রবিবার , ১৫ আগস্ট ২০২১ | ৯ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
  1. অনুসন্ধান
  2. অন্যান্য
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আর্ন্তজাতিক
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গণমাধ্যম
  9. জাতীয়
  10. ধর্ম
  11. নারী ও শিশু
  12. প্রবাস
  13. ফিচার
  14. বিনোদন
  15. মতামত

ইসলামে খাওয়ার সুন্নাত ও আদব…

প্রতিবেদক
দেশ জার্নাল
আগস্ট ১৫, ২০২১ ৭:৩১ অপরাহ্ণ
Desh Journal

 

দেশ জার্নাল ডেক্সঃ

ভূমিকাঃ-খাওয়া মানুষের জীবনধারণের জন্য একটি অতি আবশ্যকীয় বিষয়। খাওয়া-পান করা ব্যতীত মানুষ জীবন ধারণে অক্ষম। সে জন্য আল্লাহ পাক মানুষের জন্য রিজিক সৃষ্টি করেছেন। এবং হালাল বস্তু খেতে প্রেরণা ও নির্দেশ দিয়েছেন। যেমনঃ- খাওয়া সম্পর্কে আল্লাহ বলেন-
يَا أَيُّهَا النَّاسُ كُلُواْ مِمَّا فِي الأَرْضِ حَلاَلاً طَيِّباً-
অর্থাৎ- হে মানব জাতি ! পৃথিবীতে যা কিছু হালাল ও পবিত্র খাদ্যবস্তু রয়েছে তা হতে তোমরা খাও। (সূরা বাকারা- আয়াত নং- ১৬৮)
অন্য আয়াতে মহান আল্লাহ বলেনঃ-
فَكُلُواْ مِمَّا رَزَقَكُمُ اللّهُ حَلالاً طَيِّبًا وَاشْكُرُواْ نِعْمَتَ اللّهِ إِن كُنتُمْ إِيَّاهُ تَعْبُدُونَ-
অর্থাৎ-আল্লাহ তোমাদিগকে হালাল ও পবিত্র যা দিয়েছেন তা তোমরা খাও এবং তোমরা যদি আল্লাহর ইবাদত কর তবে তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।(সূরা নাহল আয়াত নং- ১১৪)
এ আয়াতদ্বয়ে আল্লাহ তা’-আলা হালাল ও পবিত্র বস্তু খাওয়ার কথা বলেছেন। আর আল্লাহর ইবাদত ও বান্দার হক আদায় করার জন্য শরীরে শক্তি প্রয়োজন। আর সে জন্যই আল্লাহ তায়ালা মানুষকে খাবার গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন এবং নবীজি (সা.) খাবার গ্রহণের বাস্তব নিয়ম-পদ্ধতি শিখিয়েছেন। নবীজির সুন্নত মোতাবেক খাবার গ্রহণে যেমন রয়েছে পরকালীন সওয়াব লাভের আশা, তেমনি পার্থিব জীবনেও অসংখ্যা কল্যাণ ও উপকার। খাবারের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সংক্ষেপে কিছু সুন্নত ও আদবের কথা তুলে ধরা হলো।

০১.খেতে হবে হালাল খাদ্যঃ- খাওয়া হালাল হওয়া ফরজ, মহান আল্লাহ বলেন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُلُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ وَاشْكُرُوا لِلَّهِ إِنْ كُنْتُمْ إِيَّاهُ تَعْبُدُونَ
অর্থ:-হে ঈমানদারগণ, তোমরা পবিত্র বস্তু সামগ্রী আহার কর, যেগুলো আমি তোমাদেরকে রুযী হিসাবে দান করেছি এবং শুকরিয়া আদায় কর আল্লাহর, যদি তোমরা তাঁরই বন্দেগী কর(সূরা আল বাক্বারাহ:১৭২)

০২.হারাম খাদ্য পরিত্যাগ করাঃ-হারাম খাওয়া বর্জন করা ফরজ, মহান আল্লাহ বলেন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ إِلَّا أَنْ تَكُونَ تِجَارَةً عَنْ تَرَاضٍ مِنْكُمْ وَلَا تَقْتُلُوا أَنْفُسَكُمْ إِنَّ اللَّهَ كَانَ بِكُمْ رَحِيمًا
অর্থ:-হে ঈমানদারগণ!তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না। কেবলমাত্র তোমাদের পরস্পরের সম্মতিক্রমে যে ব্যবসা করা হয় তা বৈধ। আর তোমরা নিজেদের কাউকে হত্যা করো না। নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা’আলা তোমাদের প্রতি দয়ালু (সূরা আন নিসা:২৯)

০৩.খাওয়ার পূর্বে হাত ধৌত করাঃ-আহার পূর্ব হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়তে জাতি সংঘসহ পৃথিবীর বিভিন্ন সামাজিক সংস্থা কোটি কোটি টাকা খরচ করছে,অথচ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)দেড় হাজার বছর আগে বলেছেন-
عَنْ سَلْمَانَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ بَرَكَةُ الطَّعَامِ الْوُضُوءُ قَبْلَهُ وَالْوُضُوءُ بَعْدَهُ ‏
অর্থ:-হযরত সালমান (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেছেন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন খাওয়া-দাওয়ার আগে ও পরে ওযূ করার মধ্যেই বারকাত আছে। (জামে’ আত-তিরমিজি, হাদিস নং ১৮৪৬)
অন্য হাদীসে আছে-
أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ مَنْ أَحَبَّ أَنْ يُكْثِرَ اللَّهُ خَيْرَ بَيْتِهِ فَلْيَتَوَضَّأْ إِذَا حَضَرَ غَدَاؤُهُ وَإِذَا رُفِعَ

অর্থ:-আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: যে ব্যক্তি চায় যে, তার ঘরে বরকত আসুক, সে যেন সকালের আহার গ্রহণের সময় উযু করে এবং আহার শেষেও উযু করে।(সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ৩২৬০)

