ইসলামের দৃষ্টিতে কন্যা সন্তানের অধিকার : মোহাম্মদ আবদুল আজিজ মজুমদার

68

এস এম জাকির হোসাইন, নিজস্ব প্রতিবেদক :
ভূমিকা:- বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। যে বিষয়টি নিয়ে পাশ্চাত্য খুবই শোর গোল করছে। যার সূত্র ধরে ইসলাম বিরোধী অপশক্তিগুলোও ইসলামের উপর কালিমা লেপনের অপচেষ্টায় আদাজল খেয়ে মাঠে নেমেছে, পশ্চিমাদের এজেন্ট, কুফরী শক্তির দালালরা ইসলাম ও মুসলিমদের তাহযীব-তামাদ্দুনকে সমূলে ধ্বংস করে মুসলিম উম্মাহকে চিরতরে পঙ্গু করার জন্য যেই ভয়ংকর মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছে তার নাম হচ্ছে -নারী অধিকার, নারী স্বাধীনতা।

আর এ বিষয়টির ক্ষেত্রে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গী কি সে সম্পর্কে অনেকেই অনেকভাবে, অনেক আঙ্গিকে লিখেছেন।বর্তমান পাশ্চাত্য এবং ইসলাম বিদ্বেষী অপশক্তি আজ অত্যন্ত কৌশলে মুসলিম উম্মাহর নারীদেরকে টার্গেট করেছে। তারা মুসলিম পারিবারিক ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে দেয়ার নীলনকশা বাস্তবায়নের জন্য নারীদেরকে রাস্তায় নামিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে। অধিকার কিংবা আর্থিক স্বনির্ভরতার টোপ ফেলে তারা সহজ-সরল মুসলিম রমণীদেরকে হিজাব ও পর্দার সবচেয়ে নিরাপদ স্থান থেকে তাদেরকে মাঠে ময়দানে টেনে আনার অপচেষ্টা করছে।

অপরদিকে বাস্তবতার মাথা খেয়ে স্বার্থান্ধ একদল বলে চলেছে যে, ইসলাম নারীকে শেকল পরিয়ে চার দেয়ালের মাঝে বন্দী করে রেখেছে। ইসলাম নারীকে তার প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। তাদের উপর চাপিয়ে দিয়েছে জুলুমের বোঝা (নাউযুবিল্লাহ।)

নারী সম্পর্কিত এ ধরণের হাজারো অভিযোগ আজ চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে ইসলামের উপর। বাঁধ ভাঙ্গা স্রোতের মতো বিষোদ্গারের ঢল নামানো হচ্ছে। অথচ বাস্তবতা হলো এর সম্পূর্ণ বিপরীত। আমি বলবো, কেবলমাত্র ইসলামই এমন এক দ্বীন বা জীবন ব্যবস্থা, যা নারী জাতিকে তাদের ন্যায্য অধিকার দিয়েছে। তাদেরকে সমাসীন করেছে সম্মান ও মর্যাদার সর্বোচ্চ আসনে। আর হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ই একমাত্র ব্যক্তিত্ব যিনি নারীদের সকল অধিকার আদায় করে দেয়ার ব্যবস্থা করেছেন। সমাজের বুকে নারীদের সম্মান ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত করে দেখিয়ে দিয়েছেন। যদি আমরা ইসলাম পূর্ব আইয়্যামে জাহেলিয়াত ও ইসলাম পরবর্তী সময়ের নারীদের অবস্থা ও অবস্থানের দিকে তাকাই তাহলে বিষয়টি দিবালোকের মতো সুস্পষ্ট হয়ে যাবে।

