করোনায় মানবিক পুলিশ

3

দেশ জার্নাল ডেস্ক :

বিশ্বত্রাস করোনার এই ভয়াবহ ছোবলে যখন সারাবিশ্ব থমকে গেছে তখন দিশেহারা হয়ে গেছে মানুষের সাধারণ জীবন যাপন। এখনও পর্যন্ত কোন প্রতিষেধক আবিষ্কার না হওয়াতে এই ভাইরাস থেকে বাচার একমাত্র উপায় হচ্ছে সামাজিক দুরুত্ব নিশ্চিত করা। আর তাই নিজেকে এবং নিজের পরিবারকে রক্ষা করতে ঘরে থাকা ছাড়া আর কোন উপায় নাই।করোনার এই মহামারীতে ডাক্তাররা যেমন মানুষকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করে দেশ ও জনতার পাশে আছেন তেমনি অক্লান্ত পরিশ্রমের সাথে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ভয়কে উপেক্ষা করে সারাদেশে মানুষের সেবায় চিকিৎসকদের ন্যায়  কাজ করে যাচ্ছেন বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী।
বাংলাদেশের মানুষ সব সময় পুলিশকে হেয় প্রতিপন্ন ভাবে দেখেছে। কিন্তু সধারণ মানুষের মনে যে এটা এমনিতেই দানা বেধেছে তা কখনও না।আর এমনটা হয়েছে  সমস্ত পুলিশ বিভাগের কিছু অসাধু পুলিশ সদস্যদের জন্য। যারা পুরো পুলিশ বিভাগকে কলংকিত করেছেন।আর পুরো কলংকের ভার বহন করতে হয়েছে সমস্ত পুলিশ বিভাগকে।কিন্তু সমস্ত পুলিশ বিভাগের সদস্য যদি অসাধু বা দূর্নীতির আশ্রয় নিতো তাহলে আমাদের সমাজের বা দেশের জন্য মানবতার সেবাই বর্তমান সময়ে করোনার এই  দূর্যোগপূর্ন অবস্থাতে বাংলাদেশের পুলিশ সদস্যদের এমন মানবিক কাজে নিজেদের উৎসর্গ করে দেশ ও জনতার কখনোই পাওয়া যেতো না।
দেশের যেকোনো ক্রান্তিলগ্নে বাংলাদেশ পুলিশ দেশ ও জাতির সেবায় প্রস্তুত তা আমরা আমাদের পূর্বের ইতিহাস ঘাটলেই দেখতে পাই।দেশের প্রতিটি দুর্যোগপূর্ণ সময়ে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। আর দেশের কল্যানে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন হাসতে হাসতে। আর বর্তমান সময়েও তাদের বিন্দু মাত্র দেশপ্রেমের কমতি পাই না। তার কারণ মহামারী করোনা ভাইরাস থেকে দেশ ও জনগনকে সুরক্ষা রাখাতে তারা দিন রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।আর পূর্বের ন্যায় এখনও দেশ ও জনগনকে সুরক্ষা রাখতে নিজেদের জীবনে বলিদান দিচ্ছে।দেশে সর্বপ্রথম করোনা মৃত্যু বরণকারী পুলিশ সদস্য হলেন জসিমউদ্দিন। তিনি ওয়ারী থাকায় কর্মরত ছিলেন।গত ২৮ এপ্রিল তিনি মৃত্যু বরণ করেন।গত কয়েক দিনে দেশে করোনায় আক্রাত পুলিশ সদস্যের সংখ্যা যথাক্রমে ৮৫৪ তারপর ৯১৪ এবং আজ ২৩৯ জন আক্রান্তে করোনায় মোট পুলিশ সদস্যের  আক্রান্তের সংখ্যা ১১৫৩ এবং মোট মৃত্যু বরণ করেছেন ৫ জন। যেখানে মানুষ করোনা থেকে বাচার জন্য ঘরে থাকছে সেখানে পুলিশ বাইরে থেকে জনগণের সেবা করে যাচ্ছেন।সম্প্রতি তাদের কিছু দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হলো।
(১)পটুয়াখালীতে তিন দিন পানি খেয়ে কাটিয়েছেন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা অসহায় বৃদ্ধ সোবাহান হাওলাদার। খবর পেয়ে তার ঝুপড়ি ঘরে খাবার নিয়ে হাজির হন পটুয়াখালীর এসপি মোহম্মদ মইনুল হাসান। গত ১ এপ্রিল রাত সাড়ে ১১টার দিকে খাবার নিয়ে সোবহান হাওলাদারের বাড়িতে খাবার পৌঁছে দেন তিনি।যা বর্তমান সময়ে খুবই দুর্লভ । 