০৪.দস্তরখান বিছিয়ে খাওয়া:-দস্তরখান বিছানোর ও নিয়ম আছে। যেন-তেন ভাবে দস্তরখান বিছালেই হবে না। প্রথমে আল্লাহর নেয়ামতের মুখাপেক্ষী হয়ে বসতে হবে, এরপর দস্তরখান বিছাতে হবে। দস্তরখান খুব পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। এর উপর ঝুটা হাড্ডি, কাঁটা ফেলা যাবে না, পা রাখা যাবে না।
عَنْ أَنَسٍ قَالَ مَا عَلِمْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَكَلَ عَلٰى سُكْرُجَةٍ قَطُّ وَلاَ خُبِزَ لَه“ مُرَقَّقٌ قَطُّ وَلاَ أَكَلَ عَلٰى خِوَانٍ قَطُّ قِيلَ لِقَتَادَةَ فَعَلاَمَ كَانُوا يَأْكُلُونَ قَالَ عَلٰى السُّفَرِ
অর্থ:-আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কখনও ‘সুকুর্‌জা’ অর্থাৎ ছোট ছোট পাত্রে আহার করেছেন, তার জন্য কখনও নরম রুটি বানানো হয়েছে কিংবা তিনি কখনো টেবিলের উপর আহার করেছেন’ বলে আমি জানি না। ক্বাতাদাহকে জিজ্ঞেস করা হলো, তাহলে তাঁরা কিসের উপর আহার করতেন। তিনি বললেনঃ দস্তরখানের উপর।(সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৫৩৮৬)

০৫..আল্লাহর নাম নিয়ে খাওয়া শুরু করাঃ-খাদ্য আল্লাহর দেয়া নেয়ামত তাই খাওয়া আল্লাহর নামে শুরু করাই যৌক্তিক। সহিহ মুসলিমে আছে-
مِنْ، عُمَرَ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ قَالَ كُنْتُ فِي حَجْرِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَكَانَتْ يَدِي تَطِيشُ فِي الصَّحْفَةِ فَقَالَ لِي ‏ “‏ يَا غُلاَمُ سَمِّ اللَّهَ وَكُلْ بِيَمِينِكَ وَكُلْ مِمَّا يَلِيكَ
অর্থ:-হযরত উমার ইবনু আবূ সালামাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–এর তত্ত্বাবধানে ছিলাম। খাবার বাসনে আমার হাত চারপাশে ঘুরত। তিনি আমাকে বললেনঃ হে বালক! খাওয়ার শুরুতে বিসমিল্লাহ বল, তুমি তোমার ডান হাতে খাও এবং নিজের পাশ হতে খাও। ( সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৫১৬৪)

তাই খাওয়ার শুরুতে বলতে হবে- بسم الله علي بركة الله অথবা বলবে- بسم الله الرحمن الرحيم
জামে’ আত-তিরমিজিতে আছে-
بُو بَكْرٍ، مُحَمَّدُ بْنُ أَبَانَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ الدَّسْتَوَائِيُّ، عَنْ بُدَيْلِ بْنِ مَيْسَرَةَ الْعُقَيْلِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ أُمِّ كُلْثُومٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ إِذَا أَكَلَ أَحَدُكُمْ طَعَامًا فَلْيَقُلْ بِسْمِ اللَّهِ فَإِنْ نَسِيَ فِي أَوَّلِهِ فَلْيَقُلْ بِسْمِ اللَّهِ فِي أَوَّلِهِ وَآخِرِهِ ‏
অর্থ:-হযরত আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যখন তোমাদের কোন ব্যক্তি খাওয়া শুরু করে তখন যেন সে ‘বিসমিল্লাহ’ বলে। সে খাওয়ার শুরুতে বিসমিল্লাহ বলতে ভুলে গেলে তবে যেন বলে, بِسْمِ اللَّهِ فِي أَوَّلِهِ وَآخِرِهِ (বিসমিল্লাহ ফী আওয়ালিহি ওয়া আখিরাহি” (শুরু ও শেষ আল্লাহ তা’আলার নামে)।(জামে’ আত-তিরমিজি, হাদিস নং ১৮৫৮)

০৬.ডান হাতে খেতে হয়, বাম হাতে নয়ঃ-ডান হাতের ব্যবহারে বিনয় নম্রতা এবং বাম হাতের ব্যবহারে অহংকার প্রকাশ পায়।তাই ডান হাতে খাওয়া ও পান করা রাসূলের সুন্নাত:-
عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عُبَيْدِ، اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ عَنْ جَدِّهِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ “‏ إِذَا أَكَلَ أَحَدُكُمْ فَلْيَأْكُلْ بِيَمِينِهِ وَإِذَا شَرِبَ فَلْيَشْرَبْ بِيَمِينِهِ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَأْكُلُ بِشِمَالِهِ وَيَشْرَبُ بِشِمَالِهِ
অর্থ:-হযরত ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ খাদ্য খায়, তখন সে যেন ডান হাতে খায় আর যখন পান করে, সে যেন ডান হাতে পান করে। কারণ,শয়তান বাম হাতে খায় ও পান করে।(সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৫১৬০)

০৭.প্লেটের পাশ থেকে খাওয়া গ্রহন করতে হয়, মাঝখান থেকে নয়ঃ- যে কোন কাজের একটা সৌন্দর্য্ ও কদর্য দিক আছে। খাওয়াতে প্লেটের পাশ থেকে খাওয়া সৌন্দর্যের অংশ,তাই তাহা সুন্নাত-
عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ بْنِ سَعِيدِ بْنِ كَثِيرِ بْنِ دِينَارٍ الْحِمْصِيُّ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عِرْقٍ الْيَحْصُبِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بُسْرٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أُتِيَ بِقَصْعَةٍ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ كُلُوا مِنْ جَوَانِبِهَا وَدَعُوا ذُرْوَتَهَا يُبَارَكْ فِيهَا
অর্থ:-হযরত আব্দুল্লাহ বিন বুসর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট একটি পাত্র আনা হলে তিনি বলেনঃ এর চারপাশ থেকে খাও এবং উপরাংশ রেখে দাও, তাহলে তাতে বরকত লাভ করা যাবে।(সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ৩২৭৫)
ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا; أَنَّ النَّبِيَّ – صلى الله عليه وسلم – أُتِيَ بِقَصْعَةٍ مِنْ ثَرِيدٍ، فَقَالَ:كُلُوا مِنْ جَوَانِبِهَا، وَلَا تَأْكُلُوا مِنْ وَسَطِهَا، فَإِنَّ الْبَرَكَةَ تَنْزِلُ فِي وَسَطِهَ
অর্থ:-হযরত ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সমীপে একটি পেয়ালায় করে সারিদ (বা সুরবাতে ভিজানো রুটি)আনা হলে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন – তোমরা চতুর্দিক থেকে খাও, মধ্য থেকে খেওনা – কেননা বারকাত মধ্যেই অবর্তীণ হয়।( আবূ দাউদ ৩৭৭২, তিরমিযী ১৮০৫, ইবনু মাজাহ ৩২৭৭, দারিমী ২০৪৫। বুলুগুল মারাম, হাদিস নং ১০৫০)

০৮.বসে খেতে হয় দাঁড়িয়ে নয়ঃ-বিনা প্রয়োজনে দাঁড়িয়ে খাওয়ার মাঝে অভদ্রতা ও অহংকার সুস্পষ্ট।আর বসে খাওয়াতে আছে বিনয় ও ভদ্রতা:-

عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى أَنْ يَشْرَبَ الرَّجُلُ قَائِمًا ‏.‏ فَقِيلَ الأَكْلُ قَالَ ذَاكَ أَشَدُّ

অর্থ:-হযরত আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ যে কাউকে দাঁড়িয়ে থাকাবস্থায় পান করতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিষেধ করেছেন। দাঁড়িয়ে খাওয়া-দাওয়া করার ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেনঃ এটাতো অত্যধিক খারাপ। (জামে’ আত-তিরমিজি, হাদিস নং ১৮৭৯)

০৯. হেলান দিয়ে না খাওয়াঃ-হেলান না দিয়ে স্বাভাবিকভাবে বসে খাওয়া-ই আদব। মহানবীর হাদীসে এসছে-
أَبَا جُحَيْفَةَ يَقُوْلُ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم لاَ آكُلُ مُتَّكِئًا
অর্থ:-হযরত আবূ জুহাইফাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ: তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমি হেলান দিয়ে খাদ্য গ্রহন করি না।(সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৫৩৯৮)
বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ- ইসলাম হেলান দিয়ে বসে খানা খেতে নিষেধ করেছে। কেননা হেলান দিয়ে খাবারের মধ্যে তিনটি অপকারিতা রয়েছে। ১। সঠিক ভাবে খাবার চিবানো যায় না, ফলে যে পরিমাণ লালা খাদ্যের সাথে মিশ্রিত হওয়ার কথা ছিল তা হয় না যার কারণে পাকস্থলীতে মাড় বিশিষ্ট খাবার হজম হয় না, ফলে হজম প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ২। হেলান দিয়ে বসলে পাকস্থলি প্রশস্ত হয়ে যায়। যার ফলে অপ্রয়োজনীয় খাবার পেটে গিয়ে হজম প্রক্রিয়াতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। ৩। হেলান দিয়ে খাবারের ফলে অন্ত্র এবং যকৃতের কার্যক্রম ব্যাহত হয়। একথা অভিজ্ঞতা দ্বারা প্রমাণিত। সুন্নাতে রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও আধুনিক বিজ্ঞান- ডাঃ মুহাম্মাদ তারেক মাহমুদ)

১০. খাবারের প্রশংসা করা
খাবারের প্রশংসা করা মুস্তাহাব , কেননা এর মাধ্যমে খাবার আয়োজন ও প্রস্ত্তত কারীর উপর একটা ভাল প্রভাব পড়বে। সাথে সাথে আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা হবে। রাসূল(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)কখনো কখনো এমন করতেন―

عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم سَأَلَ أَهْلَهُ الأُدُمَ فَقَالُوا مَا عِنْدَنَا إِلاَّ خَلٌّ ‏.‏ فَدَعَا بِهِ فَجَعَلَ يَأْكُلُ بِهِ وَيَقُولُ ‏ “‏ نِعْمَ الأُدُمُ الْخَلُّ نِعْمَ الأُدُمُ الْخَلُّ

অর্থ:-হযরত জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর গৃহের লোকদের নিকট সালুন চাইলে তাঁরা বললো, সিরকা ব্যতীত আমাদের নিকট ভিন্ন কিছু নেই। সে সময় তিনি তাই নিয়ে আসতে বললেন এবং খাওয়ার সময় বললেন, সিরকা কত ভাল তরকারি, সিরকা কত চমৎকার তরকারি! ( সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৫২৪৭)

১১..খাদ্যের দোষ বর্ণনা না করাঃ- যেখানে খাবারের প্রশংসা করা মুস্তাহাব,সেখানে দোষ বর্ণনার কোন প্রশ্নই নাই।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ مَا عَابَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم طَعَامًا قَطُّ إِنْ اشْتَهَاه“ أَكَلَه“ وَإِنْ كَرِهَه“ تَرَكَهُ
অর্থ:-হযরত আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, নবী(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কখনো কোন খাবারের দোষ-ত্রুটি প্রকাশ করেননি। ভালো লাগলে তিনি খেতেন এবং ভালো না লাগলে(খারাপ লাগলে)রেখে দিতেন।(সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৫৪০৯)

১২.খাদ্য নষ্ট না করাঃ-
আমার সামনে অনেক খাবার। হরেক রকমের খাবার। কোনটি রেখে কোনটি খাব! নাহ! কোনোটাই বাদ দেয়া যাবে না। সবগুলো একবারে নিলাম। নিলাম তো বেশি বেশি করে নিলাম; এত মজাদার খাবার অল্প করে নেয়া যায়? এরপর সবগুলো থেকে একটু একটু করে খেতে না খেতেই পেট গেল ভরে। পাত্রে এখনো অনেক খাবার রয়ে গেছে। খাবারগুলো পাত্রে রেখেই উঠে গেলাম। খাবার নষ্ট হল, অপচয় হল।
আল্লাহ অপচয়কারীকে ভালবাসেন না। খাবার আল্লাহর অনেক বড় নিআমত। এ নিআমত কেউ নষ্ট করুক বা অপচয় করুক, এটা আল্লাহ চান না। অপচয় ও খাদ্য নষ্টকরা একটি অতি মারত্মক ধর্মীয় ও সামাজিক অপরাধ! তাই মহান আল্লাহ বলেন-
يَا بَنِي آدَمَ خُذُوا زِينَتَكُمْ عِنْدَ كُلِّ مَسْجِدٍ وَكُلُوا وَاشْرَبُوا وَلَا تُسْرِفُوا إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُسْرِفِينَ
অর্থ:-হে বনী-আদম! তোমরা প্রত্যেক নামাযের সময় সাজসজ্জা পরিধান করে নাও, খাও ও পান কর এবং অপব্যয় করো না। তিনি অপব্যয়ীদেরকে পছন্দ করেন না। (সূরা আল আ’রাফ:৩১)

