করোনা পরবর্তী বাংলাদেশ”বিধ্বস্ত অর্থনীতির পূণর্গঠনে আশীর্বাদ হতে পারে ডেসটিনি

17

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
সোস্যাল মিডিয়া গুলোতে ভাইরাল হচ্ছে বাংলাদেশের আগামী দিনের অর্থনীতি বিধ্বস্ত হওয়ার লক্ষ্মণ পরিলক্ষিত হচ্ছে। এটি সহজেই অনুমেয় যে, মহামারি করোনা ভাইরাসের ধাক্কা সামলে উঠতে না উঠতেই বাংলাদেশকে সামাল দিতে হবে আরেকটি নতুন ধাক্কা। সেটি মুখ থুবড়ে পড়া অর্থনীতির অবকাঠামোগত সংস্কারের মতো কঠিন একটি বিষয়ের ধাক্কা। তবে বিষয়টি কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। সঠিক নির্দেশনা, কর্মমূখী পরিকল্পনা এবং যুগোপযোগী কৌশল প্রয়োগে দেশের বর্তমান অর্থনীতিকে করোনা পরবর্তী এই সংকট থেকে উদ্ধার করা সম্ভব। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রকে যথেষ্ট আন্তরিক এবং উদারমনা হতে হবে।

এ দেশের অর্থনীতির প্রধান দুটি খাত হচ্ছে রেমিট্যান্স এবং তৈরী পোশাক শিল্প। খাত দুটি করোনার প্রভাবে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। করোনা প্রভাবে ইতোমধ্যে অসংখ্য প্রবাসী কর্মহীন হয়ে দেশে চলে এসেছেন, এবং আরো অনেকে কর্ম হারিয়ে দেশে ফেরত আসার ঝুঁকিতে রয়েছেন। আবার করোনার ফলে পোশাক শিল্প সংশ্লিষ্ট হাজার হাজার গার্মেন্টস কর্মী বর্তমানে কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন এবং আরো অনেকেই ছাঁটাইয়ের ঝুঁকিতেও আছেন।

অর্থাৎ, এই দুটি খাতে কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষের সংখ্যা দিনদিন আশংকাজনক হারে বেড়েই চলেছে। এমনিতেই দেশে কর্মসংস্থানের ব্যাপক সংকট, তার উপর সদ্য কর্মহীন এই বিশাল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান কোথায় হবে তা নিঃসন্দেহে উদ্বেগের বিষয়।

সুতরাং, করোনা পরবর্তী সময়ে সরকারের প্রথম কাজই হবে ব্যাপকহারে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করা। অর্থাৎ, বিশাল জনগোষ্ঠীকে হাতে কাজ দিয়ে মাঠে নামিয়ে দিতে হবে। যত বেশী পরিমাণে মানুষকে কাজে নামানো যাবে, তত দ্রুতই ঘুরবে অর্থনীতির চাকা। এক্ষেত্রে দেশের সকল শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানকে একযোগে কাজে নামিয়ে দিতে হবে।

পাশাপাশি যে ডিরেক্ট সেলিং কোম্পানীগুলো এদেশে কাজ করছে তাদেরকে নির্বিঘ্নে কাজ করার পরিবেশ তৈরী করে দিলে এর ইতিবাচক ফলাফলটা হবে কল্পনাতীত। কারণ, একটি ডিরেক্ট সেলিং কোম্পানী গতানুগতিক পণ্য বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানের তুলনায় অনেক দ্রুত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে। পণ্য বিপণনের অত্যাধুনিক ডিরেক্ট সেলিং পদ্ধতিই এর কারণ।

একটু ব্যাখ্যা করলেই বিষয়টি সহজে বোধগম্য হবে। যেমন, কোন গতানুগতিক পণ্য বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান থেকে বছরে যদি ১০ লক্ষ ক্রেতা পণ্য ক্রয় করেন’ তাহলে ঐ ১০ লক্ষ ক্রেতা সেখানে শুধু ক্রেতাই থেকে যান, কিন্তু ঐ কোম্পানীর পণ্য বিপণন করে আয়ের সুযোগ সংশ্লিষ্ট ক্রেতার থাকে না। অর্থাৎ, যত পণ্যই ক্রয় করা হোক না কেন’ ক্রেতা কখনোই নির্দিষ্ট চুক্তি ব্যতীত উক্ত কোম্পানীর ডিলারশীপ বা ডিস্ট্রিবিউটরশীপ পাবেন না।