কন্যা সন্তান জন্মের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইসলাম:-
ইসলাম আসার পূর্বে সেই আইয়ামে জাহেলিয়াতে নারীদেরকে সামাজিক মর্যাদা দেয়া তো দূরের কথা তাদের বেঁচে থাকার অধিকার পর্যন্ত ছিলো না। কন্যা সন্তান জন্ম গ্রহণের কথা শ্রবণ করার সাথে সাথেই সকলের মুখ কালো হয়ে যেতো। তাকে জীবন্ত মাটিতে পুঁতে ফেলার জন্য সকলে আয়োজনে ব্যতি ব্যস্ত হয়ে উঠতো এবং এই কন্যা সন্তানকে মাটিতে জীবন্ত প্রোথিত করাকেই নিজেদের জন্য সম্মান, মর্যাদা ও পুন্যের কাজ বলে মনে করতো। জাহেলী যুগের সেই সময়কার ভয়াবহ এই অবস্থার কথা তুলে ধরে পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে,

মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে এরশাদ করেন:-

وَإِذَا بُشِّرَ أَحَدُهُمْ بِالأُنثَى ظَلَّ وَجْهُهُ مُسْوَدًّا وَهُوَ كَظِيمٌ يَتَوَارَى مِنَ الْقَوْمِ مِن سُوءِ مَا بُشِّرَ بِه أَيُمْسِكُهُ عَلَى هُونٍ أَمْ يَدُسُّهُ فِي التُّرَابِ أَلاَ سَاء مَا يَحْكُمُونَ

অর্থ: আর যখন তাদের কাউকে কন্যাসন্তান জন্মের সংবাদ দেয়া হতো তখন দুশ্চিন্তায় তার মুখ কালো হয়ে যেতো, আর বিষাদে আচ্ছন্ন হয়ে থাকতো। ঐ জঘন্য খবরের কারণে মানুষের কাছ থেকে সে মুখ লুকিয়ে ফিরতো। (আর দিশেহারা হয়ে ভাবতো যে কী করবে সে ?) লাঞ্ছনা সহ্য করে তাকে রেখে দেবে, না মাটিতে পুতে ফেলবে। কত মন্দ ছিলো তাদের এ মনোভাব!(সূরা নাহল : ৫৮)

এমন অনেক ঘটনাও আমরা পড়েছি যে কিভাবে নিষ্ঠুর ভাবে কন্যা সন্তানদের হত্যা করা হত । সেখানে নারীর জন্মগ্রহণই ছিলো অপরাধ, আর বেঁচে থাকা ছিলো আরো বড় অপরাধ। তাই অধিকাংশ সময় জন্মদাতা পিতা কন্যাসন্তানকে মায়ের বুক থেকে ছিনিয়ে নিতো এবং নিজের হাতে জ্যান্ত দাফন করে ফেলতো। অসহায় মায়ের বাধা দেয়ার কোন অধিকার ছিলো না। তাই কন্যাসন্তান জন্ম দেয়ার আশঙ্কায় মা ভুলে যেতো তার প্রসববেদনা। অস্থির পেরেশান হয়ে শুধু ভাবতো পিতার নিষ্ঠুরতা থেকে কীভাবে সে বাঁচাবে তার সন্তানকে ? কোথায় কীভাবে লুকাবে সে তার কলিজার টুকরোকে ?
কোরআনে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় এই প্রথার নিন্দা করে বলা হয়েছে:-

وَإِذَا الْمَوْءُودَةُ سُئِلَتْ. بِأَيِّ ذَنْبٍ قُتِلَتْ
অর্থ: আর যখন জ্যান্ত দাফনকৃত কন্যাকে জিজ্ঞাসা করা হবে যে, কোন অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছিলো (তখন কী জবাব দেবে তোমরা ?) (সূরা আত-তাকভীর : ৮ ও ৯)