১৩.খাওয়া শেষে আঙ্গুল ও প্লেট চেটে খাওয়াঃ- এ অভ্যাস খাদ্য নষ্ট না করার একটি উত্তম মাধ্যম।সহিহ মুসলিমে আছে-
عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا أَكَلَ طَعَامًا لَعِقَ أَصَابِعَهُ الثَّلاَثَ ‏.‏ قَالَ وَقَالَ ‏”‏ إِذَا سَقَطَتْ لُقْمَةُ أَحَدِكُمْ فَلْيُمِطْ عَنْهَا الأَذَى وَلْيَأْكُلْهَا وَلاَ يَدَعْهَا لِلشَّيْطَانِ ‏”‏ ‏.‏ وَأَمَرَنَا أَنْ نَسْلُتَ الْقَصْعَةَ قَالَ ‏”‏ فَإِنَّكُمْ لاَ تَدْرُونَ فِي أَىِّ طَعَامِكُمُ الْبَرَكَةُ
অর্থ:-হযরত আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন কোন খাদ্য খেতেন তখন তাঁর আঙ্গুল তিনটি চেটে খেতেন এবং তিনি বলেছেন: তোমাদের কারো লোকমা যদি মাটিতে পড়ে যায় তবে সে যেন তা হতে ময়লা দূর করে এবং খাবারটুকু খেয়ে ফেলে, তা যেন শয়তানের জন্য রেখে না দেয়। আর তিনি আমাদের বাসন মুছে খেতে নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, ‘কারণ তোমরা জান না, তোমাদের খাবারের কোন অংশে কল্যাণ রয়েছে’।( সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৫২০১ )

১৪.বেশী খাওয়া ত্যাগকরে পরিমিত খাদ্য গ্রহণ করাঃ-প্রয়োজনের বেশী খাওয়া একটি মারাত্মক ব্যাধি।ইসলাম ইহাকে হারাম ঘোষনা করেছে-
إِسْمَاعِيلُ قَالَ حَدَّثَنِي مَالِكٌ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ الأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَأْكُلُ الْمُسْلِمُ فِي مِعًى وَاحِدٍ وَالْكَافِرُ يَأْكُلُ فِي سَبْعَةِ أَمْعَاءٍ.
অর্থ:-হযরত আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মু’মিন এক পেটে খায় আর কাফির সাত পেটে খায়। (সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৫৩৯৬)
عَنْ مِقْدَامِ بْنِ مَعْدِيكَرِبَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ “‏ مَا مَلأَ آدَمِيٌّ وِعَاءً شَرًّا مِنْ بَطْنٍ بِحَسْبِ ابْنِ آدَمَ أُكُلاَتٌ يُقِمْنَ صُلْبَهُ فَإِنْ كَانَ لاَ مَحَالَةَ فَثُلُثٌ لِطَعَامِهِ وَثُلُثٌ لِشَرَابِهِ وَثُلُثٌ لِنَفَسِهِ
অর্থ:-হযরত মিকদাম ইবনু মা’দীকারিব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি : মানুষ পেট হতে অধিক নিকৃষ্ট কোন পাত্র পূর্ণ করে না। মেরুদন্ড সোজা রাখতে পারে এমন কয়েক গ্রাস খাবারই আদম সন্তানের জন্য যথেষ্ট। তার চেয়েও বেশি প্রয়োজন হলে পাকস্থলীর এক-তৃতীয়াংশ খাদ্যের জন্য, এক-তৃতীয়াংশ পানীয়ের জন্য এবং এক তৃতীয়াংশ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য রাখবে। (জামে’ আত-তিরমিজি, হাদিস নং ২৩৮০)
عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ تَجَشَّأَ رَجُلٌ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ‏ “‏ كُفَّ عَنَّا جُشَاءَكَ فَإِنَّ أَكْثَرَهُمْ شِبَعًا فِي الدُّنْيَا أَطْوَلُهُمْ جُوعًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ ‏

অর্থ:-ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ: তিনি বলেন, কোন একদিন এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সামনে ঢেকুর তুললো। তিনি বললেন, আমাদের সামনে তোমার ঢেকুর তোলা বন্ধ কর। অবশ্যই যে সকল ব্যক্তি দুনিয়াতে বেশি পরিতৃপ্ত হবে তারাই কিয়ামাতের দিন সবচেয়ে বেশি ক্ষুধার্ত থাকবে।(জামে’ আত-তিরমিজি, হাদিস নং ২৪৭৮, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ৩৩৫০)
বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ-বর্তমানে বারবার এ কথার উপর জোর দেয়া হচ্ছে যে, কম আহার করুন বেশী দিন বাঁচতে পারবেন। আর জনসাধারণকে বারবার এ কথার উপকারীতা বর্ণনা করা হচ্ছে। বেশী খেলে যে সকল রোগ সৃস্টি হয় তার একটি তালিকা প্রণয়ন করেছেন প্রফেসার রিচার বার্ড। নিম্নে তা দেয়া হলঃ ১। মস্তিষ্কের ব্যাধি। ২। চক্ষু রোগ। ৩। জিহ্বা ও গলার রোগ। ৪। বক্ষ ও ফুসফুসের ব্যাধি। ৫। হৃদ রোগ। ৬। যকৃত ও পিত্তের রোগ। ৭। ডায়াবেটিস। ৮। উচ্চ রক্ত চাপ। ৯। মস্তিষ্কের শিরা ফেটে যাওয়া। ১০। দুশ্চিন্তাগ্রস্ততা। ১১। অর্ধাঙ্গ রোগ। ১২। মনস্তাত্ত্বিক রোগ। ১৩। দেহের নিম্নাংশ অবশ হয়ে যাওয়া। (“সান” উইকলি সুইডেন)
গভীরভাবে চিন্তা করলে দেখা যাবে যে, এই তালিকা প্রকৃত পক্ষে মৃত্যুর তালিকা, যা প্রফেসার সাহেব গভীর চিন্তা ও গবেষণার পর প্রকাশ করেছেন।
অপর দিকে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বর্ণনার প্রতি দৃষ্টিপাত করুন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন পেটের এক তৃতীয়াংশ আহারের জন্য, এক তৃতীয়াংশ পানির জন্য আর এক তৃতীয়াংশ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য।
একজন দার্শনিকের নিকট যখন রাসূলের এ নির্দেশ শুনান হল তখন সে বলতে লাগল, এর থেকে উত্তম ও শক্তিশালী কথা আমি আজ পর্যন্ত শ্রবণ করিনি। পেটের এক তৃতীয়াংশ পানি দিয়ে পূর্ণ করতে বলার কারণ, পানির মধ্যেও বহুবিধ উপকারিতা রয়েছে । পানির উপকারীতা নিম্নরূপঃ * শরীরে পানির অভাব পূরন করা, * রক্তের তরলতা বজায় রাখা, * শরীর হতে অপ্রয়োজনীয় দূষিত জিনিষ নির্গত করতে সাহায্য করা, * খাদ্য দ্রব্য হজম করতে সাহায্য করা, * শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা, * শরীরের অম্ল-ক্ষারের স্বাভাবিকতা ঠিক রাখা, * হরমোন তৈরী করতে অনেক ক্ষেত্রে সাহায্য করা।

১৫.যৌথভাবে আহার:-আহারে একাকিত্ব অতৃপ্তির কারণ। তাই মেহমান,বন্ধু-বান্ধব অথবা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আহার করা উচিত! সুনানে ইবনে মাজাতে রয়েছে-

