ছিটানোর কাজ শুরু করেছি।

একই নিয়মে আগানগর ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব অর্থায়নে পর্যায়ক্রমে প্রত্যেক ওয়ার্ডেই এভাবে মশার ওষুধ ছিটানো হবে বলে জানিয়েছেন আগানগর ইউপি চেয়ারম্যান হাজী মো.জাহাঙ্গীর শাহ খুশি।তিনি বলেন সারা দেশে করোনা মহামারির মধ্যেই বেড়ে গেছে ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার প্রকোপ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে এ বিষয়ে এখনই সজাগ থাকার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহবান জানিয়েছেন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। আমরা সে অনুযায়ি এলাকাবাসীকে সতর্ক থাকার জন্য প্রচার প্রচারনা ও প্রত্যেক ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ওষুধ ছিটানোর কাজ শুরু করেছি।

তিনি আরো বলেন, ঢাকা ৩ এর সাংসদ সদস্য নসরুল হামিদের স্বপ্ন পুরনের লক্ষে আধুনিক কেরাণীগঞ্জ গড়ার প্রত্যয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আমেদের দিক নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা সকল ধরনের সেবামূলক কাজের মাধ্যমে কেরাণীগঞ্জকে আরো এগিয়ে নিতে চাই।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত দেবনাথ বলেন, করোনা মোকাবেলায় পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে মশা নিধনের স্প্রে মেশিন দেয়া হয়েছে। এডিস মশা নিধনের আগ পর্যন্ত, ইউপি চেয়ারম্যানদের এ কার্যক্রম প্রতিনিয়তই ওয়ার্ড ভিত্তিক অব্যাহত রাখতে বলা হয়েছে। যাতে করে চিকনগুনিয়ি ও ম্যালেরিয়ার মত মহামারী  রোগের বিস্তার লাভ না করতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here