          আবার, গ্রীক ও রোমান সমাজে নারীকে মনে করা হতো সকল অনিষ্টের মূল এবং সবচেয়ে নিকৃষ্ট প্রাণী। পরিবারে মা, বোন, স্ত্রী ও কন্যা কোন নারীর মর্যাদাই দাসীর চেয়ে বেশী ছিলো না। নারী ছিলো বাজারে বেচা-কেনার পণ্য। পরিবার-প্রধান যে কোন নারীকে বাজারে বিক্রি করতে পারতো। কারণ, আইনগত ভাবেই নারী ছিলো পরিবারের অস্থাবর সম্পত্তি।
বিবাহের ক্ষেত্রে নারীর নিজস্ব কোন ইচ্ছা বা অধিকার ছিলো না। পরিবারের প্রধান পুরুষ যে স্বামী নির্বাচন করতো তাকেই গ্রহণ করতে নারী বাধ্য ছিলো।
         প্রত্যেক ক্রিয়ার একটি প্রতিক্রিয়া থাকে, এটাই প্রকৃতির অমোঘ বিধান। সে হিসাবে গ্রীক ও রোমান উভয় সভ্যতারই শেষ দিকে বিপরীত প্রতিক্রিয়া দেখা দিলো। নারীসমাজ বাঁধভাঙ্গা জোয়ারের মত উশৃঙ্খল হয়ে উঠলো এবং সমাজের সর্বত্র নগ্নতা ও যৌননৈরাজ্য ছড়িয়ে পড়লো, যার অনিবার্য ফলরূপে গ্রীক ও রোমান সভ্যতা বিলুপ্ত হয়ে গেলো।

          ইহুদি ও খৃস্টধর্ম আল্লাহর প্রেরিত জীবন বিধান ছিল । কিন্তু মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) এর জন্মের অনেক পূর্বেই তারা ধর্ম থেকে দূরে সরে যায় । তারা নারীকে অভিশপ্ত মনে করে, কারণ তাদের ধারণায় আদমকে ভ্রষ্ট করার জন্য শয়তান হাওয়াকেই অস্ত্ররূপে ব্যবহার করেছিলো। তাদের উভয়ের বিশ্বাস ছিলো যে, স্ত্রীলোক স্বর্গরাজ্যে প্রবেশ করতে পারবে না, কারণ তার মধ্যে মানবাত্মা নেই। এই বিশ্বাসের ভিত্তিতেই ৫৮৬ খৃস্টাব্দে ফ্রান্সে এক ধর্মসম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিলো যে, স্ত্রীলোককে মানুষ বলা তো যায়, তবে তাকে শুধু পুরুষের সেবার জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে।

  খৃস্টধর্মের প্রভাবে নারীর প্রতি পাশ্চাত্যজগতের আচরণ ছিলো চরম অবমাননামূলক, যা মধ্যযুগ পর্যন্ত অব্যাহত ছিলো। এমনকি, ১৮০৫ সাল পর্যন্ত বৃটিশ আইনে স্বামীর অধিকার ছিলো স্ত্রীকে বিক্রি করার। অন্যদিকে ফরাসী বিপ্লবের পরও নারীর অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা করার কথা সেখানকার চিন্তানায়কদের মাথায় আসেনি। ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত ফরাসী নাগরিক আইনে অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া নারীর অধিকার ছিলো না কোন বিষয়ে কোন পক্ষের সঙ্গে চুক্তিতে আবদ্ধ হওয়ার।
হিন্দুসমাজে নারীর অবস্থা ছিলো সবচে’ করুণ। এ প্রসঙ্গে শুধু সতীদাহ-প্রথার কথা উল্লেখ করাই যথেষ্ট, যা এই মাত্র সেদিন সংস্কারবাদী নেতা রাজা রামমোহন রায় ব্যাপক আন্দোলনের মাধ্যমে বাতিল করিয়েছেন।
বৌদ্ধধর্মে কন্যা সন্তান জন্ম লাভ করাকে অলক্ষণীয় বলে মনে করা হয়। নারীর কোনো অধিকার আছে বলে স্বীকৃতি দেয় না।