حَدَّثَنَا وَحْشِيُّ بْنُ حَرْبِ بْنِ وَحْشِيِّ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، وَحْشِيٍّ، أَنَّهُمْ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا نَأْكُلُ وَلاَ نَشْبَعُ ‏.‏ قَالَ ‏”‏ فَلَعَلَّكُمْ تَأْكُلُونَ مُتَفَرِّقِينَ ‏”‏ ‏.‏ قَالُوا نَعَمْ ‏.‏ قَالَ ‏”‏ فَاجْتَمِعُوا عَلَى طَعَامِكُمْ وَاذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ عَلَيْهِ يُبَارَكْ لَكُمْ فِيهِ

অর্থ:-ওয়াহশী(রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমরা আহার করি, কিন্তু পরিতৃপ্ত হতে পারি না। তিনি বলেন, তোমরা হয়ত পৃথক পৃথকভাবে আহার করো। তারা বলেন, হাঁ। তিনি বলেন, তোমরা একত্রে আহার করো এবং আহারকালে আল্লাহর নাম স্মরণ করো, তাহলে তোমাদের খাদ্যে তোমাদের জন্যে বরকত দেয়া হবে। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ৩২৮৬)

১৬.ভাগাভাগী করে খাদ্য গ্রহণ করাঃ- অনেক সময় দুই জনের খাবারের সাথে আরেক জন এসে তিজন হয় অথবা তিন জনের খাবারের সাথে আরেক জন এসে চার জন হয়।……… এর সমাধানে নবীর (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সহজ সূত্র:-
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّه“ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم طَعَامُ الِاثْنَيْنِ كَافِي الثَّلاَثَةِ وَطَعَامُ الثَّلاَثَةِ كَافِي الأَرْبَعَةِ
অর্থ:-হযরত আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ দু’জনের খাদ্য তিনজনের জন্য যথেষ্ট এবং তিনজনের খাদ্য চারজনের জন্য যথেষ্ট।(সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৫৩৯২)
جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ “‏ طَعَامُ الْوَاحِدِ يَكْفِي الاِثْنَيْنِ وَطَعَامُ الاِثْنَيْنِ يَكْفِي الأَرْبَعَةَ وَطَعَامُ الأَرْبَعَةِ يَكْفِي الثَّمَانِيَةَ
অর্থ:-জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ: তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি যে, একজনের খাদ্য দু’জনের জন্য পর্যাপ্ত এবং দু’জনের খাদ্য চারজনের জন্য যথেষ্ট, এমনিভাবে চারজনের খাবার আটজনের জন্য যথেষ্ট। ইসহাক্ (রহঃ)-এর বর্ণনায় রয়েছে, “রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তিনি “আমি শুনেছি” কথাটি বর্ণনা করেননি। (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৫২৬৩)

১৭. একসাথে কয়েকটি মুখে না দেয়া:-
একসাথে কয়েকজন খাচ্ছি। নিজের বাসায় বা অন্য কারো বাসায় (মেহমান হিসেবে)। নিজ পরিবারের সাথে বা অপরিচিত কারো সাথে। পাত্রে বিস্কুট, আঙুর, খেজুর বা এজাতীয় কোনো কিছু। অর্থাৎ এমন কোনো খাবার, যা এক-দুইটা একসাথে মুখে দেওয়া যায়।
ধরা যাক আঙুর আমার খুব পছন্দ। কারো বাসায় মেহমান হিসেবে খাচ্ছি। আমার সাথে আরো মেহমান আছেন। তো আমি চিন্তা করলাম, অনেক মানুষ, যদি একটা একটা করে খাই তাহলে আমি নিজে বেশি খেতে পারব না, তার আগেই শেষ হয়ে যাবে। সুতরাং দুইটা-তিনটা একসাথে মুখে দেওয়া শুরু করলাম। এ কাজটি ঠিক নয়। এটা অভদ্রতা। নবীজী এটা পছন্দ করতেন না। সুতরাং আমরা এটা করব না। জাবালা ইবনে সুহাইম রাহ. বলেন-
كَانَ ابْنُ الزّبَيْرِ يَرْزُقُنَا التّمْرَ، قَالَ: وَقَدْ كَانَ أَصَابَ النّاسَ يَوْمَئِذٍ جَهْدٌ، وَكُنّا نَأْكُلُ فَيَمُرّ عَلَيْنَا ابْنُ عُمَرَ وَنَحْنُ نَأْكُلُ، فَيَقُولُ: لَا تُقَارِنُوا فَإِنّ رَسُولَ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ نَهَى عَنِ الْإِقْرَانِ، إِلّا أَنْ يَسْتَأْذِنَ الرّجُلُ أَخَاهُ
অর্থ:-জাবালা থেকে বর্ণিত, এক দুর্ভিক্ষের সময় ইবনুয যুবায়ের (রা.) আমাদেরকে খেজুর খাওয়াচ্ছিলেন। আমরা খাচ্ছিলাম এমতাবস্থায় তিনি আমাদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। (তিনি হয়ত দেখেছেন কেউ দুই-তিনটি খেজুর একবারে মুখে দিচ্ছে।) তখন তিনি বললেন, একসাথে কয়েকটি মুখে দিও না। কেননা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একসাথে কয়েকটি মুখে দিতে নিষেধ করেছেন। হাঁ, যদি অন্যদের অনুমতি নিয়ে নেওয়া হয় তাহলে ভিন্ন কথা। (সহীহ বুখারী, হাদীস ২৪৫৫)

১৮.খাওয়া অবস্থায় কেউ এলে তাকে খেতে দাওয়াত দেওয়া:-
এখন ঠিক দুপুর। আমি খানা খাচ্ছি। এমন সময় কেউ এল। বা বিকেলে নাস্তা করছি, তো আমার কামরায় পরিচিত বা অপরিচিত কেউ প্রবেশ করল। আমি তাকে বসতে বললাম, কিন্তু আমার সাথে খেতে বললাম না। এটি ঠিক নয়। নবীজী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খাওয়ার সময় যদি কেউ আসত,তাকে তিনি সাথে খাওয়ার দাওয়াত দিতেন।