(২) রাত ৩টার দিকে যশোর শহরের বিভিন্ন বস্তিতে ঘুরে নিজ হাতে চাল, ডাল, তেল ও সাবান তুলে দিয়েছেন অসহায় মানুষদের মাঝে। একজন তিনি পুলিশ সদস্য।
(৩)গত ৬ এপ্রিল ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুর উপজেলায় গভীর রাতে বিভিন্ন গ্রামে চাল, ডাল, তেল, লবণ, সাবান, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও মাস্ক নিয়ে নিন্ম আয়ের মানুষের বাড়ি গিয়ে হাজির হন জেলা পুলিশের প্রধান পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান। সন্ধ্যা থেকে মাঝ রাত পর্যন্ত তিনি নিজে প্যাকেট ভর্তি খাবার তুলে দেন নিন্ম আয়ের মানুষের হাতে। 
(৪) যশোরে গত ৯ এপ্রিল পরিবারের সদস্যদের ক্ষুধার জ্বালা মিটাতে দিশেহারা হয়ে অঞ্জলী রায় নামে এক গৃহবধূ ফোন দেন পুলিশকে। ফোন পেয়েই ১ ঘণ্টার মধ্যে খাবার নিয়ে হাজির হন যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (‘খ’ সার্কেল) জামাল আল নাসের ও তার সহকর্মী কয়েকজন পুলিশ সদস্য। চলমান করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সরকারি নির্দেশনা মানতে ঘরবন্দি পরিবারটি অভাবগ্রস্ত হয়ে পড়ে। 
(৫)ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে মির্জাপুর উপজেলার পোষ্টকামুরী চড়পাড়া এলাকায় এক ব্যক্তি মাটিতে পড়ে ছিলেন। তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন, এমন আতঙ্কে দিনভর স্থানীয়দের কেউ তাঁর পাশে যাননি। খবর পেয়ে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে তাঁর বাড়ি কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে পাঠায়।
(৬)গত সপ্তাহে কুড়িগ্রাম জেলা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের বৃদ্ধা জিন্না বেগমের বাড়িতেও খাবারসামগ্রী নিয়ে হাজির হন জেলা পুলিশের এসপি। (৭)মৌলভীবাজারে নিজেদের রেশনের খাদ্যপণ্য গরিব অসহায়দের মাঝে বিতরণ করেছেন সেখানকার কিছু পুলিশ সদস্য।
(৮)কয়েকদিন আগে ডিএমপির গুলশান বিভাগের ডিসি সুদীপ কুমার চক্রবর্তী নিজের ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে করোনার এ পরিস্থিতিতে যারা ঘরে থেকে খাবারের কষ্টে আছেন কিন্তু লজ্জায় বলতে পারছেন না তাদের ডিসির নম্বরে ফোন করে বাসার ঠিকানা জানাতে বলেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই খানে অনেকেই সহায়তা চান এবং ডিসি সুদীপও তাদের পরিচয় গোপন রেখে প্রয়োজনমত খাদ্যসামগ্রী দিয়ে সহায়তা করেছেন।
(৯)‘আপনি ঘরে থাকুন, দোকানই যাবে আপনার ঘরে’স্লোগানকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) করোনাভাইরাসের ভয়াবহতায় বাসায় অবস্থান করা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। পুলিশের সেবা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বাসিন্দারাও। একইভাবে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কর্মকর্তা বা সদস্যরাও প্রতিদিনই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অসহায়, দরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করছেন।