পক্ষান্তরে কোন ডিরেক্ট সেলিং কোম্পানীতে বছরে যদি ১০ লক্ষ ক্রেতা পণ্য ক্রয় করেন, তাহলে ঐ ১০ লক্ষ ক্রেতাই পণ্য ক্রয়ের মাধ্যমে ডিস্ট্রিবিউটরশীপ প্রাপ্তির সুযোগ লাভ করেন। এখানে ডিলারশীপ বা ডিস্ট্রিবিউটরশীপ প্রাপ্তির জন্য নির্দিষ্ট কোন চুক্তির প্রয়োজন নেই, একটি পণ্য ক্রয় করাই যথেষ্ট। অর্থাৎ, পণ্য ক্রয় করার পরপরই ক্রেতা চাইলে ঐ কোম্পানীর ডিলার বা ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে পণ্য বিপণন করে নিজেও আয় করতে পারেন। সঠিকভাবে তদারকি করতে পারলে যুগান্তকারী এই ডিরেক্ট সেলিং সেক্টরে প্রতি বছর কমপক্ষে ১০ লক্ষ লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব।

করোনা উত্তর বাংলাদেশে কর্মসংস্থান ঘাটতির এই সংকট মোকাবেলায় দেশীয় ডিরেক্ট সেলিং কোম্পানী ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেড হতে পারে রাষ্ট্রের জন্য একটি আশীর্বাদ। কেননা, কোম্পানীটি ইতোমধ্যে ৪৫ লক্ষ লোকের কর্মসংস্থানের এক সুবিশাল প্লাটফর্ম তৈরী করে দেশের সর্ববৃহৎ ডিরেক্ট সেলিং কোম্পানীতে রুপ নিয়েছে। যদিও আইনি মারপ্যাঁচে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম গত আট বছর যাবৎ স্থগিত রয়েছে এবং এর শীর্ষ কর্মকর্তাগণ কারাবন্দি আছেন।

বর্তমান ভঙ্গুর অর্থনীতির পূণর্গঠনে সরকারের উচিৎ হবে এখনই ডেসটিনির সকল কার্যক্রম স্বাভাবিক করে দিয়ে ৪৫ লক্ষ লোককে কাজে নামিয়ে দেয়া। সেক্ষেত্রে দেশের সকল ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান মিলে আগামী এক বছরে যে পরিমাণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারবে? আর এ ডেসটিনি কোম্পানির পক্ষেই আগামী এক বছরে তার দ্বিগুণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব হবে, আমরা ধারনা করিতছি।

এছাড়া বিভিন্ন নিউজের মাধ্যমে জানতে পারি, ডেসটিনির বর্তমান স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির মূল্য প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা। এই বিপুল পরিমাণ সম্পদের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে আবাসন খাত, পর্যটন খাত, বিমান পরিবহন খাত সহ বিভিন্ন খাতে বিপুল পরিমাণ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেলে ডেসটিনির পক্ষে দেশীয় অর্থনীতির আরো বিভিন্ন খাতেও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব।

তাই এই মুহূর্তে সরকার ডেসটিনির সকল কার্যক্রম স্বাভাবিক করে দিলে আগামী এক বছরের মধ্যে কমপক্ষে এক কোটি কর্মহীন লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব, যা এখনকার এই দূর্যোগময় পরিস্থিতি মোকাবেলায় দারুণ এক সহায়ক ভূমিকা রাখবে নিঃসন্দেহে। দেশের অর্থনীতির এই ক্রান্তিলগ্নে রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারকগণ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবেন এটাই এখন জনগণের প্রত্যাশা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here