এভাবে ইসলাম ছাড়া অন্য সকল ধর্মেই নারী জাতিকে পাপিষ্ট, অলুক্ষুণে, অপয়া ও ক্ষতিকর বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদেরকে কোনো অধিকার দেয়া তো দূরের কথা, তাদেরকে মানুষ বলেই স্বীকার করা হয়নি। তারা নারীদেরকে কেবলমাত্র ভোগের পণ্য হিসেবেই গণনা করতো। -এমনিভাবে সর্বত্রই যখন নারী জাতির এমন লাঞ্চনা-গঞ্জনা আর অসম্মান ঠিক সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তে ইসলাম এসে তৎকালীন সেই বর্বর যুগের অমানুষিক জুলুম থেকে নারীকে মুক্ত করেছে। ইসলামই একমাত্র দীন -যা নারী জাতিকে ফিরিয়ে দিয়েছে তাদের যথাযথ অধিকার। তো এই ছিলো ইসলামের পূর্বে বিশ্বের বিভিন্ন ধর্ম, সমাজ ও সভ্যতায় নারীদের অবস্থা ও মর্যাদাগত অবস্থান। এককথায় যদি বলি তাহলে বলতে হয়, মানুষ হিসাবে নারীর কোন মর্যাদাই ছিলো না। চরম লাঞ্ছনা ও যিল্লতি ছাড়া তার ভাগ্যে আর কিছুই ছিলো না। নারিরা ছিল ব্যবসার উপকরণ।

কন্যা সন্তানের ভরন পোষন দেয়ার অধিকার,সমতা ও মর্যাদা রক্ষায় ইসলাম:-
          সন্তান ছেলে হবে না মেয়ে হবে এটি নির্ধারণ করেন স্বয়ং মহান আল্লাহ। তিনি যাকে চান তাকেই নির্দিষ্ট লিঙ্গের সন্তান দান করেন। কাউকে আবার নি:সন্তান করে রাখেন। সুতরাং নি:সন্তানদের তুলনায় কন্যা সন্তানের অভিভাবকগণ যে কতো অকল্পনীয় মর্যাদার অধিকারী এবং কন্যা সন্তানও যে সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তান হতে পারে সে সম্পর্কে ইরশাদ হয়েছে,

لِلَّهِ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ يَخْلُقُ مَا يَشَاءُ يَهَبُ لِمَنْ يَشَاءُ إِنَاثًا وَيَهَبُ لِمَنْ يَشَاءُ الذُّكُورَ. أَوْ يُزَوِّجُهُمْ ذُكْرَانًا وَإِنَاثًا وَيَجْعَلُ مَنْ يَشَاءُ عَقِيمًا إِنَّهُ عَلِيمٌ قَدِيرٌ
অর্থঃ-“আসমানসমূহ ও যমীনের রাজত্ব আল্লাহরই। তিনি যা চান সৃষ্টি করেন। তিনি যাকে ইচ্ছা কন্যা সন্তান দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দান করেন। অথবা তাদেরকে পুত্র ও কন্যা উভয়ই দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করেন। তিনি তো সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান।” (সুরা শু’রা: আয়াত ৪৯, ৫০)  

     কুরআনের পাশাপাশি হাদীসের মাঝেও মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কন্যা সন্তানদেরকে খুবই সম্মান ও মর্যাদার উপলক্ষ্য হিসেবে ঘোষণা করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, “ইবনে আব্বাস রা. হতে বর্ণিত; তিনি বলেন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন;

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ مَنْ كَانَتْ لَهُ أُنْثَى فَلَمْ يَئِدْهَا وَلَمْ يُهِنْهَا وَلَمْ يُؤْثِرْ وَلَدَهُ عَلَيْهَا – قَالَ يَعْنِي الذُّكُورَ – أَدْخَلَهُ اللَّهُ الْجَنَّةَ ‏”‏
অর্থঃ-ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ: তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তির ঘরে কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করলে সে যদি তাকে জীবন্ত কবর না দেয় এবং তাকে অবজ্ঞা না করে এবং তার পুত্র সন্তানকে তার উপর প্রাধান্য না দেয় তাহলে আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। ( সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৫১৪৬)

আরো ইরশাদ হয়েছে:-
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ مَنْ عَالَ جَارِيَتَيْنِ حَتَّى تَبْلُغَا جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَنَا وَهُوَ ‏”‏ ‏.‏ وَضَمَّ أَصَابِعَهُ ‏.‏
অর্থঃ-আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ: তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দুটি মেয়ে সন্তানকে সাবালক হওয়া পর্যন্ত প্রতিপালন করে, কিয়ামাতের দিনে সে ও আমি এমন পাশাপাশি অবস্থায় থাকব, এ বলে তিনি তার হাতের আঙ্গুলগুলো মিলিয়ে দিলেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৬৫৮৯)

অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে,রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন;-
عُقْبَةَ بْنَ عَامِرٍ، يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ ‏ “‏ مَنْ كَانَ لَهُ ثَلاَثُ بَنَاتٍ فَصَبَرَ عَلَيْهِنَّ وَأَطْعَمَهُنَّ وَسَقَاهُنَّ وَكَسَاهُنَّ مِنْ جِدَتِهِ – كُنَّ لَهُ حِجَابًا مِنَ النَّارِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ‏”‏ ‏.‏
অর্থঃ-উকবাহ বিন আমির (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ: তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম  কে বলতে শুনেছি : কারো তিনটি কন্যা সন্তান থাকলে এবং সে তাদের ব্যাপারে ধৈর্য ধারণ করলে, যথাসাধ্য তাদের পানাহার করালে ও পোশাক-আশাক দিলে, তারা কিয়ামতের দিন তার জন্য জাহান্নাম থেকে অন্তরায় হবে। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ৩৬৬৯)
আরো ইরশাদ হয়েছে,রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:-

عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ مَنْ عَالَ ثَلاَثَ بَنَاتٍ فَأَدَّبَهُنَّ وَزَوَّجَهُنَّ وَأَحْسَنَ إِلَيْهِنَّ فَلَهُ الْجَنَّةُ 

অর্থঃ-আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ: তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তিনটি কন্যা সন্তানকে লালন-পালন করলো, তাদেরকে আদব শিক্ষা দিলো, বিয়ে দিলো এবং তাদের সাথে সুন্দর ব্যবহার করলো, তার জন্য জান্নাত রয়েছে।(সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৫১৪৭)

আরো ইরশাদ হয়েছে,  রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন;  خير اولادكم البنات –  অর্থ:-কন্যা সন্তানগণই তোমাদের উত্তম সন্তান।(বিহারুল আনওয়ার খন্ড-১০১,পৃষ্ঠা:-৯১)

মেয়ে হোক ছেলে হোক সন্তানের ভরন পোষন না দেয়া গুনাহঃ- 
মহানবীর(সাঃ)হাদীসে  ইরশাদ হয়েছে-
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ كَفَى بِالْمَرْءِ إِثْمًا أَنْ يَحْبِسَ عَمَّنْ يَمْلِكُ قُوتَهُ ‏”‏ 
অর্থঃ- রসূলুলাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম  বলেছেনঃ যাদের ভরণ-পোষণ করা, ব্যায়ভার বহন করা কর্তব্য তা না করে আটকে রাখাই কোন ব্যক্তির গুনাহগার হওয়ার জন্য যথেষ্ট।(সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২২০২ হাদিসের মান: সহিহ)

আরো ইরশাদ হয়েছে,  রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন; 
، عَنْ ثَوْبَانَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ أَفْضَلُ دِينَارٍ يُنْفِقُهُ الرَّجُلُ دِينَارٌ يُنْفِقُهُ عَلَى عِيَالِهِ وَدِينَارٌ يُنْفِقُهُ الرَّجُلُ عَلَى دَابَّتِهِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَدِينَارٌ يُنْفِقُهُ عَلَى أَصْحَابِهِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو قِلاَبَةَ وَبَدَأَ بِالْعِيَالِ ثُمَّ قَالَ أَبُو قِلاَبَةَ وَأَىُّ رَجُلٍ أَعْظَمُ أَجْرًا مِنْ رَجُلٍ يُنْفِقُ عَلَى عِيَالٍ صِغَارٍ يُعِفُّهُمْ أَوْ يَنْفَعُهُمُ اللَّهُ بِهِ وَيُغْنِيهِمْ ‏