(১০) নারায়ণগঞ্জের মেয়র সেলিনা হায়াত আইভীর বাড়ির পাশে গিটারিস্ট হিরো লিসানের লাশ পড়ে থাকার খবরটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। ঠাণ্ডা, জ্বর, শ্বাসকষ্টে ৭ এপ্রিল ভোররাতে হিরোর মৃত্যু হয়। ভোরেই হিরোর বাড়ি দেওভোগ কৃষ্ণচূড়া এলাকা থেকে মরদেহ একটি অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে যাওয়ার সময় এলাকাবাসীর বাধার মুখে পড়ে চালক মরদেহ ফেলে রেখে চলে যায়। এসময় পরিবারের লোকও কাছে আসেনি। পরে পুলিশ খবর পেয়ে মরদেহটিকে দাফন করেছে।
(১১)৫ মে নরসিংদীর পুলিশ সুপারের নির্দেশে গরীব কৃষকের ধান কেটে মাড়াই করে দিয়েছেন নরসিংদির পুলিশ। 
ছোট বেলা থেকেই আমরা শুনে এসেছি যে, “পুলিশ জনগণের বন্ধু ”প্রচলিত কথাটি বর্তমান সময়ে বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশের প্রত্যেক সদস্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। পুলিশ বাহিনী প্রশংসনীয় উদ্যোগ ও কর্মতৎপরতা কঠিন এই বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়া, প্রতিটি নাগরিককে সুরক্ষা দিতে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া বাঙালি জাতির জন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। যা ইতিহাসের পাতায় সরনীয় থাকবে।যার মূল্য বাঙালী শোধ করতে পারবে না।করোনা মোকাবেলায় স্বাস্থ্যকর্মীরা লড়ছেন হাসপাতালের আর বাইরে পুলিশ।বর্তমান সময়ে পুলিশ মানেই  না পুলিশ মানেই মানবতার চাদর।পুলিশ মানেই  হাতে লাঠি না পুলিশ মানেই হাতে গরীব দুখীর দু মুঠো খাবার।পুলিশ মানেই কাঁধে বন্দুক অথবা কোমরে পিস্তল না পুলিশ মানে হাতে মাইক আর মুখে ঘরে থাকার আহব্বান।পুলিশ মানেই চাঁদাবাজির অভিযোগ নয়, পুলিশ মানে নিজের রেশনের চাল ডাল অসহায় মানুষদের মাঝে বিলি করণ। পুলিশ মানেই মিথ্যে মামলায় ফাঁসানোর মাস্টার মাইন্ড না পুলিশ মানে আপনার এবং আপনার পরিবারের সতর্কীকরণ করার এক কবজ।পুলিশ মানে গোপনে পকেটে ইয়াবা গুজে দেওয়া না পুলিশ মানে হাতে জোর করে স্যানিটাইজার দিয়ে দেওয়া। পুলিশ মানে শুধু পুলিশ নয় বর্তমানে পুলিশ মানে একজন সাহসী মানবী যোদ্ধা।করোনা বদলে পুলিশের সংগা বদলে দিয়েছে আগের চিত্র।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, গণতন্ত্র ও উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশ পুলিশ অত্যন্ত দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।আসলেই তাই।উন্নয়নের যাত্রাকে অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশ পুলিশ সর্বদা সচেষ্ট।হ্যা সত্য যে পুলিশ রাস্তা ঘাটে বাজারে বাজারে সাধারণ জনতার উপর খুব অত্যাচার করেছে।যা ব্যক্তি ও সমাজের নিয়ন্ত্রণ করার জন্য।এতে পুলিশের ব্যক্তিগত কোন সার্থ নেই।সমাজের বড় বড় কল্যানের জন্য আমরা পুলিশের এমন ছোট খাট বিষয়াবলি গুলো আড়চোখে না দেখে তাদেরকে সম্মান করবো।শ্রদ্ধা করবো।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় পুলিশের অক্লান্ত পরিশ্রমে পুলিশ বাহিনীর জয় হোক।মানবতার জয় হোক।বাংলাদেশের জয় হোক।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here