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، – رَجُلٌ مِنْ بَنِي عَبْدِ الأَشْهَلِ – قَالَ أَتَيْتُ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَهُوَ يَتَغَدَّى فَقَالَ ‏ “‏ ادْنُ فَكُلْ ‏”‏ ‏.‏ فَقُلْتُ إِنِّي صَائِمٌ فَيَا لَهْفَ نَفْسِي هَلاَّ كُنْتُ طَعِمْتُ مِنْ طَعَامِ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏.‏
অর্থ:-আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট উপস্থিত হলাম। তখন তিনি সকালের আহার করছিলেন। তিনি বলেনঃ এগিয়ে আসো এবং খাও। আমি বললাম, আমি রোযাদার। আফসোস আমার জন্য আমি যদি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে আহারে অংশগ্রহণ করতাম। (ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ৩২৯৯)
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، رَجُلٌ مِنْهُمْ أَنَّهُ أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْمَدِينَةِ وَهُوَ يَتَغَدَّى، فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «هَلُمَّ إِلَى الْغَدَاءِ»، فَقَالَ: إِنِّي صَائِمٌ، فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ وَضَعَ لِلْمُسَافِرِ الصَّوْمَ وَشَطْرَ الصَّلَاةِ، وَعَنِ الْحُبْلَى وَالْمُرْضِعِ
অর্থ:- আনাস ইব্‌ন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ সাহাবীদের থেকে এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে মদীনায় আসলেন। তখন তিনি দ্বিপ্রহরের আহার করছিলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে বললেন যে, খেতে এসো। তিনি বললেনঃ আমি তো সাওম (রোযা) পালন করছি। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেন যে, আল্লাহ তা’আলা মুসাফির, গর্ভবর্তী এবং স্তন্য দানকারিণী মহিলার উপর থেকে সাওম (রোযা)-কে মুলতবী, এবং অর্ধেক সালাতকে স্থগিত করে দিয়েছেন। (সুনানে আন-নাসায়ী, হাদিস নং ২৩১৫)

১৯. অতি গরম খাদ্য না খেয়ে সহনীয় ঠান্ডা হওয়ার অপেক্ষা করাঃ-
মানুষ খাওয়ার সময় যে সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাহায্য নেয় যেমন জিহবা,দাঁত,খাদ্য নালী,পাকস্থলী ইত্যাদি,এ গুলোর গরম সহ্য করার ক্ষমতা সীমাবদ্ধ। তাই অতি গরম খাওয়া পরিহার বাঞ্চনীয়।
قال أبو هريرة: ” لا يؤكل طعام حتى يذهب بخاره
অর্থ:-হযরত আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, ধোঁয়া চলে যাওয়ার আগে কোন খাদ্য খাওয়া উচিৎ নহে।(বায়হাকী ২য় খন্ড-২১০পৃষ্ঠা)

২০. খাদ্যে ফুঁ না দেয়াঃ-
অনেকে চা কফি গরম বলে সবার সামনেই কাপে ফুঁ দিয়ে ঠাণ্ডা করতে চায়। এটা ডাক্তারি মতে, মুখের জীবাণু কাপে চলে যেতে পারে আবার শরিয়ত মোতাবেকও ঠিক নয়। আমরা জানি, আমাদের শ্বাসের সাথে বিষাক্ত কার্বন ডাই-অক্সাইড বের হয়, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। পাত্রে শ্বাস ফেললে কার্বন ডাই-অক্সাইড পানির সাথে মিশে আমাদের ক্ষতি করতে পারে।
عَنْ أَبِي الْمُثَنَّى الْجُهَنِيِّ أَنَّهُ قَالَ كُنْتُ عِنْدَ مَرْوَانَ بْنِ الْحَكَمِ فَدَخَلَ عَلَيْهِ أَبُو سَعِيدٍ الْخُدْرِيُّ فَقَالَ لَهُ مَرْوَانُ بْنُ الْحَكَمِ أَسَمِعْتَ مِنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ نَهَى عَنْ النَّفْخِ فِي الشَّرَابِ فَقَالَ لَهُ أَبُو سَعِيدٍ نَعَمْ فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللهِ إِنِّي لَا أَرْوَى مِنْ نَفَسٍ وَاحِدٍ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَبِنْ الْقَدَحَ عَنْ فَاكَ ثُمَّ تَنَفَّسْ قَالَ فَإِنِّي أَرَى الْقَذَاةَ فِيه قَالَ فَأَهْرِقْهَا
অর্থ:-হযরত আবূ মুসান্না জুহনী (র) থেকে বর্ণিতঃ আমি মারওয়ান ইব্নু হাকাম (রা)-এর কাছে বসা ছিলাম। এমন সময় তার নিকট আবূ সাঈদ খুদরী (রা) আগমন করলেন, তখন মারওয়ান তাঁকে বললেন, আপনি কি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে শুনেছেন যে, তিনি পানিতে (কিংবা পানীয় বস্তুতে) শ্বাস ফেলতে (ফুঁ দিতে) নিষেধ করেছেন? আবূ সাঈদ (রা) উত্তর দিলেন, জি হ্যাঁ। এক ব্যক্তি বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি এক নিঃশ্বাসে (পানি পান করে) তৃপ্ত হই না। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, পাত্রটিকে মুখ হতে পৃথক করে নিশ্বাস গ্রহণ কর। সেই ব্যক্তি পুনরায় জিজ্ঞেস করল, পানিতে কোন ময়লা (জাতীয় কিছু ভাসতে) দেখলে তখন কি করব? রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন (কিছু পানিসহ) সেটা বাহিরে ফেলে দাও।(মুয়াত্তা ইমাম মালিক, হাদিস নং ১৬৬০)

২১. বড় পাত্রে মুখ লাগিয়ে পান না করা:-
সাধারণত আমরা জগ বা কলস থেকে গ্লাসে পানি ঢেলে পান করে থাকি। কিন্তু কখনো কখনো আমরা সরাসরি পানির জগ বা কলসে মুখ লাগিয়ে পান করার চেষ্টা করি। এতে করে জগ একটু বেশি উঁচু হলেই আমার মুখের ধারণ ক্ষমতা থেকে বেশি পানি বের হয়ে আসে এবং নাকে পানি প্রবেশ করে বা মুখ ভরে পানি গড়িয়ে পড়ে। জামা ভিজে যায়। এটি ঠিক নয়। সহীহ বুখারীর বর্ণনায় এসেছে-

نَهَى النّبِيّ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ أَنْ يشرَبَ مِنْ فِي السِّقَاءِ
অর্থঃ-নবীজী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মশকে (চামড়ার তৈরি পানির পাত্র) মুখ লাগিয়ে পান করতে নিষেধ করেছেন। (সহীহ বুখারী, হাদীস ৫৬২৮)

২২.ক্ষতিকর খাদ্য পরিহার করাঃ-
ইসলামে খাদ্যের হালাল হারামের বর্ণনা সু-স্পষ্ট। তবে কিছু হালাল খাদ্য কারো কারো শরীরের সাথে মানায়না। তাই অভিজ্ঞতা ও ডাক্তারের পরামর্শে বে-মানান খাদ্য পরিহার করাই শ্রেয়-
أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ كُلِّ مُسْكِرٍ وَمُفَتِّرٍ