অর্থঃ-সাওবান (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ: তিনি বলেন, রসূলুলাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কোন ব্যাক্তি যে সব দীনার (বা স্বর্ণমুদ্রা) ব্যয় করে থাকে এর মধ্যে ঐ দীনারটি উত্তম যা সে তার পরিবার-পরিজনের উদ্দেশে খরচ করে। অনুরূপ ভাবে আল্লাহর পথে (অর্থাৎ জিহাদের উদ্দেশ্যে) তার আরোহনের জন্তুর জন্য সে যে দীনার ব্যয় করে তা উত্তম এবং আল্লাহর পথে তার সঙ্গী সাথীদের জন্য যে দীনার ব্যয় করে তা উত্তম। আবূ ক্বীলাবাহ্‌ বলেন, তিনি পরিবারের লোকজন দিয়ে শুরু করেছেন। অতঃপর আবূ ক্বিলাবাহ (রাঃ) আরো বলেন, ওই ব্যক্তির চেয়ে আর কে বেশী সাওয়াবের অধিকারী যে তার ছোট ছোট সন্তানদের জন্য খরচ করে এবং আল্লাহ তা’য়ালা এর বিনিময়ে তাদেরকে পবিত্র রাখেন, উপকৃত করেন এবং অভাব মুক্ত রাখেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২২০০ হাদিসের মান: সহিহ)

        ছেলে সন্তানের ন্যায় মেয়ে সন্তানের ভরণ-পোষন দেয়াও অভিভাবকের উপর সমানভাবে আবশ্যক। ইরশাদ হয়েছে,  রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন; 
النُّعْمَانَ بْنَ بَشِيرٍ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ اعْدِلُوا بَيْنَ أَوْلاَدِكُمْ اعْدِلُوا بَيْنَ أَبْنَائِكُمْ ‏”‏ ‏.‏
অর্থ:-নু‘মান ইবনু বশীর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ: তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ  সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের সন্তানদের সাথে সমান আচরণ করো; তোমাদের সন্তানদের সাথে ইনসাফ করো। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৩৫৪৪)

নাইলুল আওতার কিতাবে আল্লামা শাওকানী বলেন:- فالحق ان التسوية واجبة وان التفضيل محرم – অর্থ:-বাস্তব বিধান হলো ছেলেসন্তান ও মেয়েসন্তানের মধ্যে সমতা  বিধান করা ওয়াজিব, কোন এক পক্ষকে প্রাধান্যদেয়া হারাম।

কন্যা সন্তানকে পাত্রস্ত করার হুকুম:-
আলোচ্য হাদীসখানা থেকে বুঝাযায় কন্যা সন্তানরে বিবাহ সম্পাদন করা অভিভাবকের দায়িত্ব।  কুরআন কারীমের সূরা নূরে আল্লাহ তা’য়ালা বলেন:-وَأَنكِحُوا الأَيَامَى مِنكُمْ অর্থ: তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহহীন,তাদের বিবাহ সম্পাদন করে দাও। (সূরা নূর-৩২)

তবে এখানে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে।(ক) কন্যা প্রাপ্তবয়স্কা হলে বিবাহে তার অনুমতি লাগবে। যেমন রাসূলুল্লাহ সা.বলেন:-
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ “‏ الأَيِّمُ أَحَقُّ بِنَفْسِهَا مِنْ وَلِيِّهَا وَالْبِكْرُ تُسْتَأْذَنُ فِي نَفْسِهَا وَإِذْنُهَا صُمَاتُهَا ‏.
অর্থঃ-ইবনু ‘আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিতঃ: নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ পূর্ব বিবাহিতা তার (নিজের বিবাহের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে) নিজের ব্যাপারে অভিভাবকের তুলনায় অধিক হাক্বদার। কুমারীকে তার থেকে তার ব্যাপারে সম্মতি নিতে হবে, তার নীরবতাই তার সম্মতি।(সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৩৩৬৭)

(খ)পাত্রনির্বাচনে উত্তমতার প্রতি লক্ষলরখা যেমন রাসূলুল্লাহ সা.বলেন:- لاتزوجوا بناتكم من الرجل الد ميم فانه يعجبهن مايعجبهم منهن     অর্থ: তোমরা তোদের কন্যাদেরকে কুৎসিৎ অপ্রীতিকর পুরুষের নিকট বিবাহ দিওনা, কেননা নারীর যেসব অংশ পুরুষের জন্য আকর্ষনীয় পুরুষের সেসব অংশেই নারীর জন্য আকর্ষনীয়।(ফিকহুসসুন্নাহ ২য় খন্ড পৃঃ-২৫)