অর্থঃ-হযরত উম্মু সালামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নেশা সৃষ্টিকারী সর্ব ধরনের বস্তু এবং অবসন্নকারী বস্তুর ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছেন।(সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৩৬৮৬)

২৩.খাদ্য তালিকায় সবজীকে প্রাধান্য দেয়াঃ-বর্তমান জামানায় ডাক্তারগণ বেশী বেশী সবজি খেতে পরামর্শ দেন।নবীর হাদীসেও তা-ই রয়েছে-

أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ يَقُوْلُ إِنَّ خَيَّاطًا دَعَا رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم لِطَعَامٍ صَنَعَه“ قَالَ أَنَسٌ فَذَهَبْتُ مَعَ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَرَأَيْتُه“ يَتَتَبَّعُ الدُّبَّاءَ مِنْ حَوَالَيْ الْقَصْعَةِ قَالَ فَلَمْ أَزَلْ أُحِبُّ الدُّبَّاءَ مِنْ يَوْمِئِذٍ
অর্থ:-হযরত আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)‎ থেকে বর্ণিতঃ: তিনি বলেনঃ একবার এক দর্জি কিছু খাদ্য প্রস্তুত করে রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দাওয়াত ‎করল। আনাস (রাঃ) বলেনঃ আমিও রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে গেলাম। খেতে বসে ‎দেখলাম, তিনি পাত্রের সবদিক হতে কদুর টুকরা খুঁজে খুঁজে বের করছেন, সেদিন হতে আমি কদু পছন্দ করতে ‎থাকি।(সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৫৩৭৯)
সুনানে ইবনে মাজাহতে আছে-
عَنْ حَكِيمِ بْنِ جَابِرٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ دَخَلْتُ عَلَى النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فِي بَيْتِهِ وَعِنْدَهُ هَذِهِ الدُّبَّاءُ فَقُلْتُ أَىُّ شَىْءٍ هَذَا قَالَ ‏ “‏ هَذَا الْقَرْعُ هُوَ الدُّبَّاءُ نُكَثِّرُ بِهِ طَعَامَنَا

অর্থ:-জাবির বিন তারিক(রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাড়ীতে তাঁর নিকট উপস্থিত হলাম। তখন তাঁর সামনে লাউয়ের তরকারী ছিল। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এটা কি? তিনি বললেনঃ এটা লাউ তরকারী। আমরা তা দিয়ে আমাদের খাদ্যদ্রবের পরিমাণ বাড়াই।(সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ৩৩০৪)

২৪.খাওয়ার সাথে শশা বা সালাদের ব্যবহারঃ- আমরা অনেকেই খাওয়ার সাথে শশা ও সালাদ জাতীয় কিছু খেতে পছন্দ করি। এটা নবীর বৈশিষ্ট্য।

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرٍ، قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَأْكُلُ الْقِثَّاءَ بِالرُّطَبِ

অর্থ:-আবদুল্লাহ বিন জা’ফার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে তাজা খেজুরের সাথে শসা মিশিয়ে খেতে দেখেছি।(সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ৩৩২৫)

২৫.পানের সময় তিনবার নিঃশ্বাস নিয়ে পান করাঃ-
ভীষণ পিপাসা লেগেছে।ঠান্ডা পানি ঢকঢক করে পান করা শুরু করে দিলাম।হঠাৎ গলায় পানি আটকে গেল।শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে বা নাক দিয়ে পানি ওঠে গেল।অনেক সময় এমনটি হয়। সুতরাং আমরা এভাবে পানি পান করব না।বরং তিন শ্বাসে পান করব।নবীজী তিন শ্বাসে পান করতেন।
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَتَنَفَّسُ فِي الإِنَاءِ ثَلاَثًا وَيَقُولُ ‏ “‏ هُوَ أَمْرَأُ وَأَرْوَى
অর্থ:-হযরত আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পাত্র হতে পানি পানের সময় তিনবার নিঃশ্বাস নিতেন। তিনি বলতেনঃ এভাবে পান করা অধিক স্বাচ্ছন্দকর ও তৃপ্তিদায়ক।(আত-তিরমিজি, হাদিস নং ১৮৮৪)

২৬.দাওয়াত খাওয়া শেষে বসে না থেকে দ্রুত বের হয়ে যাওয়াঃ-
খাওয়া শেষে বসে থাকলে মেঝবানের কষ্ট হয়। তাই মহান আল্লাহ বলেনঃ-
إِذَا دُعِيتُمْ فَادْخُلُوا فَإِذَا طَعِمْتُمْ فَانْتَشِرُوا وَلَا مُسْتَأْنِسِينَ لِحَدِيثٍ
অর্থ:-তোমরা আহুত হলে প্রবেশ করো, তবে অতঃপর খাওয়া শেষে আপনা আপনি চলে যেয়ো, কথাবার্তায় মশগুল হয়ে যেয়ো না। (সূরা আল আহযাব:৫৩)

২৭.খাদ্য বন্টনে ছোটদের এবং ডান পাশকে প্রাধান্য দেয়াঃ-
যখন অনেক লোকের সাথে বসে পান করবে আর পান করার পর কাউকে দিতে চাইবে তাহলে ডান পাশে বসা ব্যক্তিকে সবার আগে দিবে, সে যদি বয়সে ছোট হয়। যদিও বাম পার্শ্বস্থজন তার থেকে বড় হয় । হ্যাঁ; যদি ছোট থেকে অনুমতি নিয়ে বড়কে দেওয়া হয় তাহলে কোন দোষ নেই । আর যদি অনুমতি না দেয় তাহলে তাকেই দিবে কারণ,সেই আগে পাওয়ার বেশি অধিকার রাখে।

عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم أُتِيَ بِشَرَابٍ فَشَرِبَ مِنْه“ وَعَنْ يَمِينِه„ غُلاَمٌ وَعَنْ يَسَارِهِ الأَشْيَاخُ فَقَالَ لِلْغُلاَمِ أَتَأْذَنُ لِي أَنْ أُعْطِيَ هَؤُلاَءِ فَقَالَ الْغُلاَمُ وَاللهِ يَا رَسُوْلَ اللهِ لاَ أُوثِرُ بِنَصِيبِي مِنْكَ أَحَدًا قَالَ فَتَلَّه“ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِي يَدِهِ