বিধবা কন্যার অধিকার;-
বিধবা কন্যার অধিকার রক্ষায়ও ইসলাম অগ্রগামী:- সর্বোত্তম।(সুনানে ইবনে মাজাহতে আছে-
عَنْ سُرَاقَةَ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ “‏ أَلاَ أَدُلُّكُمْ عَلَى أَفْضَلِ الصَّدَقَةِ ابْنَتُكَ مَرْدُودَةً إِلَيْكَ لَيْسَ لَهَا كَاسِبٌ غَيْرُكَ ‏
অর্থঃ-সুরাকাহ বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ: নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ আমি কি তোমাদেরকে সর্বোত্তম দান-খয়রাতের পথ নির্দেশ করবো না? তোমার যে কন্যা তোমার নিকট ফিরে এসেছে এবং তুমি ছাড়া তার আর কোন উপার্জনকারী নেই, তার জন্য কৃত দান-খয়রাত সর্বোত্তম।(সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ৩৬৬৭)

সহিহ বুখারীতে আছে-
عَنْ صَفْوَانَ بْنِ سُلَيْمٍ، يَرْفَعُهُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ “‏ السَّاعِي عَلَى الأَرْمَلَةِ وَالْمِسْكِينِ كَالْمُجَاهِدِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، أَوْ كَالَّذِي يَصُومُ النَّهَارَ وَيَقُومُ اللَّيْلَ ‏‏‏
অর্থঃ-সফওয়ান ইবনু সুলায়ম (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ: তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে মারফূ’রুপে বর্ণনা করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক বিধবা ও মিস্‌কীনদের ভরণ-পোষণের ব্যাপারে চেষ্টা করে, সে আল্লাহ্‌র পথে জিহাদকারীর মত। অথবা সে ঐ ব্যক্তির মত, যে দিনে সিয়াম পালন করে ও রাতে (‘ইবাদাতে) দন্ডায়মান থাকে। (সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৬০০৬)

কন্যা সন্তানের খোর-পোষ ,অর্জিত সম্পদ ও উত্তরাধীকারের বিধান:-

নারী জীবনের প্রত্যেক পর্যায় সম্পর্কে উপরে বর্ণিত সুন্দর ও সুনিপুন ব্যবস্থাপনা দিয়ে ইসলাম নারী জাতির পুরো জীবনটিকেই একেবারে সহজ, সুন্দর, নিরাপদ ও নির্ভাবনার করে দিয়েছে। কন্যা সন্তানের জন্য বিবাহের আগ পর্যন্ত যাবতীয় ব্যবস্থাপনা ইসলাম তার পিতার উপর ন্যস্ত করেছে।(পিতার অবর্তমানে আসাবা বা আভিভাবক তথা ভাই,দাদা,চাচা,চাচাত ভাই……..শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্র) বিবাহের মাধ্যমে তার দায়িত্ব অর্পন করেছে স্বামীর উপর। এরপর মাতা হিসেবে তার দায়িত্ব দিয়েছে সন্তানের উপর।
           এমন সুন্দর ব্যবস্থা কারো ক্ষেত্রে কোনো পর্যায়ে বিঘ্নিত হলে সেজন্য আগে থেকেই রিজার্ভ ফান্ডেরও ব্যবস্থা রেখেছে স্বামীর কাছ থেকে প্রাপ্য মোহরানা স্বামীদের উপর নিজ স্ত্রীদের জন্য মহরানা প্রদান বাধ্যতামূলক করে ঘোষণা করেছে।