অর্থ:-হযরত সাহ্‌ল ইবনু সা‘দ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সামনে শরবত পেশ করা হল, তিনি তা থেকে পান করলেন। তাঁর ডানে ছিল একটি বালক, আর বামে ছিলেন কয়েকজন বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বালকটিকে বললেনঃ তুমি কি আমাকে অনুমতি দেবে যে, আমি ঐ বয়স্ক লোকদের আগে পান করতে দেই? বালকটি বললঃ আল্লাহ্‌র কসম! হে আল্লাহ্‌র রাসুল!(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)আপনার নিকট হতে আমার ভাগ পাওয়ার ব্যাপারে আমি কাউকে আমার উপর অগ্রাধিকার দেব না। রাবী বললেনঃ রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তখন পেয়ালাটি তার হাতে তুলে দিলেন।
( সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৫৬২০)
আর এক হাদিসে আনাস রা. বর্ণনা করেন :―

أَنَسًا ـ رضى الله عنه ـ يَقُولُ أَتَانَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي دَارِنَا هَذِهِ، فَاسْتَسْقَى، فَحَلَبْنَا لَهُ شَاةً لَنَا، ثُمَّ شُبْتُهُ مِنْ مَاءِ بِئْرِنَا هَذِهِ، فَأَعْطَيْتُهُ وَأَبُو بَكْرٍ عَنْ يَسَارِهِ، وَعُمَرُ تُجَاهَهُ وَأَعْرَابِيٌّ عَنْ يَمِينِهِ فَلَمَّا فَرَغَ قَالَ عُمَرُ هَذَا أَبُو بَكْرٍ‏.‏ فَأَعْطَى الأَعْرَابِيَّ، ثُمَّ قَالَ ‏ “‏ الأَيْمَنُونَ، الأَيْمَنُونَ، أَلاَ فَيَمِّنُوا ‏”‏‏.‏ قَالَ أَنَسٌ فَهْىَ سُنَّةٌ فَهْىَ سُنَّةٌ‏.‏ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ‏‏

অর্থ:-আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের এই ঘরে আগমন করেন এবং কিছু পান করতে চাইলেন। আমরা আমাদের একটা বকরীর দুধ দহন করে তাতে আমাদের এই কুয়ার পানি মিশালাম। অতঃপর তা সম্মুখে পেশ করলাম। এ সময় আবূ বকর (রাঃ) ছিলেন তাঁর বামে, ‘উমার (রাঃ) ছিলেন তাঁর সম্মুখে, আর এক বেদুঈন ছিলেন তাঁর ডানে। তিনি যখন পান শেষ করলেন, তখন ‘উমার (রাঃ) বললেন, ইনি আবূ বক্‌র, কিন্তু রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বেদুঈনকে তার অবশিষ্ট পান দান করলেন। অতঃপর বললেন, ডান দিকের ব্যক্তিদেরকেই (অগ্রাধিকার), ডান দিকের ব্যক্তিদের (অগ্রাধিকার) শোন! ডান দিক থেকেই শুরু করবে। আনাস (রাঃ) বলেন, এটাই সুন্নাত, এটাই সুন্নাত, এটাই সুন্নাত। (সহিহ বুখারী, হাদিস নং ২৫৭১)

২৮.খাদেমকে সাথে খাওয়ানো উচিৎঃ-
ইসলাম খাদেম বা কর্মচরীর খাদ্যাধিকারের বিষয়ে অত্যন্ত চমৎকার বিধান দিয়েছে-

أَبِي هُرَيْرَةَ، يُخْبِرُهُمْ ذَاكَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ إِذَا كَفَى أَحَدَكُمْ خَادِمُهُ طَعَامَهُ حَرَّهُ وَدُخَانَهُ فَلْيَأْخُذْ بِيَدِهِ فَلْيُقْعِدْهُ مَعَهُ فَإِنْ أَبَى فَلْيَأْخُذْ لُقْمَةً فَلْيُطْعِمْهَا إِيَّاهُ
অর্থ:-হযরত আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কারো খাদিম তার জন্য খাবার বানানোর সময় তাকে এর গরম ও ধোঁয়া সহ্য করতে হয়। সে যেন তার (খাদিমের) হাত ধরে তাকে নিজের সাথে একত্রে খেতে বসায়। সে (খাদিম) তার সাথে একত্রে বসে খেতে সম্মত না হলে (সংকোচ বোধ করলে) তবে সে যেন তার মুখে অন্তত একটি লোকমা তুলে দেয়। (জামে’ আত-তিরমিজি, হাদিস নং ১৮৫৩)

২৯.খাওয়ার শেষে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করাঃ-
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، رضى الله عنه قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَكَلَ أَوْ شَرِبَ قَالَ ‏ “‏ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنَا وَسَقَانَا وَجَعَلَنَا مُسْلِمِينَ
অর্থ:-হযরত আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন খেতেন অথবা কিছু পান করতেন, তখন বলতেনঃ সকল প্রশংসা আল্লাহ্‌ তা’আলার জন্য, যিনি আমাদেরকে খাবার খাইয়েছেন ও পান করিয়েছেন এবং মুসলমানদের অন্তর্গত করেছেন”।
(জামে’ আত-তিরমিজি, হাদিস নং ৩৪৫৭ )

তাই খাওয়ার শেষে বলতে হবেঃ-‏ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنَا وَسَقَانَا وَجَعَلَنَا مُسْلِمِينَ

আল্লাহ আমাদেরকে রাসূলের সুন্নাতানুযায়ী আমল করার তৈাফিক দিন। আমীন!

 ★★ সংকলনে:
মোহাম্মদ আবদুল আজিজ মজুমদার
অধ্যক্ষ, হায়দরগঞ্জ তাহেরিয়া আর. এম. কামিল মাদরাসা।

দেশ জার্নাল /এস.এম

আপনার মন্তব্য লিখুন

সর্বশেষ - আইন-আদালত

আপনার জন্য নির্বাচিত

বিয়ের আসর থেকে বর আটক

জয়যাত্রা টিভিতে বিজ্ঞাপন দিত ‘জিনের বাদশা’

হাটহাজারীতে করোনা ভ্যাকসিন প্রদান প্রসঙ্গে আলোচনা সভা অনুষ্টিত

যারা টিকা নেওয়া সম্পন্ন করেছে তারাই কেবল ওমরাহ করার অনুমতি পাবেন।

জামালপুর জেলা পুলিশের উদ্যোগে জাতিয় শোক দিবস পালিত ও চিত্র প্রদর্শন

বরিশালে প্রশাসন ও মেয়রের সমঝোতার বৈঠক, মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত

লক্ষ্মীপুরে যুবলীগ নেতাকে হত্যাচেষ্টায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতাসহ আসামি ৯

দুর্নীতি-মাদকের সঙ্গে জড়িত পুলিশ সদস্যদের ছাড় দেয়া হবে না, আইজিপি

রায়পুরে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষ্যে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

রায়পুর থানায় ওপেন হাউজ ডে অনুষ্ঠিত