        ইসলাম নারীর আর্থিক স্বাবলম্বীতা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ প্রয়োজনে শরীয়তের সীমা ঠিক রেখে নারীকে কর্মস্থলে যাওয়ারও অনুমতি দিয়েছে। ইসলাম নারীর নিজের প্রয়োজন পূরণের দায়িত্ব পিতা, স্বামী, সন্তানের উপর ন্যস্ত করলেও; নারীর নিজের আয়, নিজের সম্পত্তি কোনো ব্যবসায় বিনিয়োগ করে সেখান থেকে অর্জিত মুনাফা ইত্যাদির উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও স্বাধীনতা দিয়েছে নারীর হাতে এবং নিজের উপার্জিত যাবতীয় সম্পদ স্বাধীনভাবে ব্যবহারের অধিকার দিয়েছে।
لِلرِّجَالِ نَصِيبٌ مِمَّا اكْتَسَبُوا وَلِلنِّسَاءِ نَصِيبٌ مِمَّا اكْتَسَبْنَআল্লাহ তা’‘আলা আরও বলেন;- অথ‘     অর্থঃ-পুরুষদের জন্য রয়েছে অংশ, তারা যা উপার্জন করে তা থেকে এবং নারীদের জন্য রয়েছে অংশ, যা তারা উপার্জন করে তা থেকে। এক্ষেত্রে জোর করে অন্য কারো জন্য সম্পদ গ্রাস করাকেও হারাম করেছে।
          পিতা-মাতা,ভাই-বোন, স্বামী-সন্তান,দাদা-চাচা ইত্যাদি আত্মীয়-স্বজনের  নিকট থেকে উত্তরাধীকারের ভিত্তিতে প্রায় ছেলেদের মতই মেয়েরাও সম্পদ পেয়ে থাকে।
আল্লাহ তা’‘আলা আরও বলেন:-
لِّلرِّجَالِ نَصِيبٌ مِّمَّا تَرَكَ الْوَالِدَانِ وَالأَقْرَبُونَ وَلِلنِّسَاء نَصِيبٌ مِّمَّا تَرَكَ الْوَالِدَانِ وَالأَقْرَبُونَ مِمَّا قَلَّ مِنْهُ أَوْ كَثُرَ نَصِيبًا مَّفْرُوضًا 
অর্থ:-পিতা-মাতা আত্মীয়-স্বজনের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে পুরুষদেরও অংশ আছে এবং পিতা-মাতা আত্মীয়-স্বজনের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে নারীদেরও অংশ আছে,অল্প হোক কিংবা বেশী এ অংশ নির্ধারিত।(সূরা নিসা-৭)

তবে দু’একটি ক্ষেত্রে পুরুষের অংশ নারীর দ্বিগুণ। যেমন আল্লাহ তা’‘আলা আরও বলেন:- يُوصِيكُمُ اللَّهُ فِي أَوْلادِكُمْ لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الأُنثَيَيْنِ অর্থ:-আল্লাহ তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে আদেশ করেন যে,একজন পুরুষের অংশ দু’জন নারীর সমান। (সূরা নিসা-১১)     

ইসলামের এই বিধানটি নিয়ে যত হৈচৈ, অথচ তারা দেখেনা যে,পিতা-ভাই, স্বামী-সন্তান,দাদা-চাচা হিসেবে প্রতিটি পুরুষই স্ত্রীর মহর সহ তার অধিনস্ত সকল নরীর (কন্যা,বোন,স্ত্রী,মাতা,দাদী-নানী হওয়ার কারণে)ভরন-পোষন সমেত যাবতীয় বিষয়ে দায়িত্ববান। অপর পক্ষে কোন স্ত্রীলোকই এ সমস্ত ক্ষেত্রে দায়িত্ববান নহে। যদিও অধুনিক সমাজ ব্যাবস্থা নারীর কাধে এসমস্ত দায়িত্ব চাপিয়ে দিচ্চে আর নারীগণ নাবুঝে দায়িত্ব নিচ্চে।  এমনকি ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ধর্মেই নারীর উত্তরাধীকারের কোন বিধান নেই।

আল্লাহ আমাদেরকে কন্যা সন্তানের যথাযথ অধিকার প্রদানের শক্তি দিন। আমিন।!

সংগ্রহ ও সংকলনেঃ
মোহাম্মদ আবদুল আজিজ মজুমদার
অধ্যক্ষ,
হায়দরগঞ্জ তাহেরিয়া আর.এম.কামিল(এম.এ) মাদ্রাসা

  •  
    187
    Shares
  • 